মির্জা আব্বাস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী © সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বহুল আলোচিত ঢাকা-৮ আসনের ভোট পুনঃগণনার আবেদন জানিয়েছেন এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সাথে বিজয়ী ঘোষিত বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদের শপথ গ্রহণ স্থগিত রাখার আহ্বানও জানান তিনি। নির্বাচনে ভোট কারচুপি, অনিয়ম এবং বেআইনি প্রভাব বিস্তারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর এই আবেদন করেন তিনি।
আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষে এনসিপি নেতা কাজী ফখরুল ইসলাম নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদনটি জমা দেন। ১১ দফার ওই আবেদনে ১২টি কেন্দ্রের ভয়াবহ অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেন, মির্জা আব্বাস ও তার পরিবারের সদস্যসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা ভোট রিগিং, ফলাফল আটকে রাখা এবং বাতিলকৃত ভোটকে গণনায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো নির্বাচনী অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ত্রয়োদশ সংসদ ও সরকার যেভাবে গঠিত হবে, এবার যত ব্যতিক্রম
আবেদনে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা-৮ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ও তার নেতা-কর্মী, এজেন্ট, পরিবারের সদস্য কর্তৃক ভোট রিগিং, প্রভাব বিস্তার, ফলাফল আটকে রাখা, বাতিলকৃত ভোট গণনাভুক্ত করাসহ নানাবিধ নির্বাচনী অনিয়মের আশ্রয় নেয় এবং এক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইজিং অফিসার এবং আসনের রিটার্নিং অফিসার নির্বাচনী অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে এবং ভোট কারচুপি ও অনিয়মের মাধ্যমে আমাকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা না করে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, উক্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমি এই দরখাস্তের মাধ্যমে কারচুপি ও অনিয়মের বিষয় নির্বাচন কমিশনের নজরে আনছি এবং আইন ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাস মোট ভোট পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট। এ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট। আর পোস্টাল ভোটে আব্বাস পেয়েছেন ২৮১৪ ভোট। এবং নাসীরুদ্দীন পেয়েছেন ২৫৫৫ ভোট।