কুবির আইসিটি বিভাগের গড় সিজিপিএ ৩.৯৪, তলানিতে ‘অর্থনীতি’

২৭ জুন ২০২৬, ১০:০৬ PM
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের সিজিপিএ বিশ্লেষণে বিভাগভিত্তিক গড় ফলাফলে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগ। বিভাগটির শিক্ষার্থীদের গড় সিজিপিএ ৩.৯৪। অন্যদিকে সর্বনিম্ন গড় সিজিপিএ নিয়ে তালিকার শেষদিকে রয়েছে অর্থনীতি বিভাগ। যেখানে শিক্ষার্থীদের গড় সিজিপিএ ২.৫৩। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক বছরগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩ সাল থেকে বর্তমানে ২০২৬ জুন পর্যন্ত স্নাতক সম্পন্ন করেছেন ২ হাজার ৮’শর অধিক শিক্ষার্থী। বিভিন্ন অনুষদের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর সিজিপিএ ৩-এর উপরে। বিজ্ঞান অনুষদের ৮০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীর সিজিপিএ ৩ দশমিক ০০ থেকে ৩ দশমিক ৬০-এর মধ্যে। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর সিজিপিএ ৩ দশমিক ১০ থেকে ৩ দশমিক ৫০, কলা অনুষদে ৩ থেকে ৩ দশমিক ৩০, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ৩ থেকে ৩ দশমিক ৫০, প্রকৌশল অনুষদে ৩ থেকে ৩ দশমিক ৬০ এবং আইন অনুষদে ৩ থেকে ৩ দশমিক ৪০-এর মধ্যে রয়েছে।

বিভাগভিত্তিক গড় সিজিপিএ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের গড় সিজিপিএ সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৯৪। অন্যদিকে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের গড় সিজিপিএ সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৫৩। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোর মধ্যে ফলাফলের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়েছে।

অনুষদভিত্তিক গড় ফলাফলের চিত্রেও প্রকৌশল অনুষদ এগিয়ে রয়েছে। এ অনুষদের অন্তর্ভুক্ত আইসিটি বিভাগের উচ্চ গড় সিজিপিএ অনুষদটির সামগ্রিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। বিপরীতে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের গড় সিজিপিএ তুলনামূলকভাবে কম, যেখানে অর্থনীতি বিভাগের গড় সিজিপিএ সর্বনিম্ন হওয়ায় অনুষদটির সামগ্রিক ফলাফলেও এর প্রভাব পড়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, অধিকাংশ শিক্ষার্থী ৩-এর বেশি সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করলেও বিভাগভেদে ফলাফলের পার্থক্য স্পষ্ট। বিশেষ করে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে উচ্চ সিজিপিএ অর্জন করেছে। অন্যদিকে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের গড় ফলাফল তুলনামূলকভাবে কম থাকায় বিভাগটি তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভাগ ভেদে পাঠ্যক্রম, মূল্যায়ন পদ্ধতি, পরীক্ষার ধরন এবং শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক পারফরম্যান্সের ভিন্নতার কারণে ফলাফলে এ ধরনের পার্থক্য দেখা যেতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ৩-এর বেশি সিজিপিএ অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক সক্ষমতার ইতিবাচক দিক তুলে ধরেছে।

এ বিষয়ে আইসিটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের বিভাগে ৪ এর মধ্যে ৪ পাওয়া সম্ভব, কেউ যদি চেষ্টা করে। মাস্টার্সেরটা আমি বলতে পারব না। তবে অনার্সে ৩.৯৪ বা ৯৫, ৯৬ পায়। কারণ আমাদের এখানে ল্যাব বেসড এবং ম্যাথম্যাটিক্যাল বিষয়। কেউ যদি মাথম্যথিকস ঠিক মতো করে তাহলে ১০ এর মধ্যে ১০ মার্ক পায়।

অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের সিজিপিএ সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব পারফরম্যান্স ও অর্জনের ওপর নির্ভরশীল। বিভাগে ৪.০০ সিজিপিএ অর্জনকারী যেমন রয়েছে, তেমনি প্রায় প্রতিটি ব্যাচেই ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী ৩.৫০-এর বেশি সিজিপিএ অর্জন করে। তিনি বলেন, ফলাফল খারাপ হওয়ার জন্য বিষয়টিকে অতিরিক্ত কঠিন বলা ঠিক হবে না; বরং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও অধ্যবসায়ই এখানে মূল ভূমিকা রাখে। তবে গণিত, পরিসংখ্যান ও ইকোনোমেট্রিকসভিত্তিক কোর্সের কারণে কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে ভীতি কাজ করে।

এদিকে সমাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক সম্পন্ন করা সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী।

জানা যায়, ২০২০ সালের ২৭ জানুয়ারি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম থেকে ৭ম ব্যাচ পর্যন্ত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দ্বিতীয় সমাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর সমাবর্তন অনুষ্ঠানের প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই সমাবর্তনে ২০১৪–১৫ থেকে ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখার পরিকল্পনা ছিল। তবে অনির্দিষ্ট কারণে নির্ধারিত সময়ে সমাবর্তনটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (অনার্স) সম্পন্ন করেছেন মোট ৫ হাজার ৫৮০ জন শিক্ষার্থী।

সমাবর্তন স্থগিত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, আমরা যাকে সমাবর্তনের অতিথি হিসেবে আনতে চেয়েছিলাম, শিক্ষার্থীরা তাকে নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। তারা প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানানোর দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু আমরা প্রধান উপদেষ্টার সময়সূচি নিশ্চিত করতে পারিনি। তাই স্যার (সাবেক উপাচার্য) আপাতত সমাবর্তন স্থগিত করেছিলেন।

দ্বিতীয় সমাবর্তন কবে অনুষ্ঠিত হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনই সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ বলতে পারছি না। নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

যদি পার আমার পাওনা আদায় করে তোমার বউদির হাতে দিও— চিরকুটে য…
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাওনা টাকা চাওয়ায় বন্ধুকে হত্যা করে মাটিচাপা
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 মেঘমল্লার বসুর জ্ঞান ফিরেছে
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিতিতে অধ্যক্ষের স্থায়ী বহিষ্কারের…
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কলাপাতার থালায় খাবার বিতরণ, ধনী গরীব সবাই খেলেন একপাত্রে
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডাকসুর উদ্যোগে ৩টি স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9