শেবাচিমে চিকিৎসা নিতে গিয়ে মারধরের শিকার ববি শিক্ষার্থী

১৪ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৫৮ PM , আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০২৫, ০২:১৬ PM
মারধরের শিকার সাব্বির সিকদার

মারধরের শিকার সাব্বির সিকদার © টিডিসি

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) চিকিৎসা নিতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থী ও তার মা। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেডিসিন বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, সিরিয়াল নিয়ে কথা কাটাকাটির পর হাসপাতালের স্টাফরা তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করেন এবং তার মাকেও মারধর করেন। পরে পুলিশ এসে মা-ছেলেকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যায়। ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ওই শিক্ষার্থীর নাম সাব্বির সিকদার। তিনি অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

সাব্বির সিকদার জানান, তার বড় বোন শেবাচিমে সিজারের পর ইনফেকশনে আক্রান্ত হলে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করাতে আসেন। একই সঙ্গে জ্বরে আক্রান্ত মাকেও হাসপাতালে নিয়ে আসেন তিনি। সকাল ৮টার দিকে তিনি মেডিসিন বিভাগের ১১০ নম্বর রুমে যান এবং প্রায় ১১২ জনের পিছনে দাঁড়ান। বেলা ১১টার দিকে সিরিয়ালে মাত্র ৫ জন বাকি থাকতে স্টাফরা জানান, মানববন্ধনের কারণে রোগী দেখা হবে না।

এ বিষয়ে আগেই জানানো হয়নি বলে আপত্তি তুললে এক পর্যায়ে তার সঙ্গে স্টাফদের তর্ক হয়। পরে তিনি ফেসবুকে লাইভে গেলে তার ফোন ছিনিয়ে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। মা ছাড়াতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মা-ছেলে মিলে এক ডাক্তারের রুমে আশ্রয় নিলেও সেখানেও মারধর করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, ডাক্তাররা কেউ তাদের রক্ষা করেননি; বরং হাসপাতাল প্রশাসন এসে উল্টো তাকে ডাক্তারকে মারধরের অভিযোগে শাসানো হয়। পরে পুলিশ এসে মা-ছেলেকে উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন: সমাজবিজ্ঞানে শিক্ষক নিয়োগ, ‘বোর্ড এক্সপার্ট’ জাপানিজ স্টাডিজের

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা আমেনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘ওরা সবাই মিলে আমার ছেলেকে মারছিল। আমি বলছিলাম, আমার ছেলেকে মেরো না, এমনকি তাদের পা জড়িয়ে ধরেছি। তারপরও ওরা আমার ছেলেকে এমনভাবে মেরেছে যে রক্ত বের হয়ে যায়। আমি পা জড়িয়ে না ধরলে হয়তো আমার ছেলেকে মেরে ফেলত।’

প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে শেবাচিম হাসপাতালের এক সেবাগ্রহীতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমি দোতলায় ভর্তি আছি। একজন ডাক্তার সব রোগীকে বের করে দিয়ে প্রতিটি রুমে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। বলছেন, কোনো রোগী দেখা হবে না । আমরা সাড়ে তিন হাজার স্টাফ, আজকে ওদের সঙ্গে বুঝে নেব। একজন মহিলা ডাক্তার এসব বলেছেন। স্টাফরা ডাক্তারদের নির্দেশ অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই আমরা প্রক্টরিয়াল টিম পাঠাই। আমাদের শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি আমাদের শিক্ষার্থীদেরও ধৈর্য ধরতে অনুরোধ করছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শের-ই-বাংলা মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, ‘আমি শুনেছি আমাদের মেডিসিন ওয়ার্ডে একটা বিশৃঙ্খলা হয়েছে। পরে শুনেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সেখানে আহত হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা নিজেরা একটা তদন্ত কমিটি গঠন করে দিচ্ছি তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। তদন্তের পরে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে পুলিশি তদন্তও চলবে।’

গোপালগঞ্জে চালককে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাই
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে শ্রীলঙ্কার অনুরোধ
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রেকর্ড ভাঙার পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে মৎস্যজীবী দলের তিনজনকে কুপিয়ে জখম
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নতুন সরকারের শপথ কবে, সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ উপদেষ্টা পরিষ…
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গণঅধিকার পরিষদের দুই নেতার জামায়াতে যোগদান
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