চবি শিক্ষার্থীর তৈরি ‘অ্যাডমিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট’ অ্যাপস

এক অ্যাপসে ভর্তিচ্ছুদের ভোগান্তি দূর!

এক অ্যাপসে ভর্তিচ্ছুদের ভোগান্তি দূর!
‘অ্যাডমিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট’ অ্যাপস তৈরির দলের সদস্যরা  © সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং তার সহযোগীরা মিলে ‘অ্যাডমিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট’ নামে একটি বিশেষ অ্যাপস তৈরি করেছেন। যা উচ্চ মাধ্যমিক শেষে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং কলেজে ভর্তির ভোগান্তি দূর করবে।

উচ্চ মাধ্যমিক শেষ হতে না হতেই শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পিছনে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। কিন্তু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনলাইন ভিত্তিক হয়ে যাওয়াতে নানা ঝামেলা পোহাতে হয় শিক্ষার্থীদের। যা শুধুমাত্র একজন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীই অনুধাবন করতে পারে।

এই সময় শুধু পড়ালেখা নিয়েই নয় বরং ভর্তি আবেদনের শেষ তারিখ, টাকা জমা দেয়ার শেষ তারিখ, আবেদন ফি, পরীক্ষার তারিখসহ নানা তথ্য একজন শিক্ষার্থীকে মাথায় রাখতে হয়। তার উপর ভর্তির যোগ্যতা, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হলে কী কী পড়তে হবে, সিলেবাসটা কেমন হবে? নানান বিষয় মাথায় রাখতে হয়। তাই উচ্চশিক্ষায় ভর্তিচ্ছুদের এসব ব্যাপারকে সহজলভ্য করতেই তৈরি করা হয়েছে অ্যাপসটি।

অ্যাপসটি সম্পর্কে ‘অ্যাডমিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট’ টিমের প্রধান আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা গ্রাহকের পছন্দ এবং মতামতকে প্রাধান্য দিয়েই প্রতিনিয়ত অ্যাপসটি গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী সাজানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে অ্যাপসটির ইউজার ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও অনেক ইউজার আমাদের সাথে ধীরে ধীরে যুক্ত হচ্ছে। আমরা স্বপ্ন দেখি, এই অ্যাপসটি একদিন লাখো ভর্তিচ্ছুদের ভরসার প্রতীক হয়ে উঠবে। ঠিক সময়ে সঠিক তথ্যের অভাবে উচ্চ শিক্ষা হতে আর কোন শিক্ষার্থী বঞ্চিত হবে না।

অ্যাপসটি ব্যবহারের জন্য প্রথমেই গুগল প্লে-স্টোর থেকে ইন্সটল করতে হবে। পাশাপাশি নিজের ফোন নাম্বার, ইমেইল দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে। তাহলে অ্যাপসটির বিশেষ ফিচারগুলো দেখা যাবে।

অ্যাপসটির যত আয়োজন.....
অ্যাপসটিতে প্রথমেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি ও ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ। আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চান ক্যাটাগরি অনুযায়ী সেখানে ক্লিক করলেই জেনে যাবেন আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাবলি। সাথে আরেকটি ভাগ রয়েছে, তা হলো ‘মাই ফেভারিট’ অর্থাৎ ব্যবহারকারী এই ভাগে তার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় বা যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সে পরীক্ষা দিতে চায় তা আলাদা করে রাখতে পারবে। যার ফলে ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন তথ্যের নোটিফিকেশন পাওয়া যাবে।

সার্কুলার: প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সার্কুলার দেওয়া থাকবে অ্যাপসটিতে। সার্কুলার বোঝার সুবিধার্থে সহজ ফরম্যাটে এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে। এবং যেকোনো সার্কুলার প্রকাশের সাথে সাথেই অ্যাপস ব্যবহারকারীকে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে। তাই বিভিন্ন ভার্সিটির ওয়েবসাইট কিংবা সোশাল মিডিয়াগুলোতে সার্কুলার খোঁজাখুঁজি করে সময় নষ্ট করার প্রয়োজন হবে না।

