সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখান করেছে ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচন বাতিল করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে পুনঃনির্বাচন দাবি জানিয়েছে জোটটি।
আজ রবিবার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল। তিনি বলেন, ‘দেশের প্রায় সব আসন থেকেই একই রকম ভোট ডাকাতির খবর এসেছিল। এ পর্যন্ত আমাদের শতাধিক প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছে।’
ড. কামাল বলেন, এমতাবস্থায় আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, অবিলম্বে এই প্রহসনের নির্বাচন বাতিল করা হোক। এই নির্বাচনের কথিত ফলাফল আমরা প্রত্যাখ্যান করছি এবং সেই সঙ্গে নির্দলীয় সরকারের অধীনে পুনঃনির্বাচন দাবি করছি।’
বিকাল ৪টায় ভোট গ্রহণ শেষে রাতে বেইলি রোডে কামাল হোসেনের বাসায় বৈঠক করেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। ওই বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলন আসেন কামাল হোসেন।
দাবি না মানলে আপনারা কী করবেন- প্রশ্নের জবাবে কামাল হোসেন বলেন, ‘আগামীকাল আমরা বসে বিস্তারিত আলোচনা করে আমাদের করণীয় ঠিক করব এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বিস্তারিত দিকগুলো কাল আপনাদের জানাব।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও ঐক্যফ্রন্টে সক্রিয় জাফরুল্লাহ চৌধুরীও ছিলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা এই পুরো নির্বাচনটাকেই প্রত্যাখ্যান করছি। দিস ইজ নট অ্যান ইলেকশন, দি ইজ এ ক্রুয়েল মকারি উইথ ডেমোক্রেসি। নির্বাচন নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কী করব, তা কালকে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা জানাব।’
ফখরুল বলেন, ‘অনেকে মনে করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে না যাওয়াটা ভুল ছিল, আজকের নির্বাচন প্রমাণ করল যে, সেটা ভুল ছিল না।’
প্রসঙ্গত, রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ঢাকাসহ সারা দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একটানা ভোটগ্রহণ হয়। ভোটে বাধা দেওয়া, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং কারচুপির অভিযোগ তুলে বিএনপি-জামায়াত জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্তত ৩১ জন প্রার্থী দুপুরেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।