চট্টগ্রামে পানিবন্দী মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে নাহিদ ইসলাম © সংগৃহীত
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বন্যা ও জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ৩ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের দোভাষী বাজার এলাকায় বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘যে কারণেই হোক, সরকার পারছে না। এখন দোষ দিয়ে লাভ নাই। মূল জিনিস হচ্ছে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।’ তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় দল-মত নির্বিশেষে সামর্থ্যবান ব্যক্তি, ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও বাজেট নিয়ে বারবার কথা বলছি। কক্সবাজার, পার্বত্য অঞ্চল ও চট্টগ্রামে যখনই বৃষ্টি শুরু হয়েছে, আমরা বিষয়টি সংসদে তুলেছি। ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ব্যবস্থার কথা বললেও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তায় নাখোশ বলে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। আমরা আশা করি, সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে।
উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা আগে থেকেই এখানে কাজ করছেন। এসে দেখলাম, পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে কয়েক শ পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। অথচ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনের কাউকে এখানে দেখা যায়নি। মানুষ প্রয়োজনীয় ত্রাণও পায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বেড়িবাঁধ সমস্যার কথা জেনেছেন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বেড়িবাঁধের নামে বরাদ্দ হওয়া কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। তবে এবার বাজেটে এ খাতে যে অর্থ রাখা হয়েছে, তার একটি টাকাও দুর্নীতি বা লুটপাট হতে দেওয়া হবে না। সংসদে আমরা বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরব, যাতে বরাদ্দের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করে দ্রুত বাঁধের কাজ শেষ করা হয়।
চট্টগ্রামের পাশাপাশি ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি জানান, আনোয়ারার পর বাঁশখালীসহ অন্যান্য বন্যাদুর্গত এলাকাতেও দলের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
ত্রাণ বিতরণকালে স্থানীয়দের উদ্দেশে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকায় চিকিৎসাসহ জরুরি যেকোনো প্রয়োজনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জুবাইরুল আলম মানিক সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।
এ সময় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফিসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।