কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন ভর্তি হবেন?

১৩ জুলাই ২০২৩, ০৩:৫২ PM , আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:১৫ AM
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি ছবি

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জেলা কুমিল্লা। শিক্ষা ও সংস্কৃতির আঁতুড়ঘর বলে পরিচিত কোটবাড়ির শালবন বিহার বহন করছে হাজার বছরের ঐতিহ্য। প্রাচীন এই বিদ্যাপীঠের নতুন সংস্করণ বলা যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে। ৭টি বিভাগ, ৩০০ শিক্ষার্থী ও ১৫ জন শিক্ষক নিয়ে শালবনের কোলঘেঁষে ২০০৬ সালের ২৮ মে যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এখান থেকে বের হয়ে গেছে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী। যারা পদচারণা করছেন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও। বর্তমানে অধ্যয়নরত রয়েছে ৭ হাজার ১৪১ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষক রয়েছেন ২৬৫ জন।

দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে এগিয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। সমকালীন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চাইতে যেকোনো দিক থেকে এগিয়ে। দেশের স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরপরই নবীন শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি।

কুমিল্লা এমন এক অবস্থানে রয়েছে যার একদিকে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, অন্যদিকে দেশের রাজধানী ঢাকা। আর দেশের লাইফলাইন বলে খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অতিক্রম করেছে কুমিল্লার উপর দিয়ে। ফলে এখান থেকে দেশের যেকোনো স্থানে খুব সহজেই যোগাযোগ করা সম্ভব— উপ-উপচার্য

উচ্চশিক্ষার লালিত স্বপ্নকে আরো এক ধাপ এগিয়ে দিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ৬টি অনুষদের বিপরীতে ১৯টি বিভাগ। আইন, ইংরেজি, অর্থনীতি, নৃবিজ্ঞান, গণিত, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি, লোক প্রশাসন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, একাউন্টিটিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস্, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, পরিসংখ্যান, ফার্মেসী, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা, মার্কেটিং সহ অন্যান্য বিভাগ। এছাড়াও অনুমোদন রয়েছে আরো দুটি বিভাগ খোলার। তবে জায়গা সংকটের কারণে খোলা হয়নি বিভাগগুলো। তবে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে ১৬শ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প। যেখানে নতুন করে যুক্ত হয়েছে প্রায় ২০০ একরের নতুন ক্যাম্পাস। অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ অতি দ্রুতই দৃশ্যমান হচ্ছে। সেখানে থাকবে শিক্ষার্থীদের সকল ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।

শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধার্থে পাঁচটি আবাসিক হল রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। পাশাপাশি রয়েছে প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি আসন। শহরে যাতায়াতের জন্য শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে প্রায় ১৭টি বাস। এছাড়াও রয়েছে খেলার মাঠ, ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা, লাইব্রেরিসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা। তবে আধুনিক ক্যাম্পাসের আদলেই নতুন ক্যাম্পাসের পাহাড়ঘেরা নান্দনিক সৌন্দর্যে বেষ্টিত হবে। যার প্রায় প্রতিটি ভবনই হবে ১০ তলা। থাকবে না আবাসন সংকটের ঝামেলাও।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাব ও বিভিন্ন সংগঠনে কাজ করতে আগ্রহী তাদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। সাংবাদিক সমিতি, সায়েন্স ক্লাব, বন্ধু, ডিবেটিং সোসাইটি, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, প্রতিবর্তন, থিয়েটার, অনুপ্রাস সহ ২০ থেকে ২৫টি সংগঠন। এছাড়াও শালবনের কোলঘেষা ও পাহাড়ি ক্যাম্পাস হওয়ায় সারাবছরই ভিড় থাকে দর্শনার্থীদের। নতুন ক্যাম্পাস পর্যটনের নতুন ধার খুলবে বলেও বিশ্বাস এখানকার বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের।

ভর্তি পরীক্ষার ইউনিট ও আসন সংখ্যা
২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি আসন কমিয়ে ১০৩০টি আসন করা হয়েছে। এছাড়াও কোটায় ভর্তি হতে পারবেন প্রায় ৯৩ জন। ‘ক’ ইউনিটে আসন রয়েছে ৩৫০টি। ‘খ’ ইউনিটে আসন সংখ্যা ৪৪০টি এবং ‘গ’ ইউনিটে আসন সংখ্যা ২৪০টি।

