৩৫ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাপরিকল্পনা

২৮ আগস্ট ২০২৫, ০৪:২৪ PM , আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৫১ PM
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো © টিডিসি ফটো

১৯৮৭ সালের ৪ জানুয়ারি সরকারি গেজেটে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়। এরপর ১৯৯১ সালের ২৫ নভেম্বর ৪টি ডিসিপ্লিনে মাত্র ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে এখানে ২৯টি ডিসিপ্লিনে পড়াশোনা করছে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী। তবে এখনও নেই পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা, নেই গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত ক্ষেত্র।
 
১৯৮৯ সালের ১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ও প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন প্রফেসর ড. গোলাম রহমান। তার উদ্যোগেই তৈরি হয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহাপরিকল্পনা। পরিকল্পনায় গল্লামারী মৎস্য খামার ও গল্লামারী লিনিয়ার পার্ক অধিগ্রহণসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনের প্রায় ২০৩ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে উপাচার্য ও প্রশাসন নিজস্ব পৃথক পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত কার্যক্রম পরিচালনা করায় সেই মহাপরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয়নি।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও প্রশাসনিক সূত্র জানায়, জমি অধিগ্রহণে প্রায় প্রত্যেক উপাচার্যই চেষ্টা করেছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সাবেক একজন উপাচার্য ক্যাম্পাসের জমি বিক্রি করে দেওয়ার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে।
 
বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট ও জীববিজ্ঞানভিত্তিক ডিসিপ্লিনসমূহের মাঠ গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় জমি না থাকায় সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে হল রয়েছে মোট ৫ টি এবং মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৭০ শতাংশ আবাসনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। 

আরও পড়ুন: চাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোটগ্রহণ ১২ অক্টোবর

ক্যাম্পাস সম্প্রসারণে জমি অধিগ্রহণের দাবি দীর্ঘদিনের। তৎকালীন সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর শিক্ষার্থীরা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব বরাবর স্মারকলিপি দেয়। এর আগে গত বছরের ৩ নভেম্বর প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন এবং ৬ নভেম্বর প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার মধ্যে অবস্থিত মৎস্য অধিদপ্তরের গল্লামারী মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারটি অবিলম্বে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হস্তান্তরের দাবি জানায়।
 
শিক্ষার্থীদের দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর সচিবদের কাছে মৌখিক অনুরোধ এবং ৫ ডিসেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব বরাবর লিখিত আবেদন পাঠানো হয়। পরবর্তীতে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম শিক্ষা উপদেষ্টা ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
 
তবুও সমাধান না আসায় চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীরা পুনরায় মানববন্ধন করে এবং প্রতীকীভাবে খামার ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের ফটকে ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়’ লেখা ব্যানার টাঙিয়ে দেয়। সর্বশেষ গত ৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার শিক্ষার্থীদের দাবি ‘মীর মুগ্ধ-এর দাবি’ আখ্যা দিয়ে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
 
এরপরও ১৪ মার্চ উপাচার্য পুনরায় শিক্ষা উপদেষ্টার নিকট আবেদন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন।
 
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গল্লামারী মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে একটি বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড হিসেবে রয়েছে, যা নিরাপত্তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রাকৃতিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য অন্তরায় সৃষ্টি করছে। খামারের ১০.৩৫ একর জমি বিশ্ববিদ্যালয়ে হস্তান্তর করা হলে আবাসন সম্প্রসারণ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, নিরাপত্তা জোরদার এবং গবেষণার প্রসারে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন: ডাকসু-জাকসু নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে যা বলল আইএসপিআর

এছাড়া, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি (এফএমআরটি) ডিসিপ্লিনকে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের পথ খুলে দেবে। এতে মৎস্য গবেষণা, প্রজনন ও সংরক্ষণে জাতীয়ভাবে অবদান রাখার পাশাপাশি সরকারি আর্থিক সুফলও নিশ্চিত হবে। তবে বাস্তবতা হলো, গল্লামারী মৎস্য খামার প্রতিষ্ঠার সময় ময়ূর নদীর জোয়ার-ভাটা একটি সুবিধা ছিল। বর্তমানে নদীটির নাব্যতা কমে যাওয়ায় খামারের কার্যকারিতাও প্রশ্নবিদ্ধ। তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে, খামারটিকে জোয়ার-ভাটা সম্পন্ন নদীর পাশে স্থানান্তর করা যুক্তিযুক্ত, আর বর্তমান জমিটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণে হস্তান্তর করাই সময়ের দাবি।
 
গত রবিবার (১০ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা মিছিলসহকারে মৎস্য বীজ খামারের কার্যালয়ে যান। দীর্ঘদিনের দাবি আদায়ে আন্দোলনের অংশ হিসেবে খামারের কার্যালয়টি ‘শহীদ মীর মুগ্ধ হল’ ঘোষণা করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 
 
এ বিষয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘জমি সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গবেষণাগার সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে জমি অধিগ্রহণ ও গল্লামারী মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার হস্তান্তরের দাবিতে আন্দোলন করছে। এ জমি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে হস্তান্তর করা গেলে তাৎক্ষণিক সংকট নিরসন হবে এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।’

টালমাটাল অবস্থা কাটিয়ে আজ মাঠে ফিরছে বিপিএল
  • ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র
  • ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
৪৫ আসন সমস্যা নয়, ভিন্ন ভয় ইসলামী আন্দোলনের
  • ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
আজ পবিত্র শবে মেরাজ
  • ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতের বিপক্ষে আধিপত্য দেখিয়ে জয় তুলে নিল বাংলাদেশ
  • ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
আজ রাজধানীতে কোথায় কী
  • ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9