রোবাইয়াত ফাতিমা তনি ও ডা. মাহমুদা আলম মিতু © টিডিসি সম্পাদিত
আলোচিত নারী উদ্যোক্তা রোবাইয়াত ফাতিমা তনির সাম্প্রতিক এক নেতিবাচক মন্তব্যে আবেগী জবাব দিয়েছেন এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা আলম মিতু। আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সাড়ে ৯টার দিকে সামাজিক মাধ্যমে নিজ ভেরিফায়েড আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেন, ‘রুবাইয়া ফাতেমা তনির সেকেন্ড হাজাবেন্ড যখন প্রথমবার অসুস্থ হয়, তখন আমি আমার ফেসবুক পেজে একটা লেখা দিয়েছিলাম। উনার হাসবেন্ড এবং সংসার নিয়ে। এজন্য আমাকে অনেক কথাও শুনতে হয়েছে। তনির কিছু কিছু জায়গায় বোল্ড অবস্থানকে আমার ভালো লাগতো। এজন্য অনেক মেয়েরা আমাকে বুলিং করেছিল। উনার হাজবেন্ড বয়স্ক এজন্য উনাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে কিন্তু উনি যে দায়িত্ব পালন করতো সেটা আমার ভালো লাগত। মানুষ উনাকে কমেন্ট করে করে তিক্ত করে ফেলত, সেটা দেখে খারাপ লাগত। এজন্য আমি লেখা লিখেছিলাম। সেই লেখাটা পাচ্ছি না। আমি শিওর আমার গ্রুপের অনেক মেয়েরাই পড়েছে।
আজ সেই তনি দেখলাম বলছে আমার মতো মেয়েরা নাকি দাসী হয়ে থাকতে পছন্দ করে। উনি হয়তো আমার আইডোলজি জানেন না। আমাকে চেনেও না, কারণ আমি যতদূর বুঝেছি উনি পলিটিক্যালি ইন্টারেস্টও না। আমিও উনার ব্যপারে ইন্টারেস্ট না। উনি থার্ড টাইম বিয়ে করেছেন দেখেও ভালো লাগছিল। মনে হচ্ছিল অনেক লড়াই করেছে, এখন অন্তত ভালো থাকুক। কিন্তু আমার মতো পড়াশোনা করা ওপেন মাইন্ডেড মেয়েকে কেন উনার দাসী মনে হলো বা উনি কেনই অকারণে এইরকম একটা নোংরা কমেন্টে জড়ালেন জানি না। তবে মন খারাপ লাগল যে, এই মেয়ের জন্য আমি এক সময় ফাইট করেছি ও জোর গলায় বলেছি। তনি বিয়ে করছে, সে বিয়েটা আল্লাহর পক্ষ থেকে তৈরি হয়। সেই বিয়ে নিয়ে সমালোচনার তুমি কে?
আমি পরীমনিকে নিয়েও মাঝেমধ্যে লিখছি। তার মা সুলভ আচরণ আমার পছন্দ। নাদিয়াকে আমি চিনি না। লাইভে আর যারা ছিল। তাদের ব্যপারে আমার নূন্যতম ইন্টারেস্ট নাই। আপনাদের সাথে আমার সমস্যা কোথায়, আমি জানি না। তবে আমি বিশ্বাস করি, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা ফরজ কিন্তু তার জন্য জোর করার অধিকার কারো নেই।
কিন্তু আমি এই কথাগুলোকে অস্বীকার করি না বা এগুলোকে নিয়ে কেউ তুচ্ছতাচ্ছিল্য করুক, তা আমার ভয় লাগে। আল্লাহর ভয়। আবার আমার পর্দা করতেও ইচ্ছা করে না। আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়েত আসেনি হয়তো। আমি খুবই দুঃখ পেলাম, বিশেষ করে তনি আপার কথায়। উনি আমাকে দাসী বলেছেন। অথচ উনি জানেন না, চিনেন না, আমি কে এবং কেমন। উনাদের লাইভ আমি দেখিনি। একটা মিম বানাইছে সেখানে দেখলাম।
আপনি (তনি) অনেক স্ট্রাগল করেছেন আপা। দুটো বাচ্চাও আছে। নোংরা কমেন্টে কেমন মানসিক টর্চার লাগে সেটা আমি বুঝি। আমি আপনার সুন্দর জীবন কামনা করি। এই যে নারীদের দেখছেন ,আমি আমার সর্বোচ্চ শালীনতা এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি ধারন করে এই নারীদের কন্ঠস্বর হয়ে উঠতে চাই। আমি হাজার হাজার মাদ্রাসার মেয়েদের কন্ঠস্বর হতে চাই। যাদের কথা কেউ শোনে না। যাতে তাদের কেউ ধর্মের ভুল ব্যাখা দিয়ে ঘরে বন্দী না করতে পারে। আপনাদের তো কথা বলার সুযোগ আছে। উনাদের কেউ নেই। আমি এও চাই, জিন্স টপ পড়ার কারনে কোনো মেয়ে হেনস্থা না হোক। এটা ও আমার ধর্ম শিখায় না। আমিও বুলিং-এর স্বীকার হই। আমিও চাই এর সমাধান হোক। আপনারা আমাকে এভাবে কটাক্ষ না করে, আমার সাথে এক সাথে কাজ করতে পারেন।