ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন। © টিডিসি ফটো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় তো নয় যেন আমলা গড়ার কারখানা’। ‘কেমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই: উচ্চশিক্ষা, নীতিমালা, কাঠামো’ শিরোনামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অনুষ্ঠিত হওয়া দুই দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক কনভেনশনের প্রথমদিনের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনায় তিনি বলেন, উচ্চ শ্রেণিই এখন তাদের পুঁজিতন্ত্র ধরে রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে চলবে তা নির্ধারণ করে। প্রাচীন চীন সাম্রাজ্যে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়কে আমলা তৈরির কারখানায় পরিণত করা হয়েছিল, তেমনি একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ গুলো বিশ্ববিদ্যালয় তো নয় যেন আমলা গড়ার কারখানায় পরিণত হয়েছে। এখন মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমলা হওয়ার জন্য পড়াশোনা করছে, গবেষণার কোন বালাই নেই।
কেমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই এ ব্যাপারে তিনি বলেন, কেমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই এ বিষয়টি সামনে আসলেই আমরা যে উত্তর পাই তা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্ববিদ্যালয় অর্থাৎ বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ধারনাটি আসলে কি এ বিষয়টি আমাদের কাছে অস্পষ্ট হতে হতে খুব বেশি আর আমাদের সামনে উপস্থিত নেই। যে কারণে ক্রমাগত আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ধারণাটির সঠিক ব্যাখ্যা ভুলে যেতে শুরু করেছি।
এর আগে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমার সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অধিবেশনে ‘বিশ্ববিদ্যালয়, সমাজ ও রাষ্ট্র’ বিষয়ে আলোচনায় স্বাগত ভাষণ দেন অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস। এ অধিবেশনে আরো আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, অধ্যাপক নাসিম আখতার হুসাইন। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
এমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, আমরা যেমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই এর জন্য দুটি জিনিস দরকার। মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা এবং ছাত্রসংসদ। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা মাধ্যমে পড়ানো হয়। কিন্তু তা উচ্চমানের হয় না। মাতৃভাষার মাধ্যমে যে উচ্চ শিক্ষা এ চ্যালেঞ্জ আমরা গ্রহণ করিনা। প্রয়োজন ছিল মৌলিক বইয়ের, গবেষণার এবং অনুবাদের। কিন্তু তা আমরা করতে পারিনি বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষারমান দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তেল গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ তার বক্তব্যে বলেন, রাষ্ট্র চায় রোবট সোফিয়ার মতো শিক্ষার্থী। তাদেরকে যেভাবে বলা হবে ঠিক সেভাবে চলবে। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কেউ যেন প্রতিবাদ করতে না পারে সেজন্য সরকার পুতুল তৈরির একটা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদেরকে নির্যাতন করে অনুগত করা হয়। আর এখান থেকেই মাস্তান ও মেরুদণ্ডহীন তৈরি হচ্ছে।
এরপরে দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পারভিন জলীর সঞ্চালনায় ‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন: কৌশলপত্র’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বখতিয়ার আহমদ, প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তানজিমউদ্দিন খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আইনুন নাহার ও রায়হান রাইন।
আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় একশ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’ ব্যানারে উক্ত কনভেনশনে উপস্থিত ছিলেন।
কনভেনশনের দ্বিতীয় দিন ১২ই এপ্রিল শুক্রবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে অধিবেশন ১: ‘পাঠদান ও গবেষণা’ এবং অধিবেশন ২: ‘ভর্তি, নিয়োগ ও প্রশাসন’ আয়োজিত হবে। এছাড়াও এদিনে একটি বিশেষ প্ল্যানারি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়া অনুষ্ঠান শেষে ১৩ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সম্মেলনের গৃহীত প্রস্তাব, সফলতা এবং অনুষ্ঠানের সার্বিক বিষয়ে সরকার ও ইউজিসির কাছে তুলে ধরা হবে বলে জানায় আয়োজক কমিটি।