লাল ফিতা সংস্কৃতি চিরতরে ভাঙা হবে, শিল্প মালিকদের অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের

২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৬ PM
জামায়াত আমির

জামায়াত আমির © সংগৃহীত

লাল ফিতা সংস্কৃতি চিরতরে ভেঙে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, শিল্প মালিকদের কাছে অঙ্গীকার, জনগণের আমানতের বোঝা বহন করা কোনো দয়া নয়, বরং দায়িত্ব। ক্ষমতায় গেলে সম্পদ যেন অস্বাভাবিকভাবে না বাড়ে, আত্মীয়স্বজন যেন রাতারাতি ধনী না হয়—এই সংস্কৃতিও ভাঙা হবে। 

বৃহস্পতিবার (২৯) রাতে রাজধানীর এক হোটেলে আয়োজিত ব্যবসায়ীদের দলটির দ্য পোস্পারিটি ডায়ালগ অংশ নিয়ে এ কথা জানান তিনি। 

চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এসব দৌরাত্ম্য মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। এই যন্ত্রণা তারা অনুভব করেন এবং অঙ্গীকার করেন—মানুষকে হালাল রুজির ধারায় ফিরিয়ে আনা হবে। ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাত একত্র করে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গড়ে তোলাই লক্ষ্য। এ সময় অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনলে রাষ্ট্র তাদেরকে আরও সম্মান দেবে বলেও জানান তিনি। 

ডা শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সরকার গঠন করলে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত দিতে আহ্বান জানানো হবে সম্মানের সঙ্গে। তা ফেরত দিলে রাষ্ট্র সেই ব্যক্তিকে আরও সম্মান দেবে। এর উদ্দেশ্য কাউকে অপমান করা নয়, বরং জাতির কল্যাণ।

শিল্প মালিকদের প্রধান সমস্যা তিনটি উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ব্যাবসায়ীদের সমস্যা হলো, তহবিলের নিরাপত্তাহীনতা, সম্পদের সুরক্ষার অভাব এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লাল ফিতার জটিলতা। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে কারখানা চালু করা না গেলেও ব্যাংকঋণের সুদ চলতে থাকে, ফলে উদ্যোক্তা শুরুতেই ক্ষতিগ্রস্ত হন। ঘুষকে ‘স্পিড মানি’ নামে বৈধ করার প্রবণতা শিল্পখাতকে প্রথম ধাক্কা দেয়। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এতে দেশীয় বিনিয়োগকারীরাই যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে বিদেশিরা আসবে কেন?

ডা শফিকুর রহমান বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দিয়ে আমরা পাশে বসে সেই যাত্রা উপভোগ করতে চান। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা লাখো মানুষের জীবিকা নিশ্চিত করেন—তাই আপনাদের রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ব্যবসা ও শিল্পকে শিশুর মতো আগলে রাখা হবে।

ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ আর্থিক সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির জানান,এটি  সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, আমি ব্যাংকের ক্ষুদ্র সদস্য ছিলাম, সেই ব্যাংকই আবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের একটি ব্রোকারেজ হাউসের সদস্য ছিল। এ কারণে ব্যাংকিং ও পুঁজিবাজার—এই দুই খাতকে একসঙ্গে বিশ্লেষণ ও বোঝার সুযোগ পেয়েছি। এই লক্ষ্যে চার সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়, যেখানে আমি নিজেও যুক্ত ছিলাম। এ সময় নন-ব্যাংকিং ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন—বিশেষ করে লিজিং ও ফিন্যান্সিং কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমও ঘনিষ্ঠভাবে দেখার সুযোগ হয়। এসব প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা আবার সাধারণ মানুষের মধ্যে সাব-লেন্ডিং করে থাকে।

