নাহিদ ইসলাম © সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম হলফনামায় তার আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের ব্যাপারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া তার আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি এই অপপ্রচারকে একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দাঁড় করানোর চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন।
১. বাৎসরিক আয় সংক্রান্ত
নাহিদ ইসলাম বলেন, হলফনামায় উল্লেখিত ১৬ লাখ টাকার বাৎসরিক আয় কোনো হঠাৎ অর্জিত অর্থ নয়। এটি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের (১ জুলাই–৩০ জুন) মোট আয়ের হিসাব। এই সময়ের সাত মাস তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং রাষ্ট্রীয় বেতন-ভাতা পেয়েছেন। ১৬ লাখ টাকার মধ্যে প্রায় ১১ লাখ টাকার বেতন-ভাতা ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে পরিশোধিত, আয়করযোগ্য এবং নথিভুক্ত। বাকি অর্থ এসেছে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কনসালট্যান্ট হিসেবে বৈধ পেশাগত সম্মানী থেকে, যার করও পরিশোধিত।
২. মোট সম্পদ সংক্রান্ত
নাহিদ ইসলামের মোট সম্পদ ৩২ লাখ টাকা। এটি এক বছরের আয় নয়, বরং তার ২৭ বছরের জীবনের সঞ্চয়। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উপদেষ্টা পদে প্রাপ্ত বেতন থেকে সঞ্চয়, পূর্ববর্তী সঞ্চয়, পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রাপ্ত উপহার, স্বর্ণালংকার, ফার্নিচার ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য। এছাড়া পদত্যাগের পর আয়কর পরিশোধিত আয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত।
৩. ব্যাংক একাউন্ট সংক্রান্ত
উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের সময় তার ব্যাংক একাউন্টে প্রায় ১০ হাজার টাকা ছিল, যা মোট সম্পদের অংশ নয়। পরে সরকারিভাবে মন্ত্রীদের আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ অর্থও সেই একাউন্টে জমা হয়। বর্তমানে তার দুটি ব্যাংক একাউন্ট রয়েছে—একটি সোনালী ব্যাংকে এবং নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য ২৮ ডিসেম্বর সিটি ব্যাংকে খোলা। উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন বা পরে তার কোনো জমি, ফ্ল্যাট বা গাড়ি ছিল না।
৪. পেশা সংক্রান্ত
হলফনামায় তার পেশা হিসেবে শিক্ষকতা উল্লেখ নেই। পূর্ববর্তী পেশা ছিল সরকারের উপদেষ্টা এবং বর্তমান পেশা কনসালট্যান্সি। তিনি একটি টেক ফার্মে স্ট্র্যাটেজিক ও পলিসি পরামর্শ দিচ্ছেন, যা কোনো সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত নয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, তার আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত প্রতিটি তথ্য আয়কর রিটার্ন ও নির্বাচনী হলফনামার মাধ্যমে আইনগতভাবে যাচাইযোগ্য। অথচ এই তথ্যকে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করে অসৎ রাজনৈতিক বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। সীমিত সম্পদ ও স্বচ্ছ আয়ের ঘোষণা প্রমাণ করে, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার বা অবৈধ সম্পদ সঞ্চয়ের রাজনীতির বাইরে থেকেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, এ দেশে সত্য বলা অনেক সময় অপরাধ মনে হয়। যত বেশি স্বচ্ছতা দেখানো হয়, তত বেশি কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। বিপরীতে, যেসব রাজনীতিবিদ বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন, তাদের হলে প্রশ্ন ওঠে না।