মাহ্দী আমিন © সংগৃহীত
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন এবং ২৪’র গণ-অভ্যুত্থানের উপরে দাঁড়িয়ে আমরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছি। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এ নির্বাচনে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে, একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের মাধ্যমে প্রতিটি রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে, এটিই জনগণের প্রত্যাশা। তবে গত কয়েকদিন ধরে আমরা দুঃখজনকভাবে দেখেছি, নানা উপায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করা হচ্ছে, একটি বিতর্কিত নির্বাচন প্রক্রিয়া সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকালে গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, লক্ষ্য করা যাচ্ছে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল তাদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য ধর্মীয় অনুভূতির ক্রমাগত অপব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, আমরা গণমাধ্যমে দেখলাম তাদের মার্কায় ভোট দিতে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ করানো হচ্ছে, যা সরাসরি নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন। শুধু তাই নয়, আমরা দেখেছি সেই বিশেষ রাজনৈতিক দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের জাতীয় পরিচয় পত্র এবং বিকাশ নাম্বার সংগ্রহ করছে, যার পেছনে অসাধু উদ্দেশ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, ইতঃপূর্বে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের বেশকিছু দেশে যেমন-বাহরাইন, ওমান, কুয়েত ও সৌদি আরবে শত শত ব্যালট একটি নির্দিষ্ট দলের কর্মীদের কাছে রয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ সংঘবদ্ধ ভোট সম্পূর্ণ বেআইনি। কোথাও কোথাও একজনের নম্বর দিয়ে আরেকজনের পোস্টাল ব্যালট পেপার সংগ্রহ করা হচ্ছে, যেটি অনাকাঙ্ক্ষিত। যেহেতু বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটদান প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে, আমরা চাই প্রবাসীদের ভোটের ক্ষেত্রেও সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হোক। উল্লেখ্য, বিএনপিই সর্বপ্রথম প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিল।
মাহদী বলেন, আমরা দুঃখজনকভাবে লক্ষ করছি, পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে ধানের শীষের অবস্থান নিচের দিকে, যা সহজে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি ভাঁজ করলে ধানের শীষ প্রতীক চোখে পড়ে না কিংবা দাগের কারণে মুছে যেতে পারে। অথচ প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীককে কৌশলে সহজে দেখা যায় এমন জায়গাগুলোতে রাখা হয়েছে। চাইলেই খুব সহজে কলাম বা লাইনের সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করে প্রতীকের অবস্থানগত এ বৈষম্য দূর করে পোস্টাল ব্যালটকে স্বচ্ছ রাখা যেত।
তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী আমলের গুম, খুন, হামলা ও মামলার সময়ে বিএনপির কয়েকজন প্রার্থী দেশের বাইরে ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তাদের সেখানে নাগরিকত্ব হয়েছিল এবং মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা তাদের নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনপত্র থাকার পরও নির্বাচন কমিশনে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অথচ সংবিধানের আর্টিকেল ৬৬ অনুযায়ী, সেখানে কোনো অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের অবকাশ নেই।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, আমরা দেখেছি যে, বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাদের প্রতীকসহ সরাসরি নিজ নিজ প্রার্থী ও দলের জন্য ভোট চাইছেন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এবং অনলাইনে। অথচ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যক্তিগত সফরে তার নানীর কবর জিয়ারত কিংবা মওলানা ভাসানী অথবা গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদসহ অন্যান্য শহীদদের কবর জিয়ারতে বগুড়া ও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় যেতে চাইলেও, সেই ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় সফরকে স্থগিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। সেই অনুরোধকে সম্মান জানিয়ে তিনি তার নির্ধারিত সফর বাতিল করলেও অন্যান্য দল ও নেতারা প্রতিনিয়ত আচরণবিধি লঙ্ঘন করে যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের এই নির্লিপ্ততা অনাকাঙ্ক্ষিত।
মাহদী জানান, নির্বাচনের সময়ে গণমানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তৈরির লক্ষ্যে বিএনপি ইতোমধ্যে কল সেন্টার চালু করেছে। যেকোন ব্যাক্তি যেকোন বিষয়ে অনুসন্ধান, প্রয়োজনীয় তথ্য, পরামর্শ বা অভিযোগ কিংবা মতামত জানাতে 16543 নম্বরে কল করতে পারবেন।
বিএনপি প্রণীত বিভিন্ন পলিসির জনমত তৈরি ও গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণের লক্ষ্যে আমরা “Match My Policy” কার্যক্রম শুরু করেছি। সেই ওয়েবসাইটের লিংক: https://www.matchmypolicy.net/
তিনি বলেন, আমরা অবহিত করছি যে, ‘Match My Policy’-এর মাধ্যমে বিএনপির প্রতিটি সেক্টরের মূল পলিসি বিষয়ে যে কেউ চাইলে তার ব্যক্তিগত মতামত জানাতে পারবেন, পছন্দ-অপছন্দ জানাতে পারবেন এবং হ্যাঁ-না বলতে পারবেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, জনগণের ক্ষমতায়নের দল হিসেবে আমরা যখন ম্যানিফেস্টো প্রণয়ন করব, তখন যেন প্রত্যেকের মতামতকে সম্মান ও প্রাধান্য দিতে পারি।
মাহদী আরও জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করবেন আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেট সফরের মধ্য দিয়ে।