ইতিহাসবিদ ড. ইফতেখার ইকবাল রচিত ‘দ্য রেঞ্জ অব দ্য রিভার: আ রিভারাইন হিস্টোরি অব এম্পায়ার অ্যাক্রস চায়না, ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথইস্ট এশিয়া’ বই নিয়ে পাঠকসভা © টিডিসি ছবি
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের (এসএইচএসএস) উদ্যোগে ইতিহাসবিদ ড. ইফতেখার ইকবাল রচিত ‘দ্য রেঞ্জ অব দ্য রিভার: আ রিভারাইন হিস্টোরি অব এম্পায়ার অ্যাক্রস চায়না, ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথইস্ট এশিয়া’ বই নিয়ে পাঠকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পাঠকসভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বইটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন।
আলোচনা সভায় বইটির বিষয়বস্তু, নদীকেন্দ্রিক ইতিহাস এবং চীন, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে নদীর ভূমিকা ও সাম্রাজ্য বিস্তারের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক রিজওয়ানুল ইসলাম প্রারম্ভিক বক্তব্য প্রদান করেন। আইন বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক জনাব লোকমান হোসেন অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক এবং নদীনির্ভর ইতিহাস, রাজনীতি, ভূরাজনীতি, পরিবেশ ও আঞ্চলিক আন্তঃসম্পর্ক বিষয়ে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সূচনা বক্তব্যে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, স্টাডি সার্কেল বা পাঠকসভার মতো আয়োজন অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক সংযোগ ও পারস্পরিক আদান-প্রদান গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের অর্থবহ একাডেমিক আলোচনা উৎসাহিত ও গতিশীল করতে এসএইচএসএস নিয়মিত আলোচনাসভার আয়োজন করতে আগ্রহী বলে তিনি মতপ্রকাশ করেন। অধ্যাপক রিজওয়ানুল ইসলামের মতে, নদীর নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা যদি রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে তা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর ব্যাপক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ড. বাতেন তাঁর আলোচনায় তুলে ধরেন, ড. ইফতেখার ইকবাল নদীকে কেবল জলপ্রবাহ হিসেবে দেখেননি; বরং মানুষের জীবন, জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক শক্তি হিসেবে নদীকে উপস্থাপন করেছেন।
তিনি জানান, গ্রন্থটিতে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ নদী—ব্রহ্মপুত্র, ইয়াংসি, সালউইন, মেকং, রেড ও ইরাবতী—কে কেন্দ্র করে আলোচনা করা হয়েছে। এই নদীগুলো পরস্পরের সঙ্গে বিভিন্নভাবে সংযুক্ত এবং তিব্বতীয় হিমালয় থেকে তাদের উৎপত্তি।
ড. ইকবালের বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি আরো ব্যাখ্যা করেন, এশিয়ায় সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শক্তিগুলোকে স্থানীয় ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে নানা সময়ে সমঝোতা ও দরকষাকষির মধ্য দিয়ে এগোতে হয়েছে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল নদী ও নদীনির্ভর ভূপ্রকৃতির ওপর এসব জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক নিয়ন্ত্রণ ও জ্ঞান। তাঁর আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় ব্রহ্মপুত্র নদ। ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্রহ্মপুত্র যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে, তার বিস্তারিত বর্ণনা তিনি তুলে ধরেন। তবে নদীটির গুরুত্ব কেবল বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ভাবনা, চর্চা ও যোগাযোগের আদান-প্রদানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে কাজ করেছে।
পাঠকসভার একাংশে নদীর ওপর মানুষের হস্তক্ষেপ এবং এর বহুমাত্রিক প্রভাব বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ প্রসঙ্গে ড. বাতেন এসব অঞ্চলে নির্মিত বিভিন্ন বাঁধ ও জলনিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোর কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে ফারাক্কা ব্যারাজের উদাহরণ দিয়ে তিনি দেখান, এ ধরনের প্রকল্প ভাটির দেশগুলোর নদী, পরিবেশ এবং নদীনির্ভর মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর প্রভাব বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
উপস্থাপনার পর প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে অর্থপূর্ণ একাডেমিক আলোচনার পরিসর তৈরি হয়।