হুমায়ূন আহমেদকে মনে করে মঞ্চে আবেগপ্রবণ অভিনেতা এজাজ

০১ মে ২০২৬, ১০:৪৫ PM , আপডেট: ০১ মে ২০২৬, ১০:৪৬ PM
অভিনেতা এজাজ

অভিনেতা এজাজ © টিডিসি ফটো

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্মরণে আয়োজিত 'হুমায়ূন মেলা-১৪৩৩' এ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত অভিনেতা ডাঃ এজাজুল ইসলাম।

মেলায় অংশ নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের জীবনদর্শন ও তাঁর সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

ডাঃ এজাজুল ইসলাম বলেন, 'নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের হুমায়ূন মেলায় এসে আমার ভীষণ ভালো লাগছে। আনন্দ তো হচ্ছেই, কিন্তু মাঝে মাঝে কান্নাও পাচ্ছে। যখন হুমায়ূন আহমেদ স্যারের গান হচ্ছে, তাঁর গানের সঙ্গে নাচ হচ্ছে, তখন আমার মনে পড়ে যায় সেই আগের দিনের আসল নাচগুলোর কথা, সেই স্মৃতিগুলো। আজকের এই পরিবেশনাও অসাধারণ, যে মেয়েরা নাচলো, যে ছেলেরা অভিনয় করলো, আমি মুগ্ধ হয়ে দেখেছি। এরা যে কতটা ভালোবাসে স্যারকে, সেটা স্পষ্ট।'
 
তিনি আরও বলেন, 'স্যারকে হারানোর কথা মনে হলেই আমার কান্না পায়। কিন্তু আজ এখানে এসে মনে হচ্ছে আমি যেন স্যারকে বারবার ফিরে পাচ্ছি। তাঁর গান হচ্ছে, নাটক হচ্ছে—সব মিলিয়ে আমি যেন ১৫-২০ বছর আগের স্মৃতিতে ফিরে গেছি। এই কান্না একদিকে সুখের, আবার অন্যদিকে দুঃখেরও। আমরা অনেকদিন এমন নাচ-গান থেকে দূরে ছিলাম, এখন সবকিছু সরাসরি দেখে মনে হচ্ছে সেই সময়েই আছি।'
 
হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, 'জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের এই আয়োজন আমাকে সত্যিই আবেগাপ্লুত করেছে। স্যার আমাদের ছেড়ে গেছেন ১৪ বছর আগে। এতোদিন পর এমন একটি সুন্দর আয়োজন দেখে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। যারা এই মেলার আয়োজন করেছেন, তাদের প্রতি আমার অনেক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।'

শেষে তিনি বলেন, 'আমি মনে করি, বাংলা সাহিত্যের এই প্রবাদপ্রতিম মানুষকে নিয়ে এমন মেলা দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলে হওয়া উচিত। তিনি বাংলা সাহিত্যকে অনেক কিছু দিয়ে গেছেন, তাকে স্মরণ করা, সম্মান করা আমাদের সবার দায়িত্ব। এমন আয়োজন বারবার আমাদের তাঁর কথা মনে করিয়ে দেবে।'

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের আয়োজনে নতুন কলা ভবনের সামনে মেলাটির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সঙ্গীত ও নৃত্যের মাধ্যমে হুমায়ূন মেলার উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত অভিনেতা অধ্যাপক রহমত আলী এবং প্রখ্যাত অভিনেত্রী ওয়াহিদা মল্লিক জলি। সকাল থেকে শুরু হয়ে মেলা চলে রাত পর্যন্ত।

মেলায় ছিলো হুমায়ূন আহমেদের নানান সৃষ্টিকর্ম থেকে নাটক, গান, লোকসংগীত, নৃত্য পরিবেশনা, কবিতা আবৃত্তি, কুইজ প্রতিযোগিতা, হুমায়ূন সাহিত্য আড্ডা, নাগরদোলা, পুতুলনাচ ও হাঁস ধরা প্রতিযোগিতা। মেলা উপলক্ষে বসেছিল বিভিন্ন খাবারের দোকান, হস্তশিল্প ও অলংকারের দোকান এবং হুমায়ুন আহমেদের লেখা বিভিন্ন বইয়ের দোকান।

মূলত নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের 'ইভেন্ট অ্যান্ড প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট (ব্যবহারিক)' কোর্সের অংশ হিসেবে মেলাটি আয়োজন করা হয়।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেন ভোট দেননি, ৩ কারণ বললেন রুমিন ফারহ…
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
হাসপাতাল-স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ১৩-২০তম গ্রেডের শূন্যপদে দ্র…
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
ক্ষমা চেয়ে পোস্ট দেওয়ার পর সরিয়ে নিলেন গাজী নজরুল
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি যে ছয় এমপি
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে: জাতীয় …
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
১৬ মাসেও হলো না দুর্নীতি-নির্যাতনের বিরুদ্ধে গঠিত সত্যানুসন…
  • ২০ আগস্ট ২০২৬