বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে জামায়াত আমীরের মতবিনিময়

১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৭ AM
সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর

সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর © সংগৃহীত

‘টুগেদার লেটস বিল্ড বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। 

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সেলিব্রেটি হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন এবং সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই যেখানে প্রতিটি নাগরিক বিনা চ্যালেঞ্জে ভোটকেন্দ্রে যাবে, আনন্দের সঙ্গে ভোট দেবে এবং ভোটের প্রতিফলন পাবে। তবেই নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য।

আমীরে জামায়াত বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে আমরা অনিচ্ছুক (রিলাক্ট্যান্ট) দেখতে পাচ্ছি। সমস্যা কোথায়-এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, গুড গভর্ন্যান্সের পূর্বশর্ত হলো একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে-সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে। তা না পারলে পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত।

আমীরে জামায়াত সতর্ক করে বলেন, আমরা বোঝাপড়ার কোনো নির্বাচন চাই না। বোঝাপড়া হবে রাজনৈতিক দলগুলোর ভোটারদের সঙ্গে, কোনো অথরিটির সঙ্গে নয়।

যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা এবার ভোট দেবে। আমরা তোমাদের ভোট পাহারা দেব। তোমরা জাতির পাহারাদার হবে।

অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা জাতিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা দিয়েছেন। এখন আপনাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। পরবর্তী প্রজন্মকে ভালো কিছু দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

জামায়াত আমীর বলেন, আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছি। নিজেরা দুর্নীতি করব না, কাউকে করতেও দেব না। আমরা দুর্নীতির মূল ধরে টান দিতে চাই।

তিনি বলেন, জাতি ও মানবতার জন্য লড়াই করে সিংহের মতো মৃত্যু হোক আমাদের। এ সময় তিনি শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির আত্মত্যাগ স্মরণ করেন।

তিনি আরও বলেন, ২৩ বছর পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে আমরা একসঙ্গে চলেছি। সে সময় যারা পশ্চিম পাকিস্তানে ছিলেন, তারা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে ইনসাফপূর্ণ আচরণ করেননি। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম হয়।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কোনো সিভিলিয়ানের মুখ দিয়ে যুদ্ধের ঘোষণা হয়নি; এটি হয়েছে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে। এ বিষয়ে একবারই ইতিহাস রচিত হয়েছে এবং তা অক্ষুণ্ন থাকবে- যে যত চেষ্টা করুক। অনেকে এটিকে ম্লান করতে চান, যা অবিচার।

তিনি বলেন, এটি ছিল রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব। তারা তা না করায় সেনাবাহিনীর একজন অফিসার এই মহান দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতির জন্য তাঁর অবদান অস্বীকার করা মানে নিজেকেই অস্বীকার করা।

মুক্তিযুদ্ধের সময় নেতৃত্বদানকারী জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীকে জাতির মানসপট থেকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আব্দুর রবকেও যথাযথভাবে স্মরণ করা হয় না। বীরদের অবশ্যই আমাদের স্বীকৃতি দিতে হবে, সম্মান জানাতে হবে। নইলে নতুন করে বীর জন্মাবে না। যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তারা কেউ বাঁচার আশার লড়াই করেননি; স্বাধীনতা এনে দিতে লড়াই করেছেন। তাঁদেরসহ ১৯৭১ সালে যারা আহত ও নিহত হয়েছেন, দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহ তাঁদের সম্মানিত করুন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও প্রতি ইঞ্চি মাটির জন্য সেনাবাহিনী লড়াই করেছে। লড়াই করতে গিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে অসংখ্য অফিসার ও সেনা জীবন দিয়েছেন। তাঁরা জীবন দিয়েছেন, কিন্তু এক ইঞ্চি মাটি কাউকে দেননি।

আমীরে জামায়াত দলের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে সেনাবাহিনীর অবদান বর্ণনা করে বলেন, চব্বিশের জটিল দিনগুলোতে সেনাবাহিনীর দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে জাতি একটি নির্ঘাত সিভিল ওয়ার থেকে রেহাই পেয়েছে। সে ভূমিকায় অবসরপ্রাপ্ত, বরখাস্ত ও কর্মরত সকল কর্মকর্তাই ছিলেন। সে ভূমিকা না থাকলে আজ এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলা সম্ভব হতো না।

