দীর্ঘ দেড়যুগ পর স্বাধীনতা দিবসে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ

২৬ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৩ PM
দীর্ঘ দেড়যুগ পর জাতীয় প্যারেড ময়দানে অনুষ্ঠিত হলো কুচকাওয়াজ 

দীর্ঘ দেড়যুগ পর জাতীয় প্যারেড ময়দানে অনুষ্ঠিত হলো কুচকাওয়াজ  © সংগৃহীত

দীর্ঘ দেড় যুগ পর স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় প্যারেড ময়দানে হল সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হল। আর অভিবাদন মঞ্চ থেকে সালাম গ্রহণ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুচকাওয়াজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

মিলিটারি পুলিশের সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রাসহ ১০টার দিকে প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত হন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ -জামান, নৌ বাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী।

এর আগে ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্যারেড মাঠে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ দেশি-বিদেশি অতিথিরা।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সম্মান জানিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

খোলা জিপে প্যারেড পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি; তার সঙ্গী হিসেবে জিপে ছিলেন প্যারেড অধিনায়ক মেজর জেনারেল এসএম আসাদুল হক।

এ সময় বাদ্য দল ‘জন্ম আমার ধন্য হলো’ গানের সুর বাজাতে থাকে। প্রায় ১৫ মিনিটের রাষ্ট্রপতির প্যারেড পরিদর্শনের পর অধিনায়ক আবারো ঘোড়ায় আরোহণ করে রাষ্ট্রপ্রধানকে ধন্যবাদ জানান।

এরপর অধিনায়ক কুচকাওয়াজ শেষ করার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে অনুমতি চেয়ে ঘোড়ায় চড়ে সামনের দিকে এগিয়ে যান। অধিনায়কের নেতৃত্বে প্রত্যেকটি দল রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদর্শনের জন্য এগিয়ে আসতে থাকে।

ছন্দবদ্ধ দীপ্ত পায়ে সম্মুখে এই দৃপ্ত যাত্রা, মুষ্টিবদ্ধ হাত আর তাল মিলিয়ে প্রত্যয়ী শপথের এই প্রদর্শনী চলতে থাকে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে।

মার্চপাস্টের প্রথমে থাকে বিভিন্ন পতাকাবাহী তিনটি দল বা কন্টিনজেন্ট। এরপর পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রপতিকে সালাম দিতে দিতে এগিয়ে যেতে থাকে সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত ইউনিট প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট, সাজোয়া রেজিমেন্ট কন্টিনজেন্ট, ইস্ট বেঙ্গল কন্টিনজেন্ট, বাংলাদেশ ইনফ্যান্টারি রেজিমেন্ট, আর্টিলারি কন্টিনজেন্ট, এয়ার ডিফেন্স কন্টিনজেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারস কন্টিনজেন্ট, সিগনালস কন্টিনজেন্ট, সার্ভিসেস কন্টিনজেন্ট।

এরপর জাতীয় পতাকাবাহী কন্টিজেন্টের সদস্যরা রাষ্ট্রপতিকে সালাম জানান, দলটি সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় গ্যালারিতে থাকা বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা সালাম প্রদর্শন করেন আর অন্যান্য দর্শকরা দাড়িয়ে সম্মান জানান।

এরপর পর্যায়ক্রমে আসে প্যারাকমান্ডো কন্টিনজেন্ট, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, কারা পুলিশ, সম্মিলিত নারী কন্টিনজেন্ট ও মডারনাইজড ইনফ্যান্টারি কন্টিনজেন্টগুলো সালাম প্রদর্শন করে মার্চপাস্ট করে বেরিয়ে যায়।

সেনা ও বিজিপির ডগ স্কোয়াড ও অশ্বারোহী কন্টিনজেন্টের পর খোলা গাড়িতে বহনকারী মুক্তিযোদ্ধাদের কন্টিনজেন্ট এগিয়ে যায়।

এরপরই ১০ হাজার ফুট উপর থেকে মূল মঞ্চের দুদিকে ২৬ জন প্যারাট্রুপার প্যারেড গ্রাউন্ডে নামেন, যারা জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন বাহিনীর পতাকা বহন করেন।

এরপর প্যারাকমান্ডো টিমের প্যারাট্রুপার দল রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদর্শন করেন। এরমধ্যেই মাথার উপরে উড়ে যায় আর্মি অ্যাভিয়েশনের বিমান।

