ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিসিএস ক্যাডার, পিএসসির ১৩ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০০ AM
দুদকের লোগো

দুদকের লোগো © ফাইল ছবি

বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভুয়া সনদের মাধ্যমে ক্যাডার পদে নিয়োগের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ৬টি মামলার অনুমোদন দিয়েছে। আসামিদের মধ্যে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) ১৩ সদস্য ছাড়াও চাকরি পাওয়া ছয় ক্যাডার, সাবেক সচিব ছাড়াও ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক উপসচিবকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদন না করা সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও জালালিয়াতির মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজশে ২৯তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশের ছয় মাস পর ছয় প্রার্থীকে অবৈধভাবে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রশাসন ও পুলিশসহ অন্যান্য ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছেন আসামিরা। নিয়োগ পাওয়া ছয়জন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান না হয়েও ভুয়া সনদে চাকরি নিয়েছেন।

অনুমোদিত মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে নিয়োগ ও পরীক্ষা কার্যক্রমে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। অনুসন্ধান টিমের সুপারিশ অনুযায়ী আসামিদের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত পিএসসির সাবেক সদস্য ও কর্মকর্তারা
মামলার এজাহারে যাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও যোগসাজশে নিয়োগের অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন পিএসসির সাবেক সদস্য এ টি আহমেদুল হক চৌধুরী, অধ্যাপক সুরাইয়া বেগম, মির্জা শামসুজ্জামান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবিদুর রেজা খান, এহসান শামীম, অধ্যাপক রাশিদা বেগম, মোহাম্মদ হোসেন সেরনিয়াবাত, অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী, সৈয়দ হাসিনুর রহমান, ইকরাম আহমেদ, প্রফেসর ডা. ফরিদা আদিব খানম এবং মুহম্মদ লিয়াকত আলী খান।

​এ ছাড়া পিএসসির সাবেক সচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসান, সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আ ই ম নেছার উদ্দিন এবং তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব (বর্তমানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব) মো. লোকমান আহমদের বিরুদ্ধেও এই জালিয়াতিতে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসা জালিয়াতির সুবিধাভোগী ৬ কর্মকর্তার মধ্যে রকিবুর রহমান খান (প্রশাসন ক্যাডার) বর্তমানে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের উপসচিব হিসেবে কর্মরত। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের বাসিন্দা রকিবুর রহমান খান পিএসসির সদস্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের কোনো সনদপত্র না থাকা সত্ত্বেও ২৯তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পান। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে দণ্ডবিধি আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলার সুপারিশ করা হয়েছে।

একইভাবে প্রশাসন ক্যাডারের আরেক কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বর্তমানে জামালপুর জোনের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার (উপসচিব) হিসেবে কর্মরত আছেন। শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ, তিনি মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের সনদ ছাড়াই অসদুপায়ে প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি নিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধেও একই ধারায় মামলা অনুমোদিত হয়েছে।

​তালিকার তৃতীয় কর্মকর্তা নাহিদা বারিক (প্রশাসন ক্যাডার) বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের উপসচিব হিসেবে কর্মরত, যার স্থায়ী ঠিকানা ঢাকার ডেমরায়। তিনিও জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ২৯তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে।

পুলিশ ক্যাডারের খোরশেদ আলম বর্তমানে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ৬ এপিবিএনের পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে কর্মরত। কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের বাসিন্দা খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে কোনো বৈধ মুক্তিযোদ্ধা সনদ ছাড়াই প্রতারণার মাধ্যমে পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নিয়মিত মামলার সুপারিশ করা হয়েছে।

​এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সহকারী পরিচালক হালিমা খাতুন (পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডার) এবং ঝিনাইদহের সরকারি কেশব চন্দ্র কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিল্টন আলী বিশ্বাসও (সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার) একই অভিযোগে অভিযুক্ত।

ঝিনাইদহের শৈলকুপার বাসিন্দা হালিমা খাতুন এবং সদর উপজেলার বাসিন্দা মিল্টন আলী বিশ্বাস উভয়েই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে ও সনদপত্র ছাড়াই যথাক্রমে পরিবার পরিকল্পনা ও শিক্ষা ক্যাডারে চাকরি নিয়েছেন বলে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

ইরানের পাশে উত্তর কোরিয়া
  • ১১ মার্চ ২০২৬
ধর্ষণ মামলায় জামিনে মুক্তি পেলেন হিরো আলম
  • ১১ মার্চ ২০২৬
নওগাঁয় জাল সনদ ব্যবহার করা শিক্ষকদের বেতন প্রদান, প্রধান শ…
  • ১১ মার্চ ২০২৬
জামায়াত আমিরের সেই চিঠি প্রকাশ করতে চায় সরকার
  • ১১ মার্চ ২০২৬
হাসিনা পতনের ৫৮৪ দিন পর কাল বসছে কাঙ্খিত জাতীয় সংসদের প্রথম…
  • ১১ মার্চ ২০২৬
জুনের মধ্যেই ই-হেলথ কার্ড চালুর আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
  • ১১ মার্চ ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
22 April, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081