জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
অভিযুক্ত সুদীপ্ত শাহীন © টিডিসি ফটো
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন। যার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগের তদন্ত চলমান। সেটির তদন্ত শেষ না হতেই তার বিরুদ্ধে এক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের নারী সংবাদ পাঠিকাকে হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী নারী বাংলাভিশন চ্যানেলের সংবাদ পাঠিকা রাফিয়া জাহান সাবরিন। রবিবার সন্ধ্যায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর বরাবর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে দুই পক্ষের কথা শুনেছি। তাদের মধ্যে মিটমাট করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী বলেছেন, ‘তার আর কোনো দাবি নেই, তিনি সন্তুষ্ট।’
তবে সঠিক বিচার না পেয়ে সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বরাবর আবারো লিখিত অভিযোগ করেন সংবাদ পাঠিকা রাফিয়া জাহান সাবরিন। অভিযোগ পত্রে তিনি ঘটনার বিচার ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ না করার প্রতিশ্রুতিমূলক লিখিত মুচলেকা দাবি করেন।
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ‘গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আমি ও আমার স্বামী মোহাম্মদ নুসরাত খান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসি। এক পর্যায়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় বাংলা ফটকের পাশে একটি দোকানের সামনে দাড়িয়ে আচার খাচ্ছিলাম। এ সময় নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ সেখানে আসেন। পরবর্তীতে তারা আমাকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল মন্তব্য করতে থাকেন। এ সময় আমার স্বামী তাদের পরিচয় জানতে চাইলে সুদীপ্ত শাহীন নিজেকে পাটকলের শ্রমিক বলে দাবি করেন।’
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘সুদীপ্ত শাহীন আমাদের পরিচয় জানতে চাইলে আমি নিজেকে সংবাদকর্মী এবং ‘নিরাপত্তার স্বার্থে’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দেই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুদীপ্ত শাহীন আমাদেরকে গালিগালাজ করতে শুরু করেন। এরপর সুদীপ্ত শাহীন আমাদেরকে জোর করে আড়ালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে আপত্তি জানালে সুদীপ্ত শাহীনসহ তিনজন আমার স্বামীর মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে আমাদেরকে এক মিনিটের মধ্যে ক্যাম্পাস ছাড়ার নির্দেশ দেন সুদীপ্ত শাহীন। অন্যথায় প্রাণনাশ করবেন বলে হুমকি দেন তিনি।’
তবে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন বলেন, ‘সেদিন শুক্রবার আমার ছুটি ছিলো। জয় বাংলা ফটকের পাশের দোকান থেকে কেনাকাটা করে ফেরার পথে একটা দোকান থেকে পেয়ারা কিনে খাচ্ছিলাম। হঠাৎ একজন লোক এসে আমাদের পরিচয় জানতে চায়। আমরা পরিচয় দিয়ে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদেরকে একজন ব্রিগেডিয়ারের ভাই হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীর কথা কাটাকাটি হয়েছে। এর বেশি কিছু না।’
ঘটনাটির ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, ‘অভিযোগপত্র পেয়েছি, আগেও ওনার (সুদীপ্ত শাহীন) নামে একটা অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছিলো যার কাজ চলমান। এই অবস্থায় যেহেতু নতুন করে আরেকটা অভিযোগ পেলাম। অভিযোগ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিবো।’