খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-লংগদু সড়ক যোগাযোগ © টিডিসি
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পাঁচ দিন বিচ্ছিন্ন থাকার পর আবারও চালু হয়েছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার সঙ্গে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার সড়ক যোগাযোগ। মেরুং হেডকোয়ার্টার সড়কের ওপর জমে থাকা বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটলেও বন্যার রেখে যাওয়া ক্ষতচিহ্ন মুছতে এখনও সংগ্রাম করছেন হাজারো মানুষ।
গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় সড়ক যোগাযোগ, স্থবির হয়ে পড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জনজীবন। তবে গত দুই দিন ধরে বৃষ্টির তীব্রতা কমে যাওয়ায় বন্যার পানি দ্রুত নামতে শুরু করেছে। এর ফলে প্লাবিত এলাকাগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে।
সরেজমিনে উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া অনেক পরিবার নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। কিন্তু ঘরে ফিরে তাদের অপেক্ষা করছে নতুন চ্যালেঞ্জ। ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও আঙিনাজুড়ে জমে থাকা পলি ও কাদা পরিষ্কার করতেই ব্যস্ত সময় কাটছে ক্ষতিগ্রস্তদের। অনেকের আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।
মেরুং বাজারের আফছার কুলিং কর্নারের মালিক মো. আফছার বলেন, বন্যার কারণে প্রায় এক সপ্তাহ দোকান বন্ধ ছিল। পানিতে তলিয়ে মালামালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ব্যবসা বন্ধ থাকায় বড় ধরনের আর্থিক লোকসান গুনতে হয়েছে। আজ সারাদিন দোকানের পলি ও কাদা পরিষ্কার করেছি, দ্রুত আবার ব্যবসা শুরু করার চেষ্টা করছি।
কবাখালী এলাকার বাসিন্দা মো. শাহের আলী জানান, বন্যার পানিতে তার ঘর তলিয়ে যাওয়ায় সেখানে বসবাস করা সম্ভব হচ্ছে না। ঘরের মালামাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। দিনমজুর হওয়ায় কয়েকদিন ধরে কাজও বন্ধ রয়েছে। এখনো কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি বলে জানান তিনি।
খোঁজ নিয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় উপজেলার প্রায় তিন কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি আউশ ও আমন ধানের বীজতলা, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির ক্ষেত এবং অসংখ্য মাছের পুকুরেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক থেকে দুই দিনের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিরূপণ করা হবে।
এদিকে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তারা বন্যাকবলিত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি ত্রাণ সহায়তাও অব্যাহত থাকবে।