নর্থ সাউথে ‘অভিবাসনের অধিকার?’ শীর্ষক ওয়েবিনার © টিডিসি সম্পাদিত
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) মানবিক এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের আয়োজনে ‘অভিবাসনের অধিকার?’ শীর্ষক ওয়েবিনার অনুূষ্টিত হয়েছে। এই আলোচনায় উচ্চশিক্ষালয়টির শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং গবেষকসহ অভিবাসন ও নাগরিকত্ব বিষয়ে আগ্রহীরা অংশগ্রহণ করেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএইচএসএস কনফারেন্স রুমে এ ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় অতিথি বক্তা হিসেবে কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইনের হ্যান্স ও তামার ওপেনহাইমার চেয়ার অধ্যাপক ফ্রেডেরিক মেগ্রেট উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার উপস্থাপনায় অভিবাসনকে একটি অনুমিত অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে আলোকপাত করেন।
অধ্যাপক মেগ্রেট বলেন, বর্তমান বিশ্বে এই অধিকারের অনুপস্থিতি একটি ঐতিহাসিক অসংগতি, যা বৈশ্বিক অবিচারকে সহজতর করে। এই অবিচারের বিশ্বজনীনতা, উদারনৈতিক আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং উপনিবেশ-বিরোধী ন্যায়বিচারের ভিত্তিমূলে নিথিত।
তার মতে, এই অধিকারের অভাব একটি ‘ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করে, যা বর্তমান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তিনি আরো বলেন অভিবাসনসংক্রান্ত বর্তমান কাঠামো সম্পূর্ণ উন্মুক্ত সীমান্তের সমর্থন করেনা, বরং এতদসংক্রান্ত প্রমাণের দায় রাষ্ট্রের উপর স্থানান্তর করে।
আলোচনায় সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন এনএসইউর আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং এসএইচএসএসের ডিন মো. রিজওয়ানুল ইসলাম। ভিসা, অভিবাসন, শরণার্থী, অভিবাসী এবং আশ্রয়প্রার্থী-সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই সীমাবদ্ধ জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে মানবাধিকার-ভিত্তিক সার্বজনীন মূল্যবোধের দিকে মনোনিবেশ করা উচিত বলে তিনি মতপ্রকাশ করেন।
ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন এনএসইউর সহযোগী অধ্যাপক ও সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ (সিএমএস) এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেলের (আইকিউএসি) কো-অর্ডিনেটর ড. সেলিম রেজা।
প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা অধ্যাপক মেগ্রেটের সঙ্গে নাগরিকত্বের বাণিজ্যিকীকরণ, সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি সীমাবদ্ধকরণ এবং জলবায়ুজনিত অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।