নিজেদের ভুলে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব হারাচ্ছে এনসিপি?

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৭ PM , আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৪ AM
 মনিরা শারমিন  ও নুসরাত তাবাসসুম

মনিরা শারমিন ও নুসরাত তাবাসসুম © সংগৃহীত

দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলে আইনি জটিলতা ও সময়জ্ঞানহীনতার কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিনিধিত্ব থাকা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)।

সরকারি চাকরি থেকে অবসরের সময়সীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং নির্ধারিত সময়ের পরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার মতো ভুলের কারণে দলটির প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। এর ফলে এনসিপির জন্য বরাদ্দ থাকা একটি আসন আপাতত শূন্য ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ইসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতারা। গত ২২ এপ্রিল এক ফেসবুক পোস্টে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন থেকে নয়, গুলশান থেকে হয়।

যদিও আইনি পথেই বিষয়টি সমাধান করতে চায় দলটি। এনসিপির প্রার্থী মনিরা শারমিন হাইকোর্টে যাবেন বলে জানিয়েছেন। আর অপর প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন গ্রহণ করতে কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। 

আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে কমিশন। তিনি গত ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কৃষি ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করেন তিনি এবং ওই বছরের মার্চেই এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার মাত্র ৫ মাসের মাথায় সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন নেওয়ায় তার প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়।

নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্মসচিব মঈন উদ্দিন খান এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা সংরক্ষিত মহিলা আসন সংক্রান্ত আইন এবং আরপিও-এর প্রাসঙ্গিক ধারাগুলো পর্যালোচনা করেছি। এতে দেখা যায়, মনিরা শারমিন কৃষি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন, যা একটি স্ট্যাটুটরি পাবলিক অথরিটি বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১২-এর (১)(চ) ধারা অনুযায়ী, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়া বা অবসর নেওয়ার পর কমপক্ষে তিন বছর অতিক্রান্ত হতে হয়। কিন্তু তার ক্ষেত্রে তিন বছর পার হয়নি। বিধায় এই মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হলো।’

মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্রটি যাচাই-বাছাইয়ের দিন বাতিল করা হলে তিনি কমিশনের কাছে আপিল করেছিলেন। তবে শুনানিতে আইনি ভিত্তি না থাকায় তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।

এর আগে গত রোববার আপিল আবেদন জমা দেওয়ার পর মনিরা শারমিন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আপিলে রায় পক্ষে না গেলে হাইকোর্টে যাবেন তিনি।

অন্যদিকে, মনিরা শারমিনের বিকল্প হিসেবে এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তিনি নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টার ১৯ মিনিট পর তা দাখিল করেন। এই দেরির কারণে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নও বাতিল ঘোষণা করে। রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন খান জানান, ‘যদি কোনো প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের পরে মনোনয়ন ফরম জমা দেন, তবে তা আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই।’

তবে নির্বাচন কমিশনকে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) তিনি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন। পরে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার–এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনের শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত জানান।

এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, দলীয় জায়গা থেকে আমরা চাই মনিরা শারমিন ও নুসরাত তাবাসসুম—উভয় প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হোক। নুসরাত তাবাসসুমের ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র গ্রহণই করা হয়নি, যার বিরুদ্ধে আমরা আইনি লড়াই করেছি। অন্যদিকে মনিরা শারমিনের মনোনয়ন গ্রহণ করা হলেও পরে তা বাতিল করা হয়েছে। মনিরা শারমিনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, একই ধরনের অভিযোগ আরও কয়েকজন প্রার্থীর ক্ষেত্রেও রয়েছে। তবে সেসব ক্ষেত্রে সমানভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, যা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা বজায় রেখে বিষয়টি মোকাবিলা করুক এবং একই ধরনের অভিযোগে সকল প্রার্থীর ক্ষেত্রে সমান সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক।

নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন গ্রহণের হাইকোর্টের নির্দেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদালত ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন বিষয়টি ‘অন মেরিট’ বিবেচনার জন্য। অতীতে বিলম্বে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরও তা গ্রহণের নজির রয়েছে। শেরপুরের একটি উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিলম্বে জমা দেওয়ার পরও সেখানে মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছিল। আদালত ১৯ মিনিট বিলম্বের বিষয়টিকে বিলম্ব হিসেবে না দেখে ‘অন মেরিট’ মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। আইনে মনোনয়ন জমাদানের  নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ নেই, কেবল তারিখ উল্লেখ রয়েছে। ফলে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে জমা দিলে তা গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই নির্বাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতা বজায় রাখুক। এটি নিশ্চিত করা গেলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হবে। নতুবা অতীতের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার করায়ত্ত করলে, তা দেশকে আবারও কর্তত্ববাদের দিকে ধাবিত করবে।

এদিকে আইনি জটিলতার বিষয়ে জানতে চাইলে মানবাধিকার সংগঠন রাইজ ফর রাইটস ফাউন্ডেশন–এর প্রেসিডেন্ট ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, নুসরাত নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছিলেন। হাইকোর্ট তার আবেদন গ্রহণ করে আজ তাকে প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে নির্বাচন কমিশন এই আদেশে সংক্ষুব্ধ হলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করতে পারে। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের আদেশই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। আর যদি ইসি আপিল না করে, তবে নুসরাতের প্রার্থিতা ফিরে পেতে আইনগত কোনো বাধা থাকবে না। এছাড়া মনিরা শারমিন যদি মনে করেন তিনি নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে যথাযথ প্রতিকার পাননি, তাহলে তিনিও ওই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করতে পারেন।

ইসি বলছে, দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে একটি আসন ফাঁকা থাকবে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির উপসচিব মো. মনির হোসেন জানান, ‘যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো আসন শূন্য থাকে, তাহলে পরবর্তীতে তা উন্মুক্ত হয়ে যাবে। জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী, বাতিল হওয়া আসনটি পরে উন্মুক্ত হয়ে যাবে। সেই আসনের নির্বাচনে তখন সব জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবে।’

রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন খান আরও জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বলে গৃহীত হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের জমা দেওয়া ৩৬টি মনোনয়নপত্রের সবগুলোই বৈধ হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট ১৩টি মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ১২টি বৈধ এবং এনসিপির ১টি বাতিল করা হয়েছে।

এমসি কলেজের নতুন অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ তোফায়েল আহাম্মদ
  • ১৯ মে ২০২৬
বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় শক্তিশালী শান্তিরক্ষা ব্যবস্থার…
  • ১৯ মে ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮ বিষয়ে রচিত হবে নতুন পাঠ্যপুস্তক…
  • ১৯ মে ২০২৬
অটোরিকশার ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু, গ্রেপ্তার ১
  • ১৯ মে ২০২৬
সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে রোবোটিক্স প্রতিযোগিতা ‘ট্র্যাকস্টর্…
  • ১৯ মে ২০২৬
‘জুলাইয়ের গ্রাফিতি অংকনে পুলিশ কেন বাধা দেয়’ প্রশ্ন ঢাকা কল…
  • ১৯ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081