আমি কীভাবে ‘ভাই ব্যবসা’ করলাম— প্রশ্ন মীর স্নিগ্ধের

২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৯ AM
মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ

মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ © ফেসবুক থেকে নেওয়া

চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালে ফ্যাসিস্ট শক্তির গুলিতে শহীদ হন বিইউপি শিক্ষার্থী শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর নব গঠিত জুলাই ফাউন্ডেশনের দায়িত্ব নেন তার জমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। পরে যোগ দেন বিএনপিতে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে, বিশেষ করে বিএনপিতে যোগদানের পর বিভিন্ন সময়ে তাকে নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয়েছে ’নিজ ভাইকে নিয়ে নিজের স্বার্থ রক্ষা বা ব্যবসা’, এই প্রসঙ্গে। এবার তিনি বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন।

তিনি সমালোচকদের জবাব দিয়ে বলেছেন, ভাইয়ের হত্যার বিচারের জন্য এখান থেকে সেখান, লড়াই এখনো চলছে। কিন্তু যখন বুঝলাম, এইভাবে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব নয়, তখন রাজনৈতিকভাবে বিচার নিশ্চিত করার জন্য রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। মাত্র ২০ টাকার একটি ফর্ম পূরণ করে যুক্ত হই, এই আশায় যে বিচার নিয়ে রাজনৈতিকভাবে কাজ করতে পারব। এখন বলুন, আমি কীভাবে ‘ভাই ব্যবসা’ করলাম?

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধের ফেসবুক পোস্টটি তুলে ধরা হল:

‘ভাই ব্যবসায়ী’ এই টার্মটা আসলে কীভাবে জাস্টিফাই হয়?

নিজের একটা সাজানো–গোছানো জীবন ছিল। আলহামদুলিল্লাহ, কোনো কিছুর অভাব ছিল না। একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিলাম। ছাত্রজীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ থেকে শুরু করে হাতখরচ, নিজের শখ–আহ্লাদ, সবই আলহামদুলিল্লাহ নিজের উপার্জিত টাকায় পূরণ করেছি। নিজের বাইকসহ জীবনের অনেক স্বপ্নই নিজের টাকায় বাস্তবায়ন করেছি।

এরপর এলো জুলাই ২০২৪। নিজের ভাইকে হারালাম।

শত হুমকির পরও ‘মুগ্ধর পানি লাগবে’ ভিডিওটি প্রকাশ করে পুরো বিশ্ববাসীর কাছে বিচারের দাবি জানাই, যা জুলাই আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট ছিল। বিচারের আশায় বড় ভাইসহ কোর্ট, থানা, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে পায়ের চপ্পল ক্ষয়ে গেছে। ব্যাংক, অফিস—সব জায়গায় নিজে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজসহ মুগ্ধর হত্যার সব প্রমাণ সংগ্রহ করেছি।

দেশের বাইরে পড়াশোনা করে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ ছেড়ে দিয়ে, মুগ্ধর মতো আরও যারা শহীদ হয়েছেন এবং জুলাইয়ে আহত হয়েছেন, তাদের জন্য কাজ করতে বিনা পারিশ্রমিকে জুলাই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত হই। আমি একা ছিলাম না, ছাত্র উপদেষ্টা থেকে শুরু করে জুলাই আন্দোলনের আরও পরিচিত মুখ এই ফাউন্ডেশনে যুক্ত ছিলেন। সবাই মিলে সর্বোচ্চ সততার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছি।

আজও মনে পড়ে, পাবলিক বাসে ধাক্কা খেতে খেতে এক মন্ত্রণালয় থেকে আরেক মন্ত্রণালয়ে ঘুরে ফাউন্ডেশনটাকে দাঁড় করিয়েছি। এই সময়ে ফ্রিল্যান্সিং থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি, ফলে আমার ক্যারিয়ার প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকে।

তবুও হাল ছাড়িনি। ভাইয়ের হত্যার বিচারের জন্য এখান থেকে সেখান, লড়াই এখনো চলছে। কিন্তু যখন বুঝলাম, এইভাবে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব নয়, তখন রাজনৈতিকভাবে বিচার নিশ্চিত করার জন্য রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। মাত্র ২০ টাকার একটি ফর্ম পূরণ করে যুক্ত হই, এই আশায় যে বিচার নিয়ে রাজনৈতিকভাবে কাজ করতে পারব।

এখন বলুন

আমি কীভাবে ‘ভাই ব্যবসা’ করলাম?

এই দেশে কেউ দায়িত্ব পালন করলে সে সৎভাবেও দায়িত্ব পালন করতে পারে, এই বিশ্বাসটা আমরা কেন রাখতে পারি না?

কোনো প্রমাণ ছাড়াই কীভাবে আমরা কাউকে অসৎ ট্যাগ দিয়ে দিই?

তাহলে কি আপনাদের মতে, এসব না করে ভাই হত্যার বিচারের জন্য কাজ না করে নিজের নিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকেই চলে যাওয়াই আমার জন্য শ্রেয় ছিল?

প্রশ্ন রেখে গেলাম

রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া মানেই কী সে ব্যবসায়ী?

রাজনীতি তো কোনো ব্যবসা নয়।

আর যারা রাজনীতিকে ব্যবসা বানিয়েছে—আপনারা কি তাদেরই বারবার জিতিয়ে দিচ্ছেন না?

 

সাতক্ষীরায় তেল সংকটে মোটরসাইকেল বাজারে ধস, বাড়ছে ব্যাটারিচা…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
গাইড বই বাণিজ্যের অভিযোগ শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে, তদন্তে ‘ধী…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
মিরসরাই বসতঘর থেকে অজগর উদ্ধার
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
৯ মাস বয়সী শিশু রাইয়ানের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন নির্দেশনা জারি
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
এইচএসসি পরীক্ষা কবে, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
  • ৩০ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence