৪শ কোটি টাকার টেন্ডার নিতে মরিয়া ছাত্রলীগ, প্রশাসন বলছে গুঞ্জন

২৯ মে ২০১৯, ০১:২৮ PM

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়টি আবাসিক হল নির্মাণে চারশ’ কোটি টাকার দরপত্র শিডিউল কেনা-বেচা হচ্ছে। টেন্ডারে অংশ নিয়েছে বেশ কয়টি কনস্ট্রাকশন কোম্পানী। বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পছন্দের কোম্পানীও কিনেছে শিডিউল। নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার পাইয়ে দিতে চলছে জোর তদবির। এরমধ্যে প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে শাখা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের মনোমালিন্য। এছাড়া ছাত্রলীগের পছন্দের বাইরের কোম্পানীর শিডিউল ছিনতাইয়েরও অভিযোগ উঠছে। তবে বিষয়টিকে গুঞ্জন বলে উডিয়ে দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়টির অধিকতর উন্নয়নের জন্য গত ২৩ অক্টোবর ১৪৪৫ কোটি টাকা অনুমোদন দেয় একনেক। এই প্রকল্পের প্রথম ধাপে ছয়টি আবাসিক হল নির্মাণের জন্য গত ১ মে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। হলগুলো নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসূত্র জানায়, মঙ্গলবার শেষদিন পর্যন্ত বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২৫টি শিডিউল ক্রয় করেছে। ২৯ মে, বুধবার টেন্ডার খোলা হবে।

গত কয়েকদিনে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শিডিউল ছিনতাই ও ভয় দেখিয়ে শিডিউল জমাদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ‘ইউনাইটেড কনস্ট্রাকশন কোম্পানী’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগপত্রে তারা বলেন, গত ২৩ মে শিডিউল কিনে ফেরার সময় ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে ২০-৩০ জন যুবক তাদের কাছ থেকে শিডিউল ছিনিয়ে নিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা জানান, ওইদিন দুপুর ২টার দিকে তাদের একজন প্রতিনিধি নির্ধারিত অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাম্পাস শাখা থেকে শিডিউল ক্রয় করেন। ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের পাশে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা ও সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চলের অনুসারী পরিচয় দিয়ে শিডিউল ছিনিয়ে নেয়। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দুদকে অভিযোগপত্রের অনুলিপি পাঠিয়ে এই টেন্ডার বাতিল করে ই-টেন্ডার ব্যবস্থার অনুরোধ জানানো হয়েছে।’

এদিকে ছাত্রলীগ সভাপতি মো. জুয়েল রানার বিরুদ্ধে ‘মাজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে শিডিউল নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়, গত ২৩ মে প্রতিষ্ঠানটি ৬টি লটের শিডিউল ক্রয় করে। এ তথ্য জানতে পেরে ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে ক্যাম্পাসে ডাকেন। তাদের প্রতিনিধি ক্যাম্পাসে গেলে তাকে হুমকি দিয়ে শিডিউল ফেরত দিতে বলা হয়। পরে ২৬ মে রাতে জুয়েল রানা প্রতিষ্ঠানটির রাজধানীর কার্যালয়ে কয়েকজন অনুসারী পাঠিয়ে শিডিউল দিয়ে দিতে বাধ্য করেন।

প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, “কোম্পানির পক্ষ থেকে ৬ টি শিডিউল কেনা হয়েছিলো। পরে ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার ছেলেরা এসে সেগুলো নিয়ে গেছে।”

এদিকে বিশ্বাস বিল্ডার্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা নাম প্রকাশ করে কিছুই বলতে চাইনি। তবে তারা এই টেন্ডারে অংশগ্রহণ করবে না বলে জানান।

এদিকে গত এক সপ্তাহ ধরে শিডিউল কেনার ব্যাংক কার্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের শোডাইন দিতে দেখা যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পছন্দের প্রতিষ্ঠানের জন্য সিডিউল কিনেছে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক গ্রুপের পাশাপাশি বিদ্রোহী গ্রুপ ও সাবেক নেতাদের একটা গ্রুপও। এমনকি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক প্রভাবশালী নেতার নিকটাত্মীয়ের প্রতিষ্ঠানও টেন্ডারে অংশগ্রহণ করছে।

অনিয়মের অভিযোগে উড়ো চিঠি: টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কয়েকটি অনিয়মের অভিযোগ তুলে কয়েকদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং সাংবাদিকদের কাছে একটি উড়ো চিঠি আসে। মঙ্গলবার ওই উড়ো চিঠির লিখিত জবাবে অভিযোগ ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন প্রকল্প পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) নাসির উদ্দিন।

উড়ো চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, টেন্ডার আহ্বানের ১৫ দিন পর্যন্ত ব্যাংকে কোনও ডকুমেন্ট সরবরাহ করা হয়নি। এই অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে প্রকল্প পরিচালক বলেন, “বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৩ দিন অতিবাহিত হলেও কোন সংস্থা টেন্ডার ডকুমেন্ট সংগ্রহ করার জন্য প্রকল্প অফিসে আসেনি।”

উড়ো চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, কিন্তু কোনও বেসরকারি (এনজিও) সংস্থায় কাজ করাকে অভিজ্ঞতা হিসেবে ধরা হয়নি।  এর জবাবে পরিচালক বলেন, “এনজিওতে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনো প্রতিষ্ঠানকে সরকারি অর্থায়নের কোনো প্রকল্পে নিয়োগ করা অস্বাভাবিক।”

এ ছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে প্রকল্প পরিচালকের ফোন নম্বর দেওয়া এবং তার বরাবর আবেদন করে ডকুমেন্ট সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিময়বহির্ভূত বলে দাবি করা হয়েছে। এর জবাবে পরিচালক বলেছেন, “পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন মেনেই এ নিয়ম সংযুক্ত করা হয়েছে।” 

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, “বেনামি চিঠিটা পড়েছি। আমরা সবকিছু নিয়মতান্ত্রিকভাবে করার চেষ্টা করেছি। অনেকেই নানাভাবে উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্থ করার চেষ্টা করবে। ওগুলো নিয়ে মাথা ঘামানোর সুযোগ নেই। আমরা ভালোভাবে প্রকল্পের কাজ করতে চাই।” ছাত্রলীগের শিডিউল ছিনতাই অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, “আমি এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলবো।”

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম কয়েকদিন ধরে অসুস্থ রয়েছেন। সোমবার চিকিৎসাধীন উপাচার্যের সাথে দেখা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। এসময় জাবি শাখা  ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দদের ডাকা হয়নি। এরপর থেকে কেন্দ্রের সঙ্গে জাবি ছাত্রলীগের মনোমালিন্য প্রকাশ্যে আসে।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, সবাই তো সিডিউল কিনছে। সবাই সিডিউল পাচ্ছেও। ছাত্রলীগ কেন বাধা দিবে। তারা কেন অভিযোগ করেছে আমার জানা নাই। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য ছাত্রলীগ সোচ্চার আছে।

 

মহাকাশযাত্রায় প্রথমবারের মতো স্মার্টফোন ব্যবহারের অনুমতি ন…
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
সমালোচকরাও বুঝতে পারছেন, আমাদের প্রণীত আইনগুলো ভালো ছিল: আস…
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
রাজবাড়ীতে রিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে বৃদ্ধার মৃত্যু
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
সরকারের প্রথম একনেক সভা শুরু, অনুমোদনের অপেক্ষায় ১৭ প্রকল্প 
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
পে স্কেল চেয়ে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে সরকারি কর্মচারীরা, প…
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
নওগাঁয় চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে পুলিশ সদস্যের ২ পা বিচ্ছ…
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