নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯-এ দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ। এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও ৪৮ জন। এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন নিশ্চিত করেছেন, বন্দুকধারী একজনের নাম ব্রেন্টন ট্যারেন্ট (২৮)। তিনি জন্মসূত্রে অস্ট্রলিয়ার নাগরিক। এই ঘটনায় পুলিশ হামলাকারী ট্যারেন্টসহ চারজনকে আটক করেছে। আটকদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। তবে তারা কেউ পুলিশের সন্ত্রাসী তালিকায় ছিল না। খবর গার্ডিয়ানের।
নিউজিল্যান্ডের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, হামলার আগেই ব্রেন্টন ট্যারেন্ট হুঁশিয়ারি জানিয়ে ৭৩ পৃষ্ঠার লিফলেট বিলিয়েছিলেন। মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষের কারণে এই হামলা চালানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলায় জড়িত থাকা অস্ত্রধারী কেউ এখনো শহরে রয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। ক্রাইস্টচার্চ শহরের বাসিন্দাদের বলা হয়েছে ঘরের বাইরে না বেরুবার জন্য। এছাড়া, মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের হেরাল্ড পত্রিকা জানিয়েছে, ক্রাইস্টচার্চের তৃতীয় একটি স্থানেও গোলাগুলি ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরক থাকার সন্দেহে শহরটির হাসপাতালে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ এ ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনা সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলার জন্য পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, এটি হৃদয়বিদারক ঘটনা, অনেক লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়েছে।
এদিকে, সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় পুরো নিউজিল্যান্ডে উচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এরইমধ্যে অকল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ট্রেন স্টেশন থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। ডানেডিনে সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতি ছিল সন্ত্রাসীদের এমন সংবাদের ভিত্তিতে শহরটিও ঘিরে ফেলেছে পুলিশ। এছাড়া, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ক্রইস্টচার্চে সকল বিমান উড্ডয়ন।
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে বন্দুকধারীদের হামলার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট এক টুইট বার্তায় বলেন, ক্রাইস্টচার্চে এই ভয়াবহ ঘটনায় নিউজিল্যান্ডের জনগণের সঙ্গে আমরা সমবেদনা প্রকাশ করছি। নিউজিল্যান্ড বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপ্রিয় ও উদার দেশগুলোর একটি। যুক্তরাজ্যে আপনাদের বন্ধুরা গভীর সমবেদনায় আপনাদের পাশে আছে।
গণমাধ্যমের খবরে পাওয়া যায়, এই ঘটনার সময় একটি মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবালসহ বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। তবে বন্দুকধারীর গুলিতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটলেও নিরাপদে রয়েছেন ক্রিকেটাররা । ঘটনার পরপরই টুইটে তামিম জানিয়েছেন, তারা বেঁচে গেছেন। আরেক ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমও একই কথা জানান।
সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের চলমান টেস্ট সিরিজ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে, নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সুফিউর রহমান জানিয়েছেন, ‘ হামলায় এখন পর্যন্ত দুই জন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর জানা গেছে। তবে তাদের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।’
এর আগে, শুক্রবার দুপুরের দিকে জুম্মার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি পার্কের মসজিদ আল নূর ও শহরতলী লিনউডের মসজিদে হামলা চালায় একাধিক বন্দুকধারী। আল নূর মসজিদে প্রায় তিন শ মুসল্লি নামাজ পড়তে সমেবত হয়েছিল।
অনলাইনে হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে এক হামলাকরী। ভিডিওটিতে সে দাবি করে, এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা। হামলাকারী গুলি চালানোর সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা প্রচার করেছে। তবে এই ভিডিওটি সাধারণ মানুষদের দেখতে নিষেধ করেছেন মনোবিদরা। ফেসবুকও ভিডিওটি রিমুভ করতে চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে।
এই ঘটনায় পুরো ক্রাইস্টচার্চে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। পুরো শহর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্ডন এক সংবাদ সম্মেলনে এই দিনকে নিউজিল্যান্ডের অন্যতম কালো দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।