বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
অনশনে অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন © টিডিসি ফটো
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন ও সংকটময় মুহূর্ত পার করছে। ৫-ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যখন স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, তখন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এই অচলাবস্থা নিরসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায্যতা নিশ্চিত করার দাবিতে আমরণ অনশনের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন। একজন সিনিয়র শিক্ষকের এভাবে অনশনে বসা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে গভীর উৎকণ্ঠা ও লজ্জার জন্ম দিয়েছে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ মাত্র ৩ থেকে ৪ জন শিক্ষক নিয়ে কোনোমতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর। প্রায় দুই বছর আগে ৪০ জনের বেশি শিক্ষকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও তা সম্পন্ন করতে বর্তমান প্রশাসনের ব্যর্থতা ও দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সাধারণ শিক্ষকদের অভিযোগ, আন্দোলনের মুখে সাবেক উপাচার্য বিদায় নেওয়ার পর বর্তমান উপাচার্য সমস্যা সমাধানে আন্তরিক হবেন বলে মনে করা হলেও, বাস্তবে তিনি সমস্যা আরও বাড়িয়েছেন। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে বারবার অসত্য আশ্বাস প্রদান এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার বিষয়টি এখন প্রকাশ্যে এসেছে।
জামাল উদ্দিন স্যারের এই ত্যাগ ও সংগ্রামকে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ মনে করছেন, পদের মোহে পড়ে মানুষের হক নষ্ট করার এই সংস্কৃতি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষককে ন্যায্যতার দাবিতে নিজের জীবন বিপন্ন করে অনশনে বসতে হয়, সেখানে প্রশাসনিক নৈতিকতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট উত্তরণে প্রশাসনের কোনো কার্যকর ভূমিকা না থাকায় সকল পক্ষই এখন চরম ক্ষতিগ্রস্ত।