তিনি বলেন, ওই সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি মোটামুটি সুস্থ অবস্থায় ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে একের পর এক সংকট দেখা দেয়—চ্যালেঞ্জে পড়ে শেয়ারবাজার, সংকটে পড়ে ব্যাংকিং খাতও। জামায়াত আমির বলেন, সাধারণ মানুষ ব্যাংকে টাকা জমা রাখে ঠিকই, কিন্তু তারা নিজেরা ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা বা উদ্যোক্তা মানসিকতা রাখে না। তাই তাদের আমানতের অর্থ তুলে দেওয়া হয় সেইসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে, যাদের ব্যবসা পরিচালনার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই অর্থ কখনো বাণিজ্যিক খাতে, আবার কখনো শিল্প খাতে বিনিয়োগ হয়।

দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য তিনটি খাতকে সমান্তরালভাবে উন্নত করা জরুরি বলে মনে করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হিউম্যান ইন্ডাস্ট্রি বা মানবসম্পদ উন্নয়ন। মানবসম্পদ যথাযথভাবে উন্নয়ন না হলে কোনো শিল্পই কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারে না। মানুষের মেধা, যোগ্যতা, বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা ও পরিশ্রম—এই চারটির সমন্বয় ঘটলে কোনো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হন না।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যবসায়িক সফলতার জন্য চারটি বিষয়কে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন তিনি বলেন, ব্যবসার জন্য সহি নিয়ত থাকতে হবে। উদ্দেশ্য হতে হবে সৎ ও ন্যায়সঙ্গত, কোনো অসৎ অভিপ্রায় রাখা যাবে না। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যবসা সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান ও কারিগরি ধারণা থাকতে হবে এবং সংকটে মাথা তুলে দাঁড়ানোর এবং ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা ও সাহস থাকতে হবে। পাশাপাশি শুধু মালিক হয়ে অফিসে বসে থাকলে চলবে না; নিজেকে কাজে যুক্ত করতে হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের ২৭ জন শীর্ষ ব্যবসায়ীর ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে—এর মধ্যে ২১ জনেরই বাপ-দাদার কোনো পুঁজি ছিল না। তারা ক্ষুদ্র পুঁজি, সৎ নিয়ত ও সাহস নিয়ে এগিয়ে এসেছেন এবং নিজেদের কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠানে কোনো কর্মকর্তা ভুল করলে তিনি কখনো সবার সামনে অপমান করেননি; বরং আলাদাভাবে ডেকে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছেন। নারীদের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষায় আরেকজন নারীকে উপস্থিত রেখে কথা বলতেন। তিনি কখনো গালি দেননি বা বেতন কাটেননি বরং আন্তরিক আচরণের মাধ্যমেই কাজ আদায় করেছেন।

মানুষ সবকিছু খুব দ্রুত পেতে চায় উল্লেখ করে জামায়ত আমির বলেন, দ্রুত না হলে অস্থির হয়ে পড়ে। এই অস্থিরতা থেকেই নারীদের কর্মক্ষেত্র নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। আমরা বলতে চেয়েছি—আল্লাহ তাআলা নারীদের কিছু বিশেষ গুণ দিয়েছেন, যা পুরুষদের নেই। আমরা কেউ সন্তান ধারণ করতে পারি না, বুকের দুধ দিতে পারি না। মায়ের বুককে বিছানা বানিয়েই আমরা সবাই বড় হয়েছি। তাই সমাজে মায়েদের সম্মান নিশ্চিত করা জরুরি।

পাবনার বেড়ায় অটোরিকশাচালক ফজলু হত্যার রহস্য উদঘাটন, স্ত্রীস…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
স্বচ্ছতার সঙ্গে হিট প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে উচ্চশিক্ষায় কাঙ্ক…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরি রানার গ্রুপে, পদ ১২, আবেদন শেষ ১০ এপ্র…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
হামের প্রাদুর্ভাব, কক্সবাজারে এক মাসে শতাধিক শিশু হাসপাতালে…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
নিখোঁজ ১৬ জেলেকে ফিরে পেতে পরিবারের আকুতি
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
চাকসু নেতার ওপর হামলার প্রতিবাদে চবিতে মানববন্ধন
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence