সারজিস আলম
হাসপাতালে ছাত্রশক্তি নেতা আলিফ ইনসেটে সারজিস আলম © সংগৃহীত
হবিগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা সংগঠক আলিফ চৌধুরী এক চোখ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।
পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, মঙ্গলবারের হামলার সময় ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা ১৮ বছর বয়সী আলিফ চৌধুরীর চোখে রড দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল।
তবে হাসপাতালের গেটের সামনেও হামলাকারীরা তাদের ওপর আবারও আক্রমণ চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সে সময় আলিফের চোখ থেকে অঝোরে রক্ত ঝরছিল। এমনকি প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ারও সুযোগ পাওয়া যায়নি।
সারজিস আলম আরও বলেন, পরে দ্রুত আলিফকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিনি জানান, বুধবার ভোরে কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, আলিফের একটা চোখের দৃষ্টি টোটালি শেষ! দ্রুত ঢাকায় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান হসপিটালে নিয়ে অপারেশনের ব্যবস্থা করুন।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতা-কর্মীদের মারধরের ঘটনা ঘটে। এ হামলার জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপিকে দায়ী করেছে এনসিপি। পরে সন্ধ্যায় শহরে এনসিপি প্রতিবাদ মিছিল বের করলে আরেক দফা সংঘর্ষ হয়। এসব ঘটনায় এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহর সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হলে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তার গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে সার্কিট হাউসে পৌঁছে যান।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে এনসিপি ও ছাত্রদল-যুবদলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি
কিছুক্ষণ পর পেছনে থাকা সারজিস আলমের গাড়িকেও ধাওয়া করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে তার গাড়ি শহরের সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ভবনটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
এনসিপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে এনসিপির মিডিয়া টিম বহনকারী একটি মাইক্রোবাস সার্কিট হাউসে প্রবেশ করলে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় সাংবাদিকদের মুঠোফোন ও ক্যামেরাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মী হকিস্টিক, রামদা, চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাব উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর কোনো ভূমিকা নেয়নি। হামলায় তাদের মিডিয়া টিমের সদস্য, চালক ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা গুরুতর আহত হয়েছেন। কারও হাত-পা ভেঙে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে হামলার খবর পেয়ে প্রতিরোধ করতে গেলে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
তবে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন, এনসিপি নেতারা সমাবেশে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। সেই বক্তব্যের কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।