লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার লিটন চৌধুরী নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। ইউপি ছাত্রলীগের আহবায়কসহ তিন জনের বিরুদ্ধে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রবিবার রাতে উপজেলার বামনী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক আকরাম হোসেন মিঝিসহ ৩জনের বিরুদ্ধে ঘটনার শিকার লিটন বাদী হয়ে থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ করে।
ভুক্তভোগী লিটন চৌধুরী জানান, রবিবার দুপুরে বামনী ইউনিয়নের লিটন চৌধুরী ঢাকা থেকে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এসময় তিনি বামনী ইউনিয়নের সাগরদী এলাকার কাপলাতলী বাজরে পৌছলে ছাত্রলীগ নেতা আকরামসহ কয়েকজন তাকে আটক করে। পরে তাঁকে একটি চা দোকানে নিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দিলে ইয়াবা দিয়ে পুলিশ তুলে দিবেন বলে হুমকি দেয়। একপর্যায় অপর একজন একটি সিগারেটের বক্স থেকে ইয়াবা বের করে লিটনের হাতে দিয়ে ভিটিও করার চেষ্টা করলে লিটন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।
পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতারা তাকে দৌড়ে ফের আটক করে পিটিয়ে তাঁর কাছ থেকে সাড়ে ১৬ হাজার টাকা ও একটি দামি মোবাইল নিয়ে যায়। ছাত্রলীগের নেতার তাকে এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি দিয়ে যায়। পরে তাকে স্থানীয় লোকজন এসে সেখান থেকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ী যায়।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা আকরাম হোসেন মিঝি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে লিটন আমাদের বাড়ীতে হামলা করে পালিয়ে যায়। ওই থেকে সে আর গ্রামে আসে না। ঘটনার দিন তাঁকে সামনে পেয়ে বাড়ীতে হামলার বিষয়টি জানতে চাইলে সে উত্তেজিত হয়ে উঠে। এ নিয়ে উভয়ের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়।
ছাত্রলীগের এ নেতা আরো জানান, ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো, পিটিয়ে টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনাটি মোটেও সঠিক নয়। আমার বাড়ী ও দোকানে হামলা করে এখন সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন বলেও দাবি করেছেন ওই নেতা।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পাপেল মাহমুদ বলেন, ঘটনাটি আমি মিথ্যা বলে শুনেছি। তার পরেও উভয়কে নিয়ে মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলেও বিএনপি নেতা লিটন তা না মেনে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করছে।