জনপ্রিয় পাকিস্তানি টিভি সিরিয়াল দার-ই-নাজাত © সংগৃহীত
মুক্তির পর আলোচনার তুঙ্গে পাকিস্তানি টিভি সিরিয়াল দার ই নিজাত। কখনো আবু বকর আবার কখনো জারিয়াব চরিত্রের সমালোচনা-প্রশংসায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভাসাচ্ছেন সিরিয়ালটির ভক্ত অনুরাগীরা। তবে চারদিকে যখন দার-ই-নিজাতের ব্যাপক জনপ্রিয়তা ঠিক তখনি এই চিত্রনাট্যের পেছনের গল্প ফাঁস করলেন লেখিকা উমেরা আহমেদ। তিনি জানান, টিভি সিরিয়াল নয় বরং উপন্যাসের আলোকে লেখা হয়েছিল দার-ই-নিজাতের গল্প।
সম্প্রতি একটি ডাইজেস্টে উমেরা আহমেদের লেখা পুরোনো একটি নোটও সামনে এসেছে। সেখানে ‘দার-ই-নিজাত’কে উপন্যাস হিসেবে লেখার তার প্রাথমিক পরিকল্পনার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এই পুরোনো নোটটি সামনে আসার পরই স্পষ্ট হয়েছে, ‘আক্স’ লেখার সময় তৈরি হওয়া একটি ধারণা কীভাবে পরবর্তীতে একটি সফল টেলিভিশন নাটকে রূপ নেয়।
এই তথ্য প্রকাশের পর নাটকটির চরিত্র ও গল্প নিয়েও দর্শকদের কৌতূহল আরও বেড়েছে। বিশেষ করে লেখিকা শুরুতে গল্পটিকে একটি সাহিত্যকর্ম হিসেবে কল্পনা করেছিলেন এবং সেখানে জটিল ব্যক্তিত্বের চরিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন—এ বিষয়টি দর্শকদের কাছে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আধ্যাত্মিকতা, নৈতিক প্রশ্ন এবং আবেগঘন গল্প বলার সমন্বয়ে ‘দার-ই-নিজাত’ দর্শকদের আকর্ষণ করে চলেছে। নাটকটির সাফল্য একই সঙ্গে দেখিয়ে দিচ্ছে, উমেরা আহমেদ কীভাবে চিন্তাশীল ও গভীর সাহিত্যিক ভাবনাকে টেলিভিশনের গল্পে রূপান্তর করে বৃহৎ দর্শকগোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারেন।
উমেরা আহমেদ তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘আক্স’ লেখার সময় কয়েক বছর আগে ‘দার-ই-নিজাত’-এর গল্পের ধারণা তৈরি করেছিলেন। ‘আক্স’ শেষ করার পর এটিকে নিজের পরবর্তী উপন্যাস হিসেবে লেখার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।
মজার বিষয় হলো, গল্পটির ধারণা তৈরি হলেও সেটি কখনো উপন্যাস হিসেবে প্রকাশিত হয়নি। উমেরা আহমেদ তখন জানিয়েছিলেন, তার পরবর্তী এই গল্পে আগের কাজের তুলনায় আরও জটিল চরিত্র এবং কঠিন একটি কাহিনি থাকবে।
শেষ পর্যন্ত সেই উপন্যাস আর লেখা হয়ে ওঠেনি। পরে উমেরা আহমেদ গল্পটিকে টেলিভিশনের জন্য নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে বহু বছর ধরে তার সৃজনশীল পরিকল্পনার মধ্যে থাকা একটি গল্প শেষ পর্যন্ত টেলিভিশনের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে আসে।
মুক্তির পর থেকে শক্তিশালী গল্প, জটিল চরিত্র এবং চিন্তাশীল বিভিন্ন বিষয়বস্তুর কারণে দর্শকদের মধ্যে সিরিয়ালটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। নাটকটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন শেহেরিয়ার মুনাওয়ার, দুরে ফিশান সেলিম ও নামির খান। অপ্রচলিত গল্প বলার ধরন এবং অভিনয়শিল্পীদের শক্তিশালী পারফরম্যান্স দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে।
দার-ই-নিজাত-এ বেশ কিছু সংবেদনশীল বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এসব বিষয় নাটকটির গল্পকে সাধারণ টেলিভিশন বিনোদনের গণ্ডির বাইরে নিয়ে গিয়ে দর্শকদের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে নাটকটিতে জিনা বা বিবাহবহির্ভূত যৌনসম্পর্কের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে কেন্দ্র করে আধ্যাত্মিকতা, অনুশোচনা, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং ধর্মীয় প্রদর্শনবাদের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
সিরিয়ালটিতে আবু বকর চরিত্রে অভিনয় করেছেন পাকিস্তানি অভিনেতা শেহরিয়ার মুনাওয়ার। এই চরিত্রের বিশেষত্ব তার শান্ত স্বভাব, সংযম, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও নৈতিক দৃঢ়তা। সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আবু বকর প্রতিশোধপরায়ণতা বা আক্রমণাত্মক আচরণের পরিবর্তে ধৈর্য, সহমর্মিতা ও বিবেককে প্রাধান্য দেয়।