পর্যায়ক্রমে আর্মি অ্যাভিয়েশনের বিমান ও হেলিকপ্টার, বিজিবি এয়ার উইংয়ের হেলিকপ্টার, র‌্যাব এয়ার উইংয়ের হেলিকপ্টার, নেভাল অ্যাভিয়েশনের বিমান ও হেলিকপ্টার উড়ে যায়।

এরপর প্যারেড গ্রাউন্ডে একে একে এগিয়ে আসে বিভিন্ন বাহিনীর যান্ত্রিক বহরগুলো; যেখানে ট্যাংক, কামানের মতো ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও প্রযুক্তিসহ নানা সরঞ্জাম প্রদর্শিত হয়।

এরপর প্যারেড গ্রাউন্ডে একে একে এগিয়ে আসে বিভিন্ন বাহিনীর যান্ত্রিক বহরগুলো; যেখানে ট্যাংক, কামানের মতো ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও প্রযুক্তিসহ নানা সরঞ্জাম প্রদর্শিত হয়।

এরপরে শুরু হয় কুচকাওয়াজের এবারের অন্যতম আকর্ষণ বিমান বাহিনীর ‘অ্যারোবেটিক শো’র মহড়া। ‘বাংলার আকাশ রাখিব মুক্ত’ এই প্রতিপাদ্যে বিমানবাহিনীর যুদ্ধ বিমানসহ প্রশিক্ষণ বিমান ও হেলিকপ্টারগুলো বিভিন্ন ফর্মেশনে উড্ডয়ন কৌশল প্রদর্শিত হয়।

পাঁচটি এফ-সেভেন যুদ্ধবিমান বর্ণিল রং ছাড়তে ছাড়তে প্যারেড গ্রাউন্ড প্রদক্ষিণ করে। ‘লো লেভেল’ ফ্লাইং বিমান প্রদর্শনীর পর যোগ দেয় মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান।

এই আধুনিক যুদ্ধবিমানটি রাষ্ট্রপতিকে ‘ফ্লাইং স্যালুট’ প্রদর্শন করে। এরপর কয়েক দফা টার্ন পারফরম্যান্স, লো লেভেল ফ্লাইংও প্রদর্শিত হয়। শেষে মূল মঞ্চের পেছন দিক থেকে এসে ‘ভিক্টোরি রোল’ প্রদর্শন করে উপরের দিকে মেঘের আড়ালে চলে যায় মিগ-২৯, যেটিকে ‘চূড়ান্ত প্রদর্শনী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

কুচকাওয়াজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় ১১টা ৫৯ মিনিটে। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রদর্শনীতে নেতৃত্ব দেওয়া বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তাদের সামনে গিয়ে তাদের সঙ্গে হাত মেলান।

রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এগিয়ে এলে তার সঙ্গেও হাত মেলান রাষ্ট্রপ্রধান। এ সময় তিন বাহিনীর প্রধান সঙ্গে ছিলেন। ১২টা ৬ মিনিটে প্যারেড গ্রাউন্ড ত্যাগ করে রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর।

এ সময় দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর তিনিও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং হাত মেলান।

মনোজ্ঞ এ আয়োজন প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসে উপভোগ করেন তার কন্যা জাইমা রহমান।

২০০৮ সালের পর অর্থাৎ ১৮ বছর পরে এবার ২৬ মার্চের আনুষ্ঠানিকতায় যুক্ত হল এ প্রদর্শনী।

চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কুচকাওয়াজ বা প্যারেড প্রদর্শনী বন্ধ ছিল। তবে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপনে এ আয়োজন থাকত।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবার স্বাধীনতা দিবসে জাঁকজমকভাবে এ আয়োজন করতে রোজার শুরু থেকে প্যারেড স্কয়ার মাঠে প্রস্তুতি শুরু হয়, মঙ্গলবার ‘চূড়ান্ত রিহার্সেলের’ মাধ্যমে তার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শার্শার বিএনপির র‍্যালি ও আলোচনা সভা
  • ২৬ মার্চ ২০২৬
অফিসার পদে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ জনতা ও অগ্র…
  • ২৬ মার্চ ২০২৬
তদন্তের মুখোমুখি হচ্ছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল
  • ২৬ মার্চ ২০২৬
গণভোটসহ ২০ অধ্যাদেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা, ১১৩টিতে একমত সরকার-বিরো…
  • ২৬ মার্চ ২০২৬
পাম্পে দীর্ঘ লাইন, তেল নিতে গিয়ে স্ট্রোক করে যুবকের মৃত্যু
  • ২৬ মার্চ ২০২৬
এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শনে ৮ টিমে ২৪ সদস্যের কমিটি
  • ২৬ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence