জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চলের বিরুদ্ধে মারধর ও শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ করেছেন সাদিয়া ইসলাম তন্বী নামে এক ছাত্রলীগ নেত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৪৪তম ব্যাচ ও শাখা ছাত্রলীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক তিনি। বৃহস্পতিবার অভিযোগের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন তিনি।
এর আগে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের মাধ্যমে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ওই নেত্রী। তিনি জাবি ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেলের স্ত্রীও। এতে অভিযুক্ত হিসেবে দায়ী করা হয়- ছাত্রলীগ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চল, সাংগঠনিক সম্পাদক অভিষেক মন্ডল, গ্রন্থণা ও প্রকাশনা সম্পাদক নিলাদ্রী শেখর মজুমদার, ছাত্রলীগ কর্মী নেজাম উদ্দীন নিলয় ও সাজুকে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে রাজিবের (অভিযোগকারীর স্বামী) সাথে ফুল কিনছিলেন তন্বী। এ সময় চঞ্চল তার অনুসারীদের নিয়ে গাড়ির ড্রাইভারকে মারধর করে। পরবর্তীতে তারা রাজিবকে লাঞ্ছিত করে। সে সময় তাদেরকে বাধা দিতে গেলে চঞ্চল ও তার অনুসারীরা তন্বীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। সেখানে উপস্থিত থাকা ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী ইকবাল পুরো ঘটনাটি দেখেছেন। যার সত্যতা স্বীকার করে মেহেদী ইকবাল বলেন, ‘ঝামেলা দেখে আমি থামাতে আসি। ঝামেলার সময় তন্বির গায়ে অন্যদের হাত পড়েছে। কিন্তু চঞ্চল আমার সামনে গায়ে হাত তোলেনি।’
এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও মিথ্যাচারে সাজানো। এটি একটি ষড়যন্ত্র।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘এ ধরনের কোন অভিযোগ এখনও পাইনি। তবে বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনার প্রাথমিক প্রতিবেদন আমরা ইতোমধ্যে প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছে। যদি অভিযোগ পাই; তাহলে সে অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
প্রসঙ্গত, বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন জাবি শাখা ছাত্রলীগের সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চল এবং সাবেক সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেলের অনুসারীরা। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। এছাড়াও সংঘর্ষ চলাকালে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে বলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা সূত্রে জানা যায়। সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।