জামায়াত এমপির ইস্যুতে কুৎসিতভাবে ডিফেন্ড করবে শিবির-ছাত্রীসংস্থা: ছাত্রদল নেতা আবিদ

২১ জুলাই ২০২৬, ০৭:১১ PM
আবিদুল ইসলাম খান। 

আবিদুল ইসলাম খান।  © টিডিসি সম্পাদিত

জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিওর ঘটনায় মন্তব্য করেছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। 

ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘এই ঘটনাটি শিবির ও ছাত্রীসংস্থার জন্যেও একটা লিটমাস টেস্ট। তারা নাকি জামাতের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি করে না। কিন্তু আপনি দেখবেন না, শিবিরের কেউ এই বিষয়ে মুখ খুলছে। পারলে উল্টো খুবই কুৎসিত পদ্ধতিতে ডিফেন্ড করবে।’ 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফেসবুকে দেওয়া আবিদুল ইসলাম খানের পোস্ট হুবহু তুলে দেওয়া হলো, ‘‘জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও ফাঁস হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রিউমর স্ক্যানার নিশ্চিত করেছে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি নয়, বাস্তব। ভিডিওতে থাকা নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেছে জেলা জামায়াত, যদিও এই বিয়ে ঠিক কবে হয়েছে তা নিয়ে দলটির নিজস্ব বক্তব্যেই স্পষ্টতা নেই।

একজন সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটা গুরুতর এবং জবাবদিহিতার দাবি রাখে। পৃথিবীর যে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন বিতর্ক উঠলে তার জনপ্রতিনিধিত্বের নৈতিক ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তিনি হয়তো প্রাইভেসি লঙ্ঘনের শিকার হতে পারেন কিন্তু একই সাথে তার এমন অনৈতিক আচরণ নিয়ে জনপরিসরে জবাবদিহিতার প্রশ্ন উঠতে পারে - বুঝতে হবে এই দুটো বিষয় পরস্পরবিরোধী নয়।

এই ব্যক্তির নির্বাচনের আগেও নারী বিদ্বেষী মনভাব দেখা গেছে। তার নির্বাচনী বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার খুঁজলে পাবেন। তবে তা নিয়ে কিছু বলার নেই, কারণ এই নারী বিদ্বেষী কথাবার্তাই তাদের দলীয় অবস্থান। তবে প্রশ্ন হলো এই অনৈতিক কর্মও কী তাদের দলীয় অবস্থান? তা না হলে দলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো একশন নেই কেন? 

এই ঘটনাটি শিবির ও ছাত্রীসংস্থার জন্যেও একটা লিটমাস টেস্ট। তারা নাকি জামাতের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি করেনা। কিন্তু আপনি দেখবেন না শিবিরের কেউ এই বিষয়ে মুখ খুলছে। পারলে উল্টো খুবই কুৎসিত পদ্ধতিতে ডিফেন্ড করবে। 

এখানে সবচেয়ে জরুরি হলো স্পষ্টতা। বিয়ের প্রামাণ্য দলিল, তারিখ, নিকাহনামা বা নারীর পরিচয় সংক্রান্ত কোনো স্বচ্ছ তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মেয়েটি একজন মাইনর। যদি মেয়েটি প্রাপ্ত বয়স্ক ও তাকে নিয়ম অনুযায়ী বিয়ের দাবি সত্য হলে তার আইনি প্রামাণ্য দলিল প্রকাশ করতে সমস্যা কোথায়? 

আর যদি এই বিয়ের দাবিতে কোনো অসংগতি থাকে, বিশেষ করে ওই নারীর বয়স বা সম্মতি নিয়ে, তাহলে তা কেবল ব্যক্তিগত বিষয় থাকে না, আইনি তদন্তের বিষয়ে পরিণত হয়। এখানে স্বাভাবিক বিবেকেই বোঝা যাচ্ছে সম্পর্কটি ব্যালেন্সড নয়, এখানে একদিকে দুর্বল মাইনর আরেকদিকে ক্ষমতাবান এমপি। প্রশাসনের উচিত এই দাবির সত্যতা যাচাই করা এবং যদি কোনো বয়সজনিত বা সম্মতিহীনতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা ফৌজদারি আইনের আওতায় বিচার হওয়া উচিত, পদ বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে।

জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় সংসদ উভয়েরই উচিত এই বিষয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ অবস্থান নেওয়া। নীরবতা বা অস্পষ্ট বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। জনগণের সামনে জবাবদিহিতা এড়িয়ে যাওয়া একটি রাজনৈতিক দলের নৈতিক অবস্থানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

বাই দ্য ওয়ে, কারও ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও তার সম্মতি ছাড়া ফাঁস হওয়া একটি অপরাধ এবং প্রাইভেসি লঙ্ঘন। এই নিন্দা জামায়াতের এমপি হোক বা অন্য যে কোনো দলের নেতা হোক, কোনো ব্যতিক্রম হতে পারে না। কিন্তু দিনশেষে এটি একজন পার্লামেন্টারিয়ানের চরম নৈতিক অসততা প্রকাশ্যে এনেছে। এটাও মাথায় রাখা জরুরী।’’

কখনো প্রশাসন, কখনো বা পুলিশ ক্যাডার—ভুয়া পরিচয়ে তরুণীদের সঙ…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
  • ২১ জুলাই ২০২৬
সিটি ব্যাংকে চাকরি, আবেদন ২৮ জুলাই পর্যন্ত
  • ২১ জুলাই ২০২৬
এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনবে সরকার, চুক্তি আগস্টে
  • ২১ জুলাই ২০২৬
গুলশানে ঢাবির আওয়ামীপন্থী অধ্যাপকের ‘বাসার ছাদ থেকে পড়ে’ গ…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
দুই দফায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েও মেলেনি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, সেবা বঞ্চি…
  • ২১ জুলাই ২০২৬