অ্যাপসটির চমকপ্রদ যে ব্যাপার:
একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনে একাধিক একাউন্ট খোলা যাবে। ফলে আপনার পরিচিত বা কাছের যার অ্যান্ড্রয়েড ফোন নেই চাইলে তাকেও আপনি সহযোগিতা করতে পারেন। অথবা আপনি যদি অ্যাডমিশনের এই সময়ে অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে দূরে থাকতে চান তার জন্য আপনাকে যা করতে হবে- আপনার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে ওই নাম্বার দিয়ে আরেকটি একাউন্ট খুলে এসএমএস সার্ভিস অন করে দিলে খুব স্বল্পমূল্যেই ওই নাম্বারে ভর্তি পরীক্ষার সকল ইনফরমেশন এসএমএসের মাধ্যমে পেয়ে যাবেন । তবে এই অ্যাপসটি ইন্সটল করলে ঢাবি, চবি ও রাবির যাবতীয় তথ্য ফ্রিতে পাওয়া যাবে।

অ্যাডমিশন কাউন্টডাউন :
এই ফিচারটির মাধ্যমে কোন ভার্সিটির আবেদন কবে শুরু হবে এবং কবে শেষ হবে তা দেখা যাবে। পাশাপাশি অ্যাপ্লাই বাটনে ক্লিক করে কোনো ঝামেলা ছাড়াই অ্যাপ্লাই করার সুবিধা রয়েছে। অ্যাপসটি থেকে আবেদন করলে পরীক্ষার্থীর সিটপ্ল্যান এবং পরীক্ষার ফলাফলসহ যাবতীয় তথ্য দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে ৩০ টাকা চার্জ প্রযোজ্য হবে।

এক্সাম ক্যালেন্ডার :
এখানে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা কখন। আবেদনের কতদিন বাকি আছে সেটাও দেখা যাবে। তাছাড়া ‘নোটপ্যাড’ নামক অপশন থেকে ব্যবহারকারী তার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লিখে রাখতে পারবেন। পাশাপাশি ‘কন্ট্রিবিউট’ অপশনে যে কেউ নতুন তথ্য শেয়ার করতে পারেন, যদি মডারেটররা তা সংযুক্ত করার মতো মনে করেন তাহলে তা সংযুক্ত করবেন। সে ক্ষেত্রে সেরা কন্ট্রিবিউটর পুরস্কারের ব্যবস্থাও রয়েছে।

অ্যাপসটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মামুন বলেন, এখন পর্যন্ত অ্যাপসটিতে ৩০ ধরনের সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরো ৩৫টি সেবা যুক্ত করা হবে। তার মাঝে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- একই প্লাটফর্মে কলেজ অ্যাডমিশন থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা তথা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং পাশাপাশি বিদেশে স্কলারশিপে পড়তে যাওয়ার সুযোগ সুবিধাও যুক্ত হচ্ছে। উচ্চমাধ্যমিকে থাকাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা তাদের অ্যাকাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতিও নিতে পারবে। তার জন্য থাকছে অধ্যায় ভিত্তিক মডেলটেস্টের সুবিধা এবং যারা মডেলটেস্টগুলোতে ভাল করবে ২ বছরের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে সারা দেশ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপের মাধ্যমে কোচিং ফি সহ ভর্তির ক্ষেত্রে যাবতীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। এছাড়াও শিক্ষা বান্ধব বিভিন্ন ফিচার থাকবে অ্যাপসটিতে।

সাইন্স শপ বাংলাদেশ নামক একটি অনলাইন শপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে অ্যাপসটির কাজ শুরু হয় ২০১৮ সনের জানুয়ারি মাসে। অ্যাপসটির সার্ভার ম্যানেজমেন্ট এবং অ্যাপস ডিজাইনিংয়ে কাজ করেন একই বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ জাওয়াদ খান, মাহবুবুর রহমান এবং শোভন মাহমুদ। ডাটা অ্যানালাইসিসের কাজ করেন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাফায়াত সিদ্দিকী। এছাড়াও প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনায় ছিলেন শাবিপ্রবির কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ উল্লাহ্, বাসিরুল ফাহাদ এবং আবদুল্লাহ আল মারুফ। পাশাপাশি বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করেছেন একই ডিপার্টমেন্টের তানভির, সৌমিত্র, সাইম, মিজান এবং আরমান।


মন্তব্য