জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মিষ্টি খাওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটিতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাওলানা ভাসানী হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের একপর্যায়ে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত ৬০ থেকে ৭০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হামলায় অংশ নেয়া কালো টি-শার্ট পরিহিত শিক্ষার্থী আবির। তিনি ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৪৩ ব্যাচের এবং মাওলানা ভাসানী হলের আবাসিক ছাত্র। আবির হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক পদে রয়েছেন। রড হাতে (মাথা টাক) রাকিবও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থী। তিনি ফিনান্স বিভাগে ৪৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী। হল শাখার ছাত্রলীগ-কর্মী। এছাড়া রামদা হাতে লাল টি-শার্ট পরিহিত হলেন সবুজ রয়। তিনি ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং রসায়ন বিভাগে পড়েন।
বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে দুই আবাসিক হলের সংযোগস্থল বটতলা মোড়ে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের বেশির ভাগ বাইরের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিষ্টি খাওয়া নিয়ে বটতলা মোড়ে দুই আবাসিক হল শাখা ছাত্রলীগের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর দুই হলের নেতাকর্মীরা বটতলায় জড়ো হলে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে দুই হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা পিস্তল, রামদা, রড, হকিস্টিক নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নামে। শুরু হয় ইট-পাটকেল ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীরা গুলি বর্ষণ করতে শুরু করে। প্রায় ১০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করার শব্দ পাওয়া যায়।

আর ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের হাতে চাপাতি নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। এ ঘটনায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ জনকে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া বাকিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে মারামারির এক পর্যায়ে ভিডিও করার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত এক সাংবাদিককে মারতে থাকে ভাসানী হলের ৪৪তম আবর্তনের সিয়াম। পরে উপস্থিত সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধার করে। আহত ওই সাংবাদিক হলেন জোবায়ের কামাল। তিনি ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ৪৫ ব্যাচের।
এ ঘটনায় প্রক্টরিয়াল টিমকে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। ঘটনার পর পরই প্রক্টরিয়াল টিমের তিন জন সদস্য উপস্থিত হন। কিন্তু তারা মারামারি ঠেকানোর চেষ্টা না করে উল্টো ভিডিও ধারণ করতে থাকেন।

প্রায় আধা ঘন্টা পর প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান ঘটনাস্থলে আসেন। এসময়ও মারামারি ঠেকানোর কোন চেষ্টাই তার মধ্যে চোখে পড়েনি। উল্টো তাদের সামনেই চাপাতি নিয়ে ঘুরতে দেখা যায় ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের।