দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে ‘গোপন আলাপ’ ফাঁস, বিএনপি নেতাকে শোকজ © সংগৃহীত
পটুয়াখালীর বাউফলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অডিওটি প্রকাশের পর বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী এটিকে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রমাণ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
এরই মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আপেল মাহমুদ ফিরোজকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি। শনিবার (২২ আগস্ট) জেলা বিএনপির অফিসিয়াল নোটিশে তাকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত বাউফল উপজেলা বিএনপির রাজনীতি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীর কাছে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হওয়ার পর থেকেই দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও নেতা-কর্মীদের একাংশের বিরোধিতার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। নতুন করে অডিও রেকর্ডটি ছড়িয়ে পড়ায় সেই বিরোধ ফের প্রকাশ্যে এসেছে।
প্রচারিত অডিওতে আপেল মাহমুদ ফিরোজের কণ্ঠ বলে দাবি করা ব্যক্তিকে স্থানীয় বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ, ভোটের মাঠে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাজে লাগানো এবং অর্থের ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি ‘ঘরে ঘরে যাওয়ার’ কথা বলেন এবং কয়েকটি এলাকায় নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ‘ধরার’ নির্দেশনাও দেন বলে অডিওতে শোনা যায়।
এ ছাড়া কথোপকথনে দলীয় প্রার্থীর পরিবর্তে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করা, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আ স ম ফিরোজের ভাই ও ভাতিজাসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং ভোটের হিসাব-নিকাশ নিয়ে বিভিন্ন ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য রয়েছে। তবে অডিওতে যার সঙ্গে আপেল মাহমুদ ফিরোজ কথা বলছেন তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ। তিনি বলেন, বিএনপি বা ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে তিনি কখনো কাজ করতে পারেন না। নির্বাচনের সময় সার্বক্ষণিক দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আপেল মাহমুদ ফিরোজের দাবি, আসন্ন পৌর নির্বাচন ও উপজেলা বিএনপির কমিটি ঘিরে তার অবস্থান ভালো থাকায় একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে এসব অডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে, কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। লিখিত জবাব পাওয়ার পর এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, অডিওতে থাকা কন্ঠস্বর এবং কথার ধরণ হুবহু আপেল মাহমুদ ফিরোজের সঙ্গে মিললেও কোনো এক্সপার্টের মাধ্যমে যাচাই করা হয়নি।