প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেছেন ১৮ জন প্রার্থী। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভোট কারচুপি, জালিয়াতি ও পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে ভোট বর্জন করেছেন এসব প্রার্থী।
আজ রবিবার সকাল আটটা থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার অভিযোগ ভোটার ও এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। গ্রেফতার করা হয়েছে তার দলের নেতাকর্মীদের। রিটার্নিং অফিসারকে জানালেও তিনি এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনোরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
বেলা সোয়া একটার দিকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা-১৭ আসনের জাতীয় পার্টি বিজেপির প্রার্থী আন্দালিভ রহমান পার্থ। ঢাকা-১৭ আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ৮০ টি কেন্দ্র থেকে তাঁর পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ কর্মীরা বেপরোয়াভাবে তাঁর কর্মীদের লাঠিপেটা করেছে। বনানী বিদ্যা নিকেতনে প্রকাশ্যে ব্যালটে সিল দেওয়া হয়েছে। গুলশানের অনেক কেন্দ্রে জোর করে ব্যালটে সিল দেওয়া হয়েছে। কড়াইল এলাকায় কাউকে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি।
ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-শালথা) আসনের ১২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০০টি কেন্দ্রে গতকাল শনিবার রাতেই ভোট দিয়ে দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগে সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাচন বর্জন করেছেন ওই্ আসনের বিএনপি প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ভোটের দিন সকালে আসনটির কেন্দ্রগুলোতে কেন্দ্রে বিএনপির কোনো পোলিং এজেন্টকে ঢুকতে না দেয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাগেরহাট-৩ আসনে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ ও বাগেরহাট-৪ আসনে জেলা জামায়াতের শুরা সদস্য মো. আবদুল আলীম বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে ভোট বর্জন করেন।
দুপুর ১২টায় ঢাকা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলাম ভোট জালিয়াতির অভিযোগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। নবাবগঞ্জ উপজেলার কামারখোলায় নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী আমির এজাজ খান নির্বাচন বর্জন করেছেন। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সুনীল শুভ রায়ও নির্বাচন বর্জন করেছেন। এছাড়া খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল ও খুলনা-৪ আসনের আজিজুল বারী হেলাল ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
খুলনা-৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া জামায়াতের খুলনা মহানগর আমির আবুল কালাম আজাদ ভোট বর্জন করেন। নাশকতার মামলায় খুলনায় কারাবন্দী আছেন তিনি। তাঁর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট লিয়াকত আলী ভোট বর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গাইবান্ধা-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. মাজেদুর রহমান ভোট বর্জন করেছেন।গাইবান্ধা-৪ আসনে জাতীয় পার্টির কাজী মশিউর রহমান ভোট বর্জন করেছেন।
সাতক্ষীরা-২ আসনে মুহাম্মদ আবদুল খালেক ও সাতক্ষীরা-৪ আসনে জি এম নজরুল ইসলাম নির্বাচন বর্জন করেছেন। তাঁরা দুজনেই জামায়াত নেতা, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বরিশাল-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নাগরিক ঐক্যের জে এম নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর ভোট বর্জন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নিজ কেন্দ্রে বাধার মুখে ভোট দিতে পারেননি।
দিনাজপুর-৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া জেলা জামায়াতের আমির মো. আনোয়ারুল ইসলাম ভোট বর্জন করেছেন। শরীয়তপুর-২ আসনে বিএনপির সফিকুর রহমান কিরণ ভোট বর্জন করেছেন।