ইতালি যেমন বিশ্ববিখ্যাত শিল্পীদের জন্মভূমি, তেমনই দেশটি শিল্পকর্ম চোরদেরও অন্যতম। ১৯৬৯ সালে দেশটি চোরদের রুখতে ও চুরি হওয়া শিল্পকর্ম উদ্ধারে প্রতিষ্ঠা করে কমান্ড ফর দ্য প্রটেকশন অব কালচারাল হেরিটেজ। সংস্থাটি কারবিনিয়েরি নামে পরিচিত। এর ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশটি এক সেট ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত ডাকটিকিটে দেখা যাবে ভ্যান গখ, মান্টেগনা, রাফায়েলের চিত্রকর্ম।
ডাকটিকিটগুলো একটি ফোলিওতে বসানো, ব্যাকগ্রাউন্ডে মাইকেলেঞ্জেলো মিরিসি বা কারাভাজ্জিওর আঁকা সেন্ট ফ্রান্সিস, সেন্ট লরেন্সসহ যিশুর জন্মের দৃশ্য। মিরিসির এ কাজটিকে চুরি যাওয়া শিল্পকর্মের হোলি গ্রেইল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যা এফবিআইয়ের সন্ধানে থাকা শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে শীর্ষ দশে। ১৯৬৯ সালে পালেরমোর এল’ওরাতোরিও ডি সান লোরেঞ্জো গির্জা থেকে চুরি যাওয়ার পর থেকে মিরিসির কাজটি দুনিয়ায় আর কোথাও দেখা যায়নি।
কারবিনিয়েরি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩০ লাখের বেশি চুরি যাওয়া শিল্প ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উদ্ধার করেছে। তবে নতুন প্রকাশিত ডাকটিকিটগুলোর মাধ্যমে যে বার্তা হয়েছে, তাহলো এখনো হারিয়ে যাওয়া ১০ লাখের বেশি শিল্পকর্ম উদ্ধার করা যায়নি।
চুরি যাওয়া শিল্পকর্ম অবৈধভাবে বিক্রি করা হয়, নানা হাত ঘুরে তা কোনো ধনীর প্রাসাদতুল্য বাড়ি বা জাদুঘরে ঠাঁই পায়। এমনও হয়েছে চুরি যাওয়া শিল্পকর্ম ৩০ বছর পর মালিক তা খুঁজে পেয়েছেন। এবং সেই মালিক কল্পনাও করতে পারেন না যে, তিনি যেটা কিনছেন তা আসলে চুরি হয়েছিল বা সেটা চোরাই মাল!
১৯৬৯ সালের ১৮ অক্টোবর দ্য নাটিভিটি হারিয়ে যায়, কারবিনিয়েরি প্রতিষ্ঠার ছয় মাসের মাথায়। এরপর থেকেই শিল্পবোদ্ধাদের মনে এর পরিণতি নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা আজ পর্যন্ত অব্যাহত আছে—কেউ মনে করেন ইঁদুর খেয়ে ফেলেছে আবার অনেকে বলেন সিসিলির এক মাফিয়া বস টোটো রিনা চিত্রকর্মটি তার ঘরে সাজিয়ে রেখেছিলেন।
গত বছরের জুনে দ্য নাটিভিটি শিল্পকর্ম নিয়ে আশার আলো দেখা যায়। তদন্তকারীদের ভাবনা ছিল এটি সুইজারল্যান্ডে পাওয়া যাবে। নতুন এ সূত্রটি পাওয়া যায় এক সাবেক গ্যাংস্টারের কাছে। সে জানায়, একসময় এটি হেরোইন পাচার ব্যবসায় যুক্ত এক মাফিয়া বস গিতানো’র কাছে ছিল। এখনো তা উদ্ধার হয়নি। এটা উদ্ধার করতে কারবিনিয়েরিরা বেশ আশাবাদী এবং এটা তাদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ধারণা করা হয়, চুরি হওয়া আরেকটি মাস্টারপিস সুইজারল্যান্ডে আছে। আনতোনেল্লো ডা মেসিনা’র একে হোমো এটি ১৯৭৪ সালে একটি জাদুঘর থেকে গায়েব হয়।
অনেক সময় চুরি যাওয়া শিল্পকর্ম ধ্বংস হয়ে যায়। তদন্তকারীরা বিশ্বাস করেন গুস্তাভ ক্লিমটের পোর্ট্রেট অব আ উইম্যান ধ্বংস হয়ে গেছে। চিত্রকর্মটি ১৯৯৭ সালে চুরি যায়। ধ্বংস হয়ে যাওয়া ছবিটি উদ্ধারের পর এর ফ্রেমের ডিএনএর নমুনা পরীক্ষা করে ধারণা করেন এটি শয়তানের উপাসনা করা দলের হাতে পড়েছিল এবং তারা চিত্রকর্মটি একটি মৃত মেয়ের কফিনের ভেতরে রেখেছিল।
গত মার্চ মাসে চোরেরা ইতালির সান্তা মারিয়া মাডালেনা চার্চের ডিসপ্লের কাচ ভেঙে ফ্লেমিশ শিল্পী পিটার ব্রঘেলের দ্য ক্রুসিফিকশন নিয়ে গেছে। এর মূল্য ৩ মিলিয়ন লিরা। তবে পরে জানা যায় চোরের যেটা নিয়েছে, সেটা আসলে কপি এবং মূল ছবিটি অন্যত্র নিরাপদে রাখা আছে।