মো. আসাদুজ্জামান ও শাহানুর রহমান © টিডিসি সম্পাদিত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে বড় পর্দায় ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬-এর খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আসাদুজ্জামানকে সাময়িক বহিষ্কার এবং দর্শন বিভাগের একই ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহানুর রহমানের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার (সাধারণ প্রশাসন) মো. মাহতাব-উজ-জাহিদ স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, গত ২২ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬-এর আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার খেলা দেখার সময় সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রণীত শৃঙ্খলাসংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৪(১) (খ) ধারা অনুযায়ী মো. আসাদুজ্জামানকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারকালীন সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারবেন না।
অন্যদিকে, শাহানুর রহমানের ক্ষেত্রে তদন্ত চলাকালে নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং হলে ও ক্যাম্পাসে অবস্থানের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এদিকে একই ঘটনায় তদন্তপূর্বক সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলমকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ শরিফুল হুদা, শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, মওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান এবং সদস্য-সচিব হিসেবে ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা। কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুন রাতে সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপ ম্যাচ প্রদর্শনের সময় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাঈম আহমদ সানি মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।