ব্যক্তির নিজস্ব মতামত কিংবা জনমত প্রতিফলনের একটি গণতান্ত্রিক মাধ্যম হলো ভোট। যদিও প্রজাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায়ও এই ভোটের প্রচলন রয়েছে। কিন্তু ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আপনি কী করতে পারবেন, আর কী করতে পারবেন না; কিংবা কেউ যদি আপনার ভোট দিয়ে দেয়, তখনই বা কী করবেন? ভোটের দিনে জানা দরকার— এমন সব প্রশ্নের উত্তর জানাতেই এই প্রতিবেদন। লিখেছেন- জাহিদুল ইসলাম
আর মাত্র ৩ দিন। এরপরই বহুল প্রত্যাশিত একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। দেশব্যাপী চলা হামলা-মামলা ও সংঘর্ষের খবরে নির্বাচন নিয়ে ঢের সমালোচনা থাকলেও ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। তাদের চাওয়া— ৩০ ডিসেম্বর উৎসবমুখর পরিবেশে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ভোট দেয়া। যদিও এসব ভোটারদের অনেকেই ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের করণীয় কিংবা নিষিদ্ধ বিষয়গুলো সম্পর্কে জানেন না। আবার জানা থাকলেও পরিস্থিতির ঘোরে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যান অনেকে। চলুন দ্বিধা কাটানো যাক-
ভোট কেন্দ্রে যা নিয়ে যেতে হবে
ভোটের দিন সকালে ভোটাররা নিজের মূল্যবান ভোটটি কোনভাবেই নষ্ট বা বাতিল না হয়ে যায়; সেজন্য বেশ সতর্কতা অবলম্বন করে থাকেন। এক্ষেত্রে তারা জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ড সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। তবে নির্বাচন কমিশন বলছে- ভোট কেন্দ্রে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে আপনি চাইলে সেটি সঙ্গে রাখতে পারেন। কিন্তু আপনাকে অবশ্যই ভোটের স্লিপ নিয়ে কেন্দ্রে যেতে হবে; যেখানে ভোটারের নাম, কেন্দ্র ও একটি সিরয়াল নম্বর দেয়া থাকে।
কেন্দ্রে যা নেয়া যাবে না
নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত যেকোন ঘটনা এড়াতে প্রশাসন দায়িত্ব পালন করবে। তবে দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনারও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। ভোট কেন্দ্রে কোনোভাবেই মোবাইল ফোন, দাহ্য পদার্থ, আগ্নেয়াস্ত্র, বা ধারালো কিছু নিয়ে যেতে পারবেন না। অন্য কেউ এ ধরণের কিছু বহন করলে সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে। একান্তই যদি মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে হয়; তবে সেটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখতে হবে।
আপনার ভোট অন্য কেউ দিলে কি করবেন?
ভোট কেন্দ্রে গিয়ে যদি দেখেন কেউ আপনার ভোট দিয়ে দিয়েছে; তাহলে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। কারণ, নির্বাচন কমিশন বলছে— আপনি যদি ভোটের স্লিপ, আইডি কার্ড ও আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে আপনার পরিচয় সনাক্ত করতে পারেন; তবে অবশ্যই আপনি ভোট দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা তার সই করা ব্যালটে আপনার সীল নিয়ে সেটা নিজের কাছে রেখে দেবেন। একে বলা হয় টেন্ডার ভোট, যেটা বাক্সে ফেলা না হলেও গণনা করা হবে।
ভোট কেন্দ্রে সেলফি তুলতে পারবেন?
এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটার প্রায় আড়াই কোটি এবং নতুন ভোটার প্রায় সোয়া কোটি। এসব নতুন ভোটাররা তাদের প্রথম ভোট প্রদানের অভিজ্ঞতাকে ক্যামেরাবন্দি করে রাখতে সেলফি তোলার কথা ভেবে রেখেছেন। তবে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ভোট কেন্দ্রে কোন ধরণের সেলফি কিংবা ছবি না তোলার অনুরোধ করেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া চেক ইন না দেয়ার ব্যাপারেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
কি পোশাক পরে কেন্দ্রে যাবেন
কেমন পোশাক পরে ভোট কেন্দ্রে যাবেন? আপনার যেমন খুশি তেমন পোশাক পরেই ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন। এ ব্যাপারে কোন রকম বিধি-নিষেধ নেই। তবে কোন নারী ভোটার যদি নেকাব পরে ভোট কেন্দ্রে যান; তাহলে ভোট দেয়ার সময় তাকে পরিচয় সনাক্তের জন্য পোলিং এজেন্টকে একবারের জন্য মুখ দেখাতে হতে পারে।
শিশুকে নিয়ে যেতে পারবেন?
ভোট কেন্দ্রে শিশুদেরকে না নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে অন্ধ, অন্তঃস্বত্ত্বা নারী, প্রতিবন্ধী বা প্রবীণ ভোটাররা তাদের সঙ্গে একজন সহায়ক নিয়ে যেতে পারবেন।
এবার জানা যাক ভোট প্রদানের সাধারণ কিছু নিয়ম-কানুন—
ভোট কেন্দ্রে গিয়েই প্রথমে আপনি আপনার ভোটের স্লিপ প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে দেখাবেন। তিনি আপনার সিরিয়াল নম্বর দেখে ওই কেন্দ্রের ভোটার তালিকা থেকে আপনাকে সনাক্ত করবেন। আপনার পছন্দের প্রার্থীর এজেন্টরা বলবেন, এই ভোটারের ব্যাপারে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তখন সহকারি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আপনার জন্য একটি ব্যালট পেপার ইস্যু করবেন। পোলিং কর্মকর্তা সেই ব্যালট পেপারে আপনার সই বা আঙ্গুলের ছাপ নেবেন। এরপর তিনি আপনার আঙ্গুলে অমোচনীয় কালির চিহ্ন এঁকে দেবেন এবং সীলমোহর দেবেন। সেই সীল আর ব্যালট পেপার নিয়ে আপনি গোপন কক্ষে যাবেন। সেখানে পছন্দমত প্রতীকের উপরে সীল বসিয়ে নেবেন। এরপর এমনভাবে কাগজটা ভাঁজ করবেন যেন সীলের রঙ অন্য কোথাও না লাগে। কেননা ব্যালটে কালি ছড়িয়ে গেলে বা কিছু লিখলে ভোটটি বাতিল হয়ে যাবে। এরপর ব্যালট পেপারটি কেন্দ্রে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সামনে থাকা ব্যালট বাক্সে ফেললেই আপনার ভোট প্রদানের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হবে।
ইভিএমে কিভাবে ভোট দেবেন?
এবার দেশের ৬টি আসনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দেয়া একদমই সহজ। প্রথমে পোলিং কর্মকর্তারা ভোটের স্লিপ ও আঙ্গুলের ছাপের মাধ্যমে আপনার পরিচয় সনাক্ত করবেন। এরপর আপনাকে একটি অনুমতি পত্র দেয়া হবে। তারপর গোপন কক্ষে থাকা ইভিএমে আপনি পছন্দের প্রতীকের পাশের বাটনে ক্লিক করবেন। এরপর নিচে সবুজ রঙের কনর্ফাম বাটন চেপে আপনার ভোটটি নিশ্চিত করবেন।