অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন নিয়োগপত্র বঞ্চিত প্রার্থীরা। © টিডিসি ফটো
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে কারও সাক্ষাৎ পাননি। ফলে তারা শাহবাগে আন্দোলনস্থলে ফিরে গেছেন। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রাজধানীর শাহবাগে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন নিয়োগপত্র বঞ্চিত প্রার্থীরা।
শাহবাগে ফিরে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে প্রতিনিধিদলের একজন সদস্য বলেছেন, ‘ওইখানে (সচিবালয়ে) মন্ত্রী মহোদয়ও উপস্থিত ছিল না, সচিব মহোদয়ও উপস্থিত ছিল না। যখন আমরা কথা বলছি তখন কিন্তু ঠিকই বলছে সচিবের সাথে কথা বলায় দেবে। কিন্তু এমন কোনো কিছুই ঘটে নাই। এটা নিয়ে আমাদের একটা প্রহসন করা হলো। আমরাও কথা দিয়ে আসছি যে, আমাদেরকে নিয়ে যতই প্রহসন করেন, আমাদের জীবন কিন্তু এমনিতেই শেষ। আজকে চাকরি হবে না মানে, আপনার ভবিষ্যতে আর কোনো সরকারি চাকরি হবে না ভাই। এই ভেরিফিকেশনের রেড মার্ক থানাতেই থাকবে আপনার। আপনি যতই পরিশ্রমী হন, যতই ভালো ছাত্র হন, যতই মেধাবী হন, আপনার চাকরি আর হবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই কথা বলে দিয়ে আসছি ভাই, যে আমাদেরকে... আমরা এমনিতেই শেষ। আপনারা এসে প্রহসন করতেছেন, করেন। কিন্তু আমাদের কাছে যতটুকু আছে, এই জীবনটা আছে, এই জীবন দিয়ে আমরা রাস্তায় পইড়া থাকবো। এই কথাটা আমরা বলে আসছি। তো আপনারা অবস্থান ছাড়বেন না? কারণ এটা আমাদের জীবন-মরণের প্রশ্ন।
তিনি বলেন, ‘আমরা গিয়ে অনেক ছোট হয়ে আসছি। আমরা কথা দিয়ে আসছি যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমার একটা ভাই বাকি থাকবে—বিভিন্ন জায়গায় কিন্তু অনেক একটা ভুয়া নিউজ-টিউজও ছড়াচ্ছে। এটা ভুয়া না অথেনটিক জানি না, এগুলোতে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। কারণ এক ভাইয়ের হয়ে গেলো আপনি চলে গেলেন, ব্যাপারটা তো অন্য ভাইয়ের ভাই হয়ে গেলো। তো আমরা হচ্ছে সহযোদ্ধা। যতক্ষণ পর্যন্ত একজনের নিয়োগ বাতিল—এই স্থগিত থাকবে, ততক্ষন পর্যন্ত আমরা এই অবস্থান কি, ধরে রাখবো ইনশাআল্লাহ।’
এর আগে সকালে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন। পরে বেলা ১১টার দিকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নেন। সেখান থেকে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা হয়। তবে শিক্ষামন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের কারও সাক্ষাৎ না পেয়ে বেলা ৩টার পরে তারা সচিবালয় থেকে চলে যান।
আন্দোলনকারীদের দাবি, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও যারা নিয়োগপত্র পাননি, তাদের দ্রুত নিয়োগপত্র দিতে হবে। এ দাবিতে তারা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। ‘চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক-২০২৫’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ভেরিফিকেশনে সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে প্রায় ১৫ শতাধিক প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি।
বিভিন্ন জেলায় নিয়োগপত্র না পাওয়ায় এসব প্রার্থীর মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এদিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সভায় নিয়োগপত্র পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, ১ অক্টোবর পর্যন্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেলে পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া বলেও সভায় জানানো হয়।
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য তিন জেলা বাদে অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
পরে ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। জেলা অনুযায়ী উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। তবে বিভিন্ন জেলায় শত শত প্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবিতে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা।