পিএসসি © ফাইল ছবি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জটিলতা কেটেছে। ইতোমধ্যে এ নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে। তবে পরীক্ষা কবে আয়োজন করা হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।
পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ হাজার ১২২টি পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। যদিও প্রাথমিকভাবে পদের সংখ্যা ২ হাজার ১৬৯টি ছিল। তবে বিধিমালা সংশোধন করার ফলে পদ সংখ্যা কমে যায়। পরবর্তীতে প্রার্থীদের কাছে আবেদনগ্রহণ করে পিএসসি।
সূত্রের তথ্য বলছে, ৭ লাখের বেশি প্রার্থী প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পেতে আবেদন করেছেন। সে হিসেবে প্রতিটি পদের বিপরীতে ৬২৪ জনকে প্রতিযোগিতা করতে হবে। আবেদনগ্রহণ শেষ হওয়ার পর পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে পরীক্ষা নিতে পারেনি পিএসসি। সেই পরীক্ষা আয়োজনে আবারও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে এখনো বলার মতো কোনো অগ্রগতি হয়নি। পরীক্ষা বা অন্যান্য বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হলে পরবর্তীতে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।’
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে পিএসসির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রায় সাত লাখ প্রার্থীর পরীক্ষা নিতে ১১ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এছাড়া বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা ঢাকা কেন্দ্রে নেওয়া একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। সবকিছু মিলিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় লাগবে।’
পিএসসি জানিয়েছে, এই নিয়োগ পরীক্ষা হবে মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে। এর মধ্যে ৯০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষায় পাসের জন্য ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা পরবর্তী ধাপে ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে এবং বিদ্যালয়গুলোতে চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনতে দ্রুত এই আইনি জট খোলা জরুরি। আদালতের নির্দেশনা ও সরকারের বিশেষ উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।