শিক্ষকদের মতামত
আইন অনুষদের ডিন ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম বলেন, ঐতিহ্যগতভাবেই শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে কুমিল্লা এগিয়ে রয়েছে। আশেপাশের অন্যান্য জেলার চাইতে কুমিল্লাতে শিক্ষার হার অনেক বেশি। আর সবচেয়ে কথা এখানে শিক্ষার একটি সুন্দর পরিবেশ রয়েছে। যার ফলাফল আমাদের শিক্ষার্থীদের জব সেক্টরে দেখতে পাই। দেশের নবীন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চাইতে এখানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনোর ইচ্ছে অনেকাংশেই বেশি। গবেষণামুখী পরিবেশের কারণেও শিক্ষার্থীরা এখানে ভিড় করবে। এছাড়াও ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস, ঐতিহ্য, অবকাঠামোগত উন্নয়নও এখানে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করবে। ইতোমধ্যে গুচ্ছের আবেদনের শীর্ষেও রয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এনএম রবিউল আউয়াল চৌধুরী বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। তারমধ্যে এখানকার অ্যাকাডেমিক পরিবেশে অন্যতম সহায়ক। নবীন শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পড়াতে চাই বেশি। ক্লাস নেয় বেশি। যেখানে অধ্যাপককটা বেশি একটা সময় দিতে পারে না ক্লাসে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠোমোগত যে উন্নয়ন হচ্ছে সেটাও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করবে। ইতিহাস, ঐহিত্য ও ভৌগোলিক দিক থেকেও কুমিল্লা একটি উর্বর জায়গা। তাছাড়াও কুমিল্লা ঢাকা ও চট্টগ্রামের মাঝামাঝিতে অবস্থান করায় এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ভালো, তেমনি নগরীর বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাও গ্রহণ করা যায় এখানে। আবার এখানকার শিক্ষকদেরকে বর্তমানে একপ্রকার জোর করেই গবেষণামুখী করানো হচ্ছে, যার প্রভাব অদূর ভবিষ্যতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়বে। দেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরপরই সমকালীন বিশ্বদ্যালয়গুলোর মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক এগিয়ে। তাছাড়াও অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রে সিলেবাস ও কার্যক্রম আপডেট করার প্রক্রিয়া চলছে প্রতিনিয়ত।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির

উপ-উপাচার্যের কথা
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, আমাদের নতুন যে ব্যাচটি আসবে তারা মেগা প্রকল্পের সুফল ভোগ করতে পারবে। আর সেখানে শিক্ষার্থীরা সকল ধরণের সুযোগ সুবিধা পাবে। কারণ ২০২৫ সালের মধ্যে এটির কাজ শেষ হয়ে যাবে। তাছাড়া এই বছরে শিক্ষার্থীদের আবেদনও অনেক বেশি পড়েছে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায়। কুমিল্লা এমন এক অবস্থানে রয়েছে যার একদিকে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, অন্যদিকে দেশের রাজধানী ঢাকা। আর দেশের লাইফলাইন বলে খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অতিক্রম করেছে কুমিল্লার উপর দিয়ে। ফলে এখান থেকে দেশের যেকোনো স্থানে খুব সহজেই যোগাযোগ করা সম্ভব। তাই এখানকার ভৌগোলিক অবস্থান, সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভবিষ্যতের আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা ইত্যাদি কারণেই শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

রাজধানীতে সেনাবাহিনী পরিচালিত স্কুল বাসে আগুন
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে: জিয়াউদ্দীন …
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
নতুন পররাষ্ট্রসচিব নিয়োগ পেলেন সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে সঠিকভাবে তুলে ধরার আহ্বান…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
কলেজ পেলেন ৪৫তম বিসিএসের ৩৩৯ শিক্ষা ক্যাডার
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
টিভি সিরিয়াল নয়, উপন্যাস হিসেবে লেখা হয়েছিল দার-ই-নিজাত— চা…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950