সরকারি ফেলোশিপ পেলেন ইবির আইসিটি বিভাগের চার শিক্ষার্থী

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৮ AM
 ফেলোশিপ প্রাপ্ত চার শিক্ষার্থী

ফেলোশিপ প্রাপ্ত চার শিক্ষার্থী © টিডিসি ফটো

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহিত করার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত ফেলোশিপ পেয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের চার শিক্ষার্থী। তারা হলেন, মুস্তাকিম পিয়াস, মারুফা ইয়াসমিন মিশু, জুবায়ের রহমান এবং সোলাইমান হোসাইন। তারা একযোগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই সম্মানজনক আইসিটি ফেলোশিপ পেয়েছেন। 

গবেষণা, উদ্ভাবনীমূলক কাজ এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও জনসেবায় অবদান রাখা সহ ৩টি অংশে বিভক্ত এই ফেলোশিপ প্রদান নীতিমালায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে উচ্চ শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি; উচ্চ শিক্ষা অর্জনে এবং গবেষণা কাজে উৎসাহ প্রদান; প্রযুক্তির মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি; প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এবং জনসেবায় ব্যবহার সহ ৭ টি উদ্দেশ্যে এই বৃত্তি বা ফেলোশিপ প্রদান করা হয়। 

ফেলোশিপ প্রাপ্তদের মধ্যে মুস্তাকিম পিয়াস অ্যাডাপটিভ মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে বিদ্যমান রুল-বেসড ইনট্রুশন ডিটেকশন সিস্টেমের সীমাবদ্ধতা দূর করে নতুন জিরো-ডে সাইবার আক্রমণ শনাক্তে কার্যকর ভূমিকা রাখতে কাজ করবেন। এই গবেষণার ফলাফল বাস্তব প্রয়োগযোগ্য একটি হাইব্রিড সাইবার নিরাপত্তা সমাধান হিসেবে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো সুরক্ষায় অবদান রাখবে বলে আশাবাদী তিনি। 

অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের এই গবেষণা বৃত্তি/ফেলোশিপের জন্য মনোনীত হতে পেরে আমি আনন্দিত। এই অর্জনের পেছনে আমার বিভাগের শিক্ষকমণ্ডলী ও অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদ স্যারের অবদান অনস্বীকার্য। এই অর্জন আমার জন্য গর্বের পাশাপাশি একটি দায়িত্বও। আমি এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মানসম্মত গবেষণার মাধ্যমে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চাই। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের তরুণদের গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করবে এবং দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করবে বলে মনে করি। 

মারুফা ইয়াসমিন মিশু কাজ করবেন আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে অটিজম শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং নির্ভুল করে তুলতে। যা অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিতে এবং নির্ভরযোগ্য কার্যপদ্ধতির মাধ্যমে চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি। 

তিনি বলেন, ২০২৫ সাল আমার একাডেমিক জীবনে এক পরম আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি এই ফেলোশিপের জন্য মনোনীত হয়েছি। এছাড়া প্রেস্টিজিয়াস ডিনস অ্যাওয়ার্ড, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মেধাবৃত্তি এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (NST) ফেলোশিপ অর্জন আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পথচলাকে সার্থক করেছে। আমার বাবা-মায়ের ত্যাগ,  নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং দোয়ায় আজ আমি এখানে। পাশাপাশি এই অর্জনের পেছনে বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ এবং শ্রদ্ধেয় সুপারভাইজার অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম স্যারের দিকনির্দেশনা ছিল অনবদ্য। দেশ ও দশের কল্যাণে আমার এই লব্ধ জ্ঞান যেন কাজে লাগাতে পারি, সেজন্য আমি সকলের দোয়া প্রার্থী।

জুবায়ের রহমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে চোখের রেটিনার ইমেজের সাহায্যে বাংলাদেশী ডায়াবেটিস রোগীর ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা এবং তা কোন স্টেজে আছে তা শ্রেণীবদ্ধ করতে কাজ করবেন। 
তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ। আইসিটি ফেলোশিপের জন্য মনোনীত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আমাদের ব্যাচ থেকে মোট চারজন এই ফেলোশিপ অর্জন করেছি, যা আমাদের বিভাগের জন্য ব্যাচভিত্তিকভাবে সর্বোচ্চ অর্জন। এই সাফল্যের জন্য সর্বপ্রথম মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে আমার সম্মানিত সুপারভাইজার অধ্যাপক ড. আলমগীর স্যারের প্রতি  কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। স্যারের দিকনির্দেশনা, উৎসাহ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না।

তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে চিকিৎসা খাতে উন্নতির লক্ষ্যে দ্রুত ও নির্ভূলভাবে রোগ নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে কাজ করছেন সোলাইমান হোসাইন। ফেলোশিপ প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার পরিবার, বিভাগের শিক্ষক, বড় ভাই এবং বন্ধুদের যাদের মাধ্যমে গবেষণা করার দিকে ধাবিত হওয়া। শিক্ষকবৃন্দ এবং সিনিয়র ভাইরা আমার গবষণার জন্য অনুপ্রেরণার উৎস এবং পথপ্রদর্শক। তাদের বিশ্বাস, পরামর্শ, নিরালস পরিশ্রম এবং আল্লাহর সাহায্য ব্যাতীত এই যায়গায় পৌছানো সম্ভব হতো না। আশা করি এই ফেলোশিপ আমাকে সমাজ, দেশ এবং প্রযুক্তির অগ্রগতির জন্য নতুন কিছু করার সুযোগ করে দিবে এবং কাজের প্রতি আরো উৎসাহিত করবে। 

বিভাগের শিক্ষার্থীদের এই অর্জনে নিজের উচ্ছাস প্রকাশ করে আইসিটি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদ বলেন, সন্তানের যেকোন অর্জনে বাবা মা যেমন খুশি হয়, শিক্ষকের জায়গা থেকে আমারও সেরকমই মনে হচ্ছে। নিজের অর্জনের চেয়ে শিক্ষার্থীদের অর্জন আমাদের অনেক অনেক গুণ বেশি আনন্দ দেয়। ইদানীং  আমাদের বিভাগ গবেষণায় বেশ ভালো করছে। বিভিন্ন রিসার্চ বেইসড প্রজেক্টে শিক্ষার্থীদের অবদান আছে এবং এ ধরণের সাফল্য এটা প্রমাণ করে যে তারা গবেষণাক্ষেত্রে নিজেদের একটা শক্ত অবস্থান করে নিচ্ছে। বিভাগে অনেক শিক্ষার্থীকে দেখে মাঝেমাঝে আমি নিজেই ইম্প্রেসড হয়ে যাই। আমি মনে করি ওদের ৪ জনের এই অর্জন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার। 

 

জাবি প্রক্টরের পদত্যাগ ও ধর্ষণ চেষ্টায় অভিযুক্তের বিচারের দ…
  • ১৯ মে ২০২৬
একদিনে হামে প্রাণ গেল ১১ জনের, মোট মৃত্যু ৪৭৫
  • ১৯ মে ২০২৬
৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে এবার বললেন তথ্যমন্ত্রী
  • ১৯ মে ২০২৬
সৌদি আরবে ৮,০০০ সেনা মোতায়েন করল পাকিস্তান
  • ১৯ মে ২০২৬
শিক্ষামন্ত্রী মিলনের বিতর্কিত সাবেক সেই এপিএসের ডিপিই পরিচা…
  • ১৯ মে ২০২৬
চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তায় চালু হচ্ছে জরুরি অ্যাল…
  • ১৯ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081