প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বাদ পড়ার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জনসম্মুখে প্রকাশসহ ৫ দাবি প্রার্থীদের

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৬ PM
 প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলন

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলন © সংগৃহীত

চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ভেরিফিকেশনে প্রায় ১৫ শতাধিক প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি। এতে বাদ পড়ার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জনসম্মুখে প্রকাশসহ ৫ দাবি জানিয়েছে গত ৮ মাস ধরে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্‌ম ‘কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি ২০২৫’। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা এসব দাবি জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের দীর্ঘ আট মাসের প্রতীক্ষা, মানসিক নির্যাতন ও প্রশাসনিক টালবাহানার পর চরম অব্যবস্থাপনার নজির স্থাপন হয়েছে বলে আমরা মনে করি ।
প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই বা ‘ভেরিফিকেশন’-এর দোহাই দিয়ে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ব্যতিরেকে অসংখ্য যোগ্য প্রার্থীকে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ১৫০০ জনের নিয়োগপত্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইস্যু করা হয়নি বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এতে বলা হয়, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, নিয়োগপত্র বঞ্চিত প্রার্থীদের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না জানিয়ে এভাবে তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা কেবল অমানবিকই নয়, এটি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার ও ন্যায়সংগত প্রত্যাশার প্রশ্নও তৈরি করে। দীর্ঘ আটটি মাস ধরে এসব প্রার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্য সকল চাকরির সুযোগ ত্যাগ করেছেন । অনেকে পূর্বের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, কেউ নতুন চাকরিতে যোগদান না করে এই নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন । কারও বয়স এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নতুন করে সরকারি চাকরিতে আবেদন করার সুযোগ সীমিত বা শেষ হয়ে গেছে। অনেকের কাছে প্রাথমিক শিক্ষকতা শুধু একটি চাকরি -এটি ছিল স্বপ্নের পেশা ও জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ।

এতে আরও বলা হয়, এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের কারণে আজ অসংখ্য পরিবার আর্থিক ও মানসিকভাবে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। কারও উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে, কারও বাবা-মায়ের চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, আবার কেউ অনাহারে দিন কাটানোর মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা ও হঠাৎ নিয়োগপত্র না পাওয়ার ঘটনায় অনেক প্রার্থী চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানায়, রাষ্ট্রের একজন নাগরিকের জীবিকা, ভবিষ্যৎ এবং বহু বছরের পরিশ্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই অস্পষ্টতা, প্রশাসনিক ভুল কিংবা একতরফা সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত নয় । প্রতিটি প্রার্থীর বিষয় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগতভাবে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন ।আমরা স্পষ্ট করতে চাই—আমরা কোনো অনিয়মকারী বা অযোগ্য ব্যক্তির সুপারিশ করছি না । কিন্তু প্রশাসনিক ভুল, অসম্পূর্ণ তদন্ত, তথ্যগত ভুল কিংবা ব্যক্তিস্বার্থের বলি বানিয়ে কোনো নিরপরাধ ও যোগ্য প্রার্থীর জীবন নিয়ে খেলা করার অধিকার কারও নেই।

দাবিসমূহ: 

তাৎক্ষণিক পুনর্বিবেচনা: ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর নথি অবিলম্বে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পুনঃযাচাইযোগ্য প্রক্রিয়ায় পুনরায় যাচাই করতে হবে।

আপিল ও শুনানির অধিকার: তথ্যগত ভুল বা অসংগতির শিকার প্রার্থীদের নিজেদের নির্দোষিতা প্রমাণের জন্য আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং প্রশাসনিক আপিলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রশাসনিক ভুল সংশোধন: কোনো দপ্তর বা কর্মকর্তার গাফিলতি, ভুল তথ্য কিংবা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে কোনো প্রার্থী বাদ পড়ে থাকলে তা অবিলম্বে সংশোধন করে তাঁর নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

আটকে থাকা নিয়োগপত্র অবিলম্বে প্রদান: চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত অথচ এখনো নিয়োগপত্র না পাওয়া সকল প্রার্থীর বিষয়ে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং কোনো অযৌক্তিক কারণে এই প্রক্রিয়া আর বিলম্বিত করা যাবে না ।

দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণ:
পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো এবং কোন প্রক্রিয়ায় এতসংখ্যক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী বাদ পড়লেন—তার সুস্পষ্ট ও দায়িত্বশীল ব্যাখ্যা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।

কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও বহু বছরের কঠোর পরিশ্রমকে একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নস্যাৎ হতে দেওয়া যায় না। যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, তা সংশোধনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। যোগ্য প্রার্থীদের প্রাপ্য নিয়োগপত্র ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় বাদ পড়া প্রার্থীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম আরও কঠিন পর্যায়ে যেতে বাধ্য হবে।

আমরা চাই না, দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকা শিক্ষক প্রার্থীদের আবারও রাজপথে দাঁড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি হোক। রাজপথ শিক্ষকদের থাকার জায়গা নয়; শ্রেণিকক্ষই শিক্ষকদের প্রকৃত কর্মক্ষেত্র। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের আহ্বান —আরেকবার রাজপথে নামার সুযোগ তৈরি করবেন না। আলোচনার মাধ্যমে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এবং ন্যায়সংগতভাবে এই সংকটের সমাধান করুন।  

কেউ শান্তি মিশনে, কেউ সন্ত্রাসীদের হাতে হারিয়েছেন প্রাণ— তা…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
১৭ বছর পর রাষ্ট্রীয় আয়োজনে আগামীকাল পালিত হবে, আওয়ামী লীগ স…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
কংগ্রেসে ধাক্কা খেলেও পররাষ্ট্রনীতিতে কমেনি ট্রাম্পের আধিপত…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় মিলল ৩ জনের মরদেহ, উদ্ধার…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
‘বরবাদ’ সিনেমার নির্মাতার সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন, মুখ খুললেন …
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
২০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলায় আদালতে নোরা ফাতেহি
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950