রুহুল কবির রিজভী © সংগৃহীত
‘অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ জামায়াতে ইসলামীতে আশ্রয় নিয়েছে’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রবিবার (৩১ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।
রিজভী বলেন, ফেনীতে চাঁদাবাজির অভিযোগে জামায়াত নেতা বহিষ্কার হওয়ার ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে জামায়াতের মধ্যেই চাঁদাবাজ আছে। তারা যেভাবে ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের মধ্যে গুপ্ত হয়ে থেকেছে, ঠিক তেমনি জামায়াতের মধ্যেও গুপ্ত হয়ে চাঁদাবাজরা আছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এদেশের মানুষ ধর্মভীরু। তবে তারা জামায়াতকে পছন্দ করে না।
রিজভী বলেন, আপনারা (জামায়াতে ইসলাম) একটা আরবি শব্দ ব্যবহার করেন। চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি না বলে আপনারা সেটাকে হাদিয়াবাজি করেন, ইয়ানতবাজি করেন। আরবী শব্দ দিয়ে ওটাকে একটা কাভার দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই হাদিয়াবাজি-ইয়ানতবাজি আপনারা কম করেন না।
বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে দলীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় দাবি করে রিজভী বলেন, রাজনৈতিক দলে নানা ধরনের লোক ঢুকে পড়তে পারে, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় কি না। বিএনপির মধ্যে ৫ আগস্টে এই ধরনের কিছু কর্মকান্ড হয়েছে আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে শত শত নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছেন, দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে শোকজ করা হয়েছে …কেউ বাদ যায়নি। শক্তিশালী নেতা থেকে শুরু করে একবারে তৃণমূল পর্যন্ত কেউ বাদ যায়নি।’
রিজভী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দলটি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। তাই নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ বা প্রশ্নাতীত দাবি করার সুযোগ নেই। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও যেসব ঘটনা এখনও সামনে আসেনি, সেগুলোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দলটির ভেতরে রয়ে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা দেখেই জামায়াত বড় বড় কথা বলছে। তবে দেশের মানুষের মানসিকতা তারা সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারেনি। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও জামায়াতের রাজনীতি পছন্দ করে না, একই সঙ্গে অতিরিক্ত ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ডও সমর্থন করে না।