রুমিন ফারহানা © ফাইল ফটো
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের মনোজাগতিক যে পরিবর্তন এসেছে তাতে আগামীতে দুটি দল দেখছি— একটা জামায়াত, আরেকটা আওয়ামী লীগ। এটার বাখ্যা ও যৌক্তিকতাও তুলে ধরেন তিনি। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা এমন বাখ্যা ও যৌক্তিকতা তুলে ধরেন স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্য।
রুমিন ফারহানা বলেন, আপনি যদি আমাকে লং রানে দেখতে বলেন, আমি জানি বিএনপির ভাইরা দুঃখ ও কষ্ট পাবেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের মনোজাগতিক যে পরিবর্তন এসেছে। তাতে আমি আগামীতে দুটি দল দেখি—একটা জামায়াত, আরেকটা আওয়ামী লীগ। আমি যে কথাটা বলছি আমি রিকোয়েস্ট করবো আমার দর্শককে যে কথাটা আপনারা ভাববেন।
তিনি বলেন, কথাটা আপনারা এমনভাবে নেবেন না যে, বিএনপি মানে খুব ইজি কোশ্চেন। ও বিএনপি মনোনয়ন দেয় নাই। রুমিন বিএনপিকে পছন্দ করে না। এজন্য বিএনপি রুমিন বলছে। না, আমি বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করি এবং করব। রাজনীতিবিদ হওয়াটাই আমার লক্ষ্য, এমপি ও মন্ত্রী না। সুতরাং আমি এটা নিয়ে এটা এটা আমার ২৪ ঘণ্টার চর্চা। তাই সেই জায়গা থেকে আপনি যদি ফিউচার ফোর্সি করতে বলেন, এগেইন আমি বলব ফিউচার একমাত্র আল্লাহর হাতে। কিন্তু তারপর আপনি যদি আমাকে ফোর্সি করতে বলেন যে আমি কি দেখি আমার ক্যালকুলেশন ইকুয়েশন কি বলে?
তিনি আরও বলেন, একদিকে যাবে লেফট ফোর্সটা। সেন্টার লেফট টু লেফট। আওয়ামী লীগ এবং বাম দল। তারা একটা শক্তি হিসেবে দাঁড়াবে। আরেকদিকে থাকবে জামায়াত এবং অন্যান্য যে রাইট উইং পার্টিগুলো তারা। হেফাজত কিন্তু আরেকটা বড় শক্তি তৈরি করছে। আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন। সেখানে সাতটা দল আছে এবং তারা বলছে যে তারা এখন একটা একক ফোর্স হিসেবে বাংলাদেশের মাটিতে তারা তাদের উত্থান চায়। সুতরাং অদুর ভবিষ্যতে যদি এই হেফাজতের সাথে ইসলামিক ঐক্যের ভিত্তিতে জামায়াতের কোনোরকম কোনো নেগোসিয়েশন হয় যেটা আজকে হয়তো অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে।
‘‘যেটা একেবারে অসম্ভব মনে হচ্ছে। কারণ ওরা বলছে এদের ইসলাম ঠিক না এরা বলছে ওদের ইসলাম ঠিক না। হ্যাঁ তারপরেও যদি রাজনৈতিক ঐক্য হয় আপনি বলেন তাহলে বিএনপির পায়ের নিচের ভিতটা কোথায় যাবে। কারণ এরা তো আওয়ামী লীগের ভোট না। আওয়ামী লীগের যেটা ভোট ওটা আলাদা। ওটা আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক না। এরা কিন্তু বিএনপির ভোট ব্যাংক। তাহলে এই হেফাজতের সাতটা, কাওমি মাদ্রাসা, প্লাস যদি জামায়াতে ইসলাম রাজনৈতিক ঐক্যে যায়, ধর্মীয় ঐক্য না। ধর্মের ঐক্যে তাদের আকাশ পাতাল পাথক্য। রাজনৈতিক ঐক্যে যায় ভবিষ্যতে থাকিয়ে দেখেন বিএনপি স্লিম হয়ে যাবে। বিএনপির একটা গুড চাঙ্ক অফ ভোট রাইট ফোর্সের কাছে চলে যাবে। আমরা জামায়াত বা হেফাজত না বলি রাইট ফোর্সের কাছে চলে যাবে। তাই আগামী দিনের রাজনীতি এইভাবে দুই ভাগে বিভক্ত।’’
জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতের জন্য কঠিন হবে। তবে পারবে না এটা আমি মনে করি না। ঠিক যেই কারণে আপনি বিজেপিরটা বললেন জামায়াতের ব্যাপারে আমার একই কথা একই হিসাব মাথায় আসে। ওরা খুবই অর্গানাইজড। দলীয় শৃঙ্খলা চমৎকার। আমি যতদূর বাইরে থেকে জানি। আমি তো আর ভেতরে জানি না। ওনাদের দলের ভেতরে যেই ভোটাভোটি হয় সেটার ভিত্তিতেই পদ নির্ধারিত হয়। এমপি ইলেকশন কে করবে না করবে সেটা নির্ধারিত হয় এবং নমিনেশনের সময় টাকা পয়সার লেনদেনের অভিযোগ শোনা যায় না।
‘‘রাদার ভোটে নাম এসছে এলাকায় জরিপ কার নাম বলছে তার উপর এই সিদ্ধান্তগুলো হয় এবং খুব গুরুত্বপূর্ণ। জামায়াতের একেবারে একেবারে রুটে যে কাজ করে রুট লেভেলে যে আছে তারও যেমন মাসের ইনকামের একটা ছোট্ট অংশ জামায়াতকে দিতে হয় একেবারে টপে আমিরের যিনি আছেন আমিরে জামায়াত উনিও কিন্তু তার আয়ের একটা ক্ষুদ্র অংশ দলে ডোনেট করেন। সেই সঙ্গে তো তাদের ইন্টারন্যাশনাল বেক আপ আছেই। এর ফলে যেটা হয় একজন কর্মী যদি জেলে যান বা তার পরিবার যদি দুর্দশায় পড়ে বা দলীয় কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন তখন কিন্তু দল হিসেবে জামায়াত তার পাশে গিয়ে শক্তভাবে দাঁড়ায়।’’
রুমিন ফারহানা বলেন, এই সকল কিছু কিন্তু তৃণমূলে দলটির একটি শক্ত ভিত্তি ধীরে ধীরে তৈরি করছে। দুই হচ্ছে একটা দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছেলে জামায়াত পিক করে। তাকে বিদেশে পড়াশোনা করায়। আমি নাম বলতে পারি কিন্তু আমি বলবো না। কারণ আমাদেরই পরিচিত লোকজন আমি কাউকে টেলিভিশনে আমি হেনস্তা করতে আসিনি। আমি বরং এই ডিসিশনটাকে সম্মান করি। ছেলেটা হয়তো মেধাবী সে পড়তে পারতো না বিদেশে। সে ব্যারিস্টার হইতে পারতো না। কিন্তু জামায়াত তাকে ব্যারিস্টার করে নিয়ে আসে। এই যে ছেলেটার একটা ইন্টিগ্রিটি একটা কৃতজ্ঞতা তৈরি হয় দলটার প্রতি। তখন ছেলেটা কি করে? ছেলেটা জামায়াতের নেতাকর্মীদের মামলা ফ্রি করে বা কম ফিতে করে।
‘‘জামায়াতের একটা ছেলে যখন বিবিএ-এমবিএ কমপ্লিট করে জামায়াতের একটা ব্যাংকে তার জব হয়। এমবিবিএস কমপ্লিট করে জামায়াতের একটা হাসপাতালে তার জব হয়। এটা একটা ইকোসিস্টেমট। অরগানাইজ ম্যানার সেটা কাজ হয়। সে কারণেই আমি খুব অবাক হব না যদি না আওয়ামীলীগ-বিএনপি তাদের যার যার অবস্থান সংশোধন করে এক।’’