তিনি বলেন, চব্বিশের এই আন্দোলনে আপামর জনগণ যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, আপনাদের সেই দিনের ভূমিকা বিশেষভাবে আলোড়িত করেছিল। অফিসার ও মায়েদের সাহসী ভূমিকা পথ দেখিয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগস্টের ৩ ও ৪ তারিখ সবচেয়ে মজলুম দল ছিল জামায়াত। জনতার আন্দোলন দমাতে গিয়ে অতীতের মতো নোংরা উদ্যোগ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। জনগণ এই ঘোষণা মেনে নেয়নি। ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিবাদের দোসররা ছাড়া জাতীয়তাবাদীরাও এর প্রতিবাদ করেছে। এজন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আমীরে জামায়াত বলেন, আমরা সেদিন দল রক্ষার জন্য নয়, দেশ রক্ষার জন্য লড়াই করেছি। এই আন্দোলনে যদি কোনো অবদান থাকে, সেটি জাতির প্রতি উপহার-দায়িত্ব পালনের একটি স্মারক এবং আমাদের রাজনৈতিক নৈতিক দায়বদ্ধতা।

তিনি বলেন, আজ পর্যন্ত আমরা এই পরিবর্তনকে বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থান- যে ভাষাতেই বলা হোক না কেন-তার ক্রেডিট দল হিসেবে দাবি করিনি। বর্তমান সরকারপ্রধান বিদেশে বসে কোনো এক ব্যক্তিকে আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলায় প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই আন্দোলনে সকল জনগণই মাস্টারমাইন্ড।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কোনো শহীদকে দলীয় পরিচয় দিতে চাই না। দলীয় পরিচয় দিলে শহীদদের খাটো করা হয়। তাঁরা এই জাতির সম্পদ। জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে যারা নেতৃত্ব দেবেন, তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে ধারণ করতে হবে। সেনাবাহিনীকে আমরা সেই জায়গায় পেয়েছি এবং তাদের নিয়ে আরও এগিয়ে যেতে চাই।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিরও জবাবদিহি থাকতে হবে। কেউ জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়। এটি পারস্পরিক ভারসাম্যের বিষয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সীমানা অক্ষুণ্ন রাখবে সেনাবাহিনী। সীমানা ঠিক থাকলে ভেতরের কার্যক্রম ঠিক থাকবে, না থাকলে সব এলোমেলো হয়ে যাবে। এই স্বীকৃতি অবশ্যই দিতে হবে। 

তিনি বলেন, শাসনযন্ত্র ও রাষ্ট্রযন্ত্রে যারা থাকবেন, তাঁদের মধ্যে পয়েন্ট টু পয়েন্ট বোঝাপড়া থাকতে হবে। সামান্য ঘাটতিতেই দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রত্যেকের নির্দিষ্ট জব ডিসক্রিপশন ও সীমা থাকতে হবে। সীমা লঙ্ঘন হলে বিপর্যয় অনিবার্য এবং সেখান থেকেই ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়। প্রত্যেক পেশাজীবী কোনো ভয়-ভীতি ছাড়াই দায়িত্ব পালন করবে- এমন বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

আমীরে জামায়াত বলেন, আমরা এখন ভয়-ভীতির মধ্যে বসবাস করছি। আমরা সেনাবাহিনীকে দেখতে চাই-তারা বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে তুলে ধরবে। সেনাবাহিনীকে তার পেশাগত দায়িত্বে আরও মনোযোগী হতে হবে।

তিনি বলেন, জাতি এখন একটি ক্রস রোডে দাঁড়িয়ে। আগামী মাসের ১২ তারিখ নির্বাচন। জাতীয় জীবনে নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন কোনো ন্যূনতম ফরম্যাটেই পড়ে না। তরুণ প্রজন্মকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আমাদের দেশকে অগ্রসর দেশ হিসেবে দেখতে চাই। পরবর্তী প্রজন্মের হাতে একটি নিরাপদ দেশ তুলে দিতে চাই। আমরা বেকারভাতা দিয়ে অলস জাতি গড়তে চাই না; তবে যারা অক্ষম, তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

পরিশেষে সবার পরামর্শ চেয়ে বক্তব্য শেষ করেন আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান।

কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন এর সভাপতিত্বে এবং কর্নেল (অব.) জাকারিয়ার সঞ্চালনায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এবিএম গোলাম মোস্তফার কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন। 

কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক, মেজর জেনারেল (অব.) মাহাবুব উল আলম, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, মেজর (অব.) ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন। 

চবির আলাওল হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ‘অসহযোগিতার’ অভিযোগ, অফিস…
  • ২০ মে ২০২৬
সরকারের প্রতিশ্রুতি ও শিক্ষা বাজেট
  • ২০ মে ২০২৬
দুদকের মামলায় ক্রিকেটার সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন …
  • ২০ মে ২০২৬
কারিকুলামে বড় পরিবর্তন আসছে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
  • ২০ মে ২০২৬
পাবনায় ডিবির অভিযানে অনলাইন জুয়া চক্রের ৫ সদস্য আটক
  • ২০ মে ২০২৬
গোবিপ্রবিতে নষ্ট হচ্ছে ক্যাম্পাসের লেকপাড়ের সৌন্দর্য
  • ২০ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081