নির্বাচনে জিতলে কী করবেন, ৯ পয়েন্টে ইশতেহার দিলেন নুর

৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৮ PM
নুরুল হক নুর

নুরুল হক নুর © টিডিসি ফটো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি এবং পটুয়াখালী-০৩ (গলাচিপা-দশমিনা) সংসদীয় আসনের প্রার্থী নুরুল হক নুর। আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজ পিতৃস্থল গলাচিপা-দশমিনার সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ্য করে একটি বার্তাসহ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি।

ইশতারে মোট ৯টি পয়েন্টে তিনি নির্বাচিত হলে গলাচিপা-দশমিনাকে শান্তি, সৌহার্দ্য ও উন্নয়নের জনপদে রূপ দিতে তার প্রচেষ্টায় প্রাধান্য তুলে ধরেন।

নুরুল হক নুর বলেন, দ্বীপ-বেস্টিত অবহেলিত, বঞ্চিত ও অনুন্নত এই জনপদে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় পরিবারের সদস্য হিসেবে খুব কাছ থেকে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা অবলোকণ করেছি। অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা মেটাতে হিমশিম খাওয়া মানুষগুলোর দৈনন্দিন হাহাকার আমাকে স্কুলজীবন থেকেই ভাবিয়ে তুলেছে।

তাদের জন্য কিছু করার তাড়না থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা শেষে চাকরিতে যোগ না দিয়ে রাজনীতিতে এসেছি। রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তনের পাশাপাশি পিছিয়ে থাকা এই জনপদে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং এলাকায় হানাহানি, মারামারি, বিদ্বেষ দূর করে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্যে সকলকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।

তার দেয়া ইশতেহারে রয়েছে- ১. রাস্তা-ঘাট সম্প্রসারণ ও পাকাকরণ, সেতু নির্মাণ, প্রয়োজনীয় এলাকায় ফেরী চালুকরণ ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে সড়ক ও নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা। সময়োপযোগী ও পরিবেশবান্ধব যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে দুর্গম এলাকায়ও কম খরচে, দ্রুততম সময়ে ও নিরাপদে গমন করা যায়। নদী ভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা।

২. স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে আধুনিক ভবন, পাঠকক্ষ, খেলার মাঠ, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞান ও কম্পিউটার ল্যাব, ল্যাঙ্গুয়েজ ও ডিবেটিং ক্লাবসহ সামগ্রিকভাবে পাঠদান উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা। দরিদ্র, অসহায় ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা-জয়ী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি চালু করা। আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন- টাকার অভাবে যেন এই জনপদের কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্ন্ধ না হয়।

৩. স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে আমার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন, গলাচিপা-দশমিনার কৃতী সন্তানদের নিয়ে, বেসরকারি পর্যায়ে ২টি হাসপাতাল গড়ে তোলা, যেখানে নামমাত্র মূল্যে আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিকায়ন করার পাশাপাশি, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতেও দক্ষ জনবল সরবরাহের মাধ্যমে যাতে মানসম্মত প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়। দুর্গম দ্বীপে রোগী আনা-নেওয়ার জন্য নৌ-এম্বুলেন্স সার্ভিসকে সহজলভ্য করা।

৪. গলাচিপা উপজেলায় কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে আরেকটি থানা, এবং দশমিনার দুর্গম এলাকায় আরেকটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া।

৫. এই জনপদের মানুষগুলোকে আর মামলা/ন্যায় বিচারের জন্য পটুয়াখালীতে যেতে হবেনা। গলাচিপা এবং দশমিনায় সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে শতভাগ জনবল নিশ্চিতের মাধ্যমে যথাদ্রুত ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। থানা-অফিস-আদালতগুলোকে জনবান্ধব ও হয়রানিমুক্ত করা হবে। সালিশ-বাণিজ্য চিরতরে বন্ধ করে, জনগণের পারস্পরিক বিরোধ নিরসনে ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

৬. গলাচিপা-দশমিনায় বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের সকল নাগরিকদের সমঅধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। তাঁরা আমাদের ভাই-বোন, পরিবারেরই অংশ। তাঁরা যাতে নির্বিঘ্নে জীবন-জীবিকা চালিয়ে যাতে পারে, সমাজে বুক ফুলিয়ে চলতে পারে সে ব্যবস্থা করা হবে।ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। সমাজে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ থাকবেনা।সকলের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে।

৭. কৃষিভিত্তিক গলাচিপা-দশমিনায় বিভিন্ন শিল্পকারখানা, খাদ্য শস্য, ফসল ও  ফল সংরক্ষণের জন্য সরকারি হিমাগার স্থাপন করা হবে।শতভাগ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে, কাজের সন্ধানে এই জনপদের বাসিন্দদের আর ঢাকা-চট্টগ্রামে যেতে হবেনা।পর্যটন ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে 'ইকো ট্যুরিজম জোন' গড়ে তোলা হবে। বৃক্ষরোপণ বাড়ানো হবে।

৮. মাদক, হতাশা ও বেকারত্ব থেকে মুক্তি দিতে, যুবসমাজকে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসাবে তৈরি করতে আইসিটি পার্ক, ইনকিউবেশন সেন্টার, ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম গড়ে তোলা হবে। প্রতি বাড়িতে হস্ত ও কুটির শিল্প গড়ে তোলা হবে, যেখানে নারীদের কর্মসংস্থান হবে।

৯. চর, খাল, স্লুইসগেটগুলোকে দখলদারিত্বের হাত থেকে মুক্ত করে জনসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করা হবে। সরকারি খাস জমি ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে স্বচ্ছতার সাথে বণ্টন করা হবে। তরমুজ চাষিসহ খামারি ও কৃষকদের শস্য বাজারজাত করণে কাউকে কোনো পয়সা দিতে হবেনা। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌড়াত্ম্য বন্ধ করা হবে। কৃষকরা যাতে ন্যায্য মূল্যে ফসল বিক্রি করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইশতেহারের শেষে তিনি বলেন, সর্বোপরি, এই জনপদ হবে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের রোল মডেল, যেখানে কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, লুটেরা, মাফিয়া, ভূমি দস্যু, মাদক ব্যবসায়ী, মামলাবাজ ও উগ্রবাদীর ঠাঁই হবেনা। সকল ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়ের মানুষকে সাথে নিয়ে একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক উন্নত জনপদ গড়ে তোলা হবে, ইনশাআল্লাহ। এসময় তিনি সকলের দোয়া ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।

অনুমোদনের অপেক্ষায় আরও ৮ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইরানের বিপক্ষে যুদ…
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
দোকান-শপিং মল বন্ধের সময়ও এগিয়ে আসছে
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
তিনদিন নয়, একদিন অনলাইন ক্লাসের প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ…
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
লক্ষ্মীপুরে ডাকাতি মামলায় আরও দুই আসামি গ্রেপ্তার
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
নিখোঁজের দুই দিন পর নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শিশুর মরদ…
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