সাবেক এমপি, মুক্তিযোদ্ধা হাজেরা সুলতানা © সংগৃহীত
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য, সাবেক এমপি, মুক্তিযোদ্ধা হাজেরা সুলতানা আর নেই। ঢাকার মোহাম্মদপুরের সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা মোস্তফা আলমগীর রতন হাজেরা সুলতানার মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
মৃত্যুকালে হাজেরা সুলতানার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি একমাত্র মেয়ে রানা সুলতানা ও জামাতা মনিরুজ্জামানকে রেখে গেছেন।
রতন বলেন, “হাজেরা আপার মরদেহ আজ বেসরকারি একটা হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। তার একমাত্র মেয়ে কানাডায় থাকে। সে শনিবার দেশে ফিরলে টাঙ্গাইলে গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হবে।”
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের ছাতিহাটী গ্রামে ১৯৫০ সালে হাজেরা খাতুনের জন্ম। ১৯৬৮ সালে কুমুদিনী কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর সরকারি সা’দত কলেজে ভর্তি হয়ে তিনি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন।
১৯৭০ সালে হাজেরা সুলতানা বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন। একাত্তরের মার্চে টাঙ্গাইলের পিটিআই মাঠে পাকিস্তানি পতাকা পোড়ানোর কারণে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল।
পরে কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের উদ্যোগে টাঙ্গাইলের যমুনাচর এলাকায় কমান্ডার আব্দুল হালিমের (ইকবাল) নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে ওঠে। হাজেরা সুলতানা সেখানে প্রশিক্ষণ নেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
তিনি বাংলাদেশ নারীমুক্তি সংসদের সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টির মুখপত্র সাপ্তাহিক নতুন কথারও সম্পাদক ছিলেন।
হাজেরা সুলতানার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুল হাসান মানিক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুর আহমেদ বকুল। এক বিবৃতিতে তারা প্রয়াত নেত্রীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন।
হাজেরা সুলতানার কফিন আগামী রোববার সকাল ১০টায় তোপখানা রোডে পার্টি অফিসে নেওয়া হবে। নেতা-কর্মীরা সেখানে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।