ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে বৃদ্ধের আত্মহত্যা, জানা গেল আসল কারণ

১৯ এপ্রিল ২০২৫, ১০:০৩ AM , আপডেট: ২৮ জুন ২০২৫, ০৬:১৫ PM
ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেওয়ার মুহূর্ত। ইনসেটে মীর রুহুল আমিন।

ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেওয়ার মুহূর্ত। ইনসেটে মীর রুহুল আমিন। © সংগৃহীত

রাজশাহীর বাঘায উপজেলায় গত ১৪ এপ্রিল ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে রুহুল আমিন (৬০) নামে এক বৃদ্ধ আত্মহত্যা করেন। মর্মান্তিক এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিভিন্ন পোস্টে বৃদ্ধের পরিবার ও সন্তানদের অবহেলাকে দায়ী করা হয়েছে।

সেসব পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘এর মধ্যে কে ভেবেছিল সে এমন করবে। ঘটনা রাজশাহীতে। ওই বৃদ্ধের স্ত্রী ৮ মাস আগে মারা যান। এরপর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে কিছুদিন বাবাকে রাখার পর আর রাখতে চায় না ওনাকে। এ নিয়ে অনেক ঝগড়া। এমনও রাত গেছে বৃদ্ধ সারারাত উঠানে ছিল, ছেলেরা দরজা খোলেনি। মৃত্যুর দিন সকালে দুই ছেলের বৌয়ের সঙ্গে খুব ঝগড়া হয় এবং তাকে বেরিয়ে যেতে বলে, ছেলেরাও তার জিনিসপত্র উঠানে ফেলে দেয়। এরপর স্টেশনে ভোর থেকে বসে ছিলেন। কিছু খাননি। দুপুরে চলন্ত ট্রেনের সামনে শুয়ে পড়েন।’

তবে বিষয়টি নজরে পড়েছে ফ্যাক্টচেক বা তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারের। শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে ঘটনার নেপথ্য কারণ অনুসন্ধান করে সন্তানদের কারণে বৃদ্ধ আত্মহত্যা করেননি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

রিউমর স্ক্যানার টিম অনুসন্ধান করে বলেছে, ‘আলোচিত ভিডিওতে স্ত্রীর মৃত্যুর পর দুই ছেলে ও দুই মেয়ের অত্যাচারে আত্মহত্যা করেননি বৃদ্ধ এবং তার স্ত্রীও মৃত নন। বরং তার দুটি সন্তান, এক ছেলে ও এক মেয়ে এবং তার স্ত্রী বেঁচে আছেন। প্রচারিত গল্পটি গুজব।’

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গত ১৬ এপ্রিল ‘রাজশাহীতে পেঁয়াজচাষির আত্মহত্যা নেটিজেনরা ‘ধুয়ে দিচ্ছে’ পরিবারকে, বাস্তবতা ভিন্ন’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মীর রুহুল আমিনের বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মাঝপাড়া বাউসা গ্রামে। বাড়িতে গিয়ে জানা যায় তার স্ত্রী মরিয়ম বেঁচে আছেন। ফেসবুকে নিজের মারা যাওয়ার খবর দেখে তিনি হতভম্ব।

ফেসবুকে বলা হচ্ছে, তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে কিন্তু বাস্তবে তাদের দুটি সন্তান, এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের ২০ থেকে ২২ বছর আগে বিয়ে হয়েছে, শ্বশুরবাড়ি ঈশ্বরদীতে। ছেলে ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে স্বল্প বেতনের চাকরি করেন, থাকেন সেখানেই। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মীর রুহুল আমিনের খুবই ভালো সম্পর্ক।

মূলত স্থানীয় তিনটি বেসরকারি সংস্থা থেকে যথাক্রমে ৫০ হাজার, ৬৪ হাজার ও ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন মীর রুহুল আমিন। প্রতি সপ্তাহে তাকে ৪ হাজার ৪৫০ টাকা কিস্তি দিতে হতো। এখনো ৯৯ হাজার ২৯০ টাকা ঋণ অবশিষ্ট রয়েছে। মীর রুহুল আমিনের ভাতিজা মীর মোফাক্কর হোসেন জানান ঋণ শোধ করার দুশ্চিন্তায় তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন বলে তার ধারণা।

একই বিষয়ে দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

সুতরাং আলোচিত ভিডিওতে স্ত্রীর মৃত্যুর পর দুই ছেলে ও দুই মেয়ের অত্যাচারে আত্মহত্যার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এর আগে গত সোমবার (১৪ এপ্রিল) রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী রেলস্টেশনে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। যার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এরপর থেকেই উৎসুক মানুষ ভিডিওটি শেয়ার করে নিজেদের মতো মতামত তুলে ধরছেন।

১৪ সালে সাজানো নির্বাচন ছিলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের স…
  • ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষ ভারত
  • ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেবে না ইরান
  • ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
রাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু কাল, বেশি প্রতিযোগী ‘সি’ ইউনিটে
  • ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
‘চাঁদাবাজ ডটকম’ ওয়েবসাইট চালু করার ঘোষণা দিলেন এনসিপি নেতা …
  • ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
৫০ বছর অপেক্ষার পর আফকন ফাইনালে মরক্কো, প্রতিপক্ষ সেনেগাল
  • ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9