দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তায়কোয়ান্দো ছড়িয়ে দিতে হবে 

২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৬ PM
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তায়কোয়ান্দো ছড়িয়ে দিতে হবে 

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তায়কোয়ান্দো ছড়িয়ে দিতে হবে  © সংগৃহীত

জমকালো আয়োজনে শুরু হয়েছে ফেডারেশন কাপ তায়কোয়ান্দো-২০২৬। গতকাল (২৭ আগস্ট) বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খাঁন। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা, অ্যাডহক কমিটির সদস্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ও সময়ের আলো পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক শায়রুল কবির খান, সদস্য মাসুম কবির, মুসলিম মিয়াসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এবারের আসরে ১৭টি জেলা এবং চার বাহিনীর প্রায় সাড়ে ৪ শতাধিক প্রতিযোগী (ছেলে-মেয়ে) অংশ নিচ্ছে।

ফেডারেশন কাপের মধ্য দিয়ে প্রায় দুই বছর অন্ধকারে থাকা দেশের জনপ্রিয় খেলা আবার প্রাণ ফিরে পেল বলে জানিয়েছে আয়োজকরা। বর্তমান অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের মাস খানেকের মধ্যে সারা দেশের তায়কোয়ান্দোকাদের নিয়ে আয়োজন করল এ মেগা ইভেন্ট। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের যে জিমন্যাস্টিকস হল এতদিন ছিল ধুলাবালি, ইট-সুরকির আস্তরণ, ময়লার স্তূপে ঢাকা- একেবারে দমবন্ধ করা পরিবেশ। সেখানে গতকাল ছিল একেবারে আলোক সজ্জায় সজ্জিত, উজ্জ্বল ম্যাটে সিনিয়র-জুনিয়র বিভাগের ছেলে-মেয়েরা অংশ নিয়েছেন প্রতিযোগিতায়। নিজেদের প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে সেরাদের কাতারে শামিল করেছেন নিজেদের। 

দুদিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতার সমাপনী আগামী অনুষ্ঠিত হবে ৩০ আগস্ট। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

অলিম্পিকের তালিকাভুক্ত খেলা তায়কোয়ান্দোকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও জনপ্রিয় করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খাঁন (যুগ্ম সচিব)। আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জিমন্যাশিয়ামে শুরু হওয়া ৫ম ফেডারেশন কাপ তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করতে এসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এই খেলার প্রসার ঘটলে একদিকে যেমন নতুন খেলোয়াড় তৈরি হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা আত্মরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণও পাবে। 

প্রধান অতিথি আরও বলেন, খেলাটিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতি আমাদের আগ্রহ রয়েছে। এতে খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মরক্ষার সক্ষমতা তৈরি হবে, যা দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নির্বাহী পরিচালক মো. দৌতুজ্জামান খাঁন আরও বলেন, তায়কোয়ান্দো অলিম্পিকের তালিকাভুক্ত একটি খেলা। এই খেলাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যারা এই খেলায় অভিজ্ঞ, তাদের জন্য বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি হয়। শুধু খেলোয়াড় তৈরি নয়, তায়কোয়ান্দোকে ভবিষ্যতে পেশা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তার মতে, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণের মাধ্যমে উপার্জনের সুযোগের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও আন্তর্জাতিক পরিচিতিও অর্জন করা সম্ভব। সরকারের খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগের সঙ্গে তাইকোয়ান্দোর উন্নয়নকে যুক্ত করে দেখতে চান তিনি।

দেশে তায়কোয়ান্দোর অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন এই কর্মকর্তা। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ছোট পরিসর থেকেও বড় ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ছোট জায়গায় কিন্তু পরিকল্পিতভাবে যদি আমরা কাজ করতে পারি, এই জায়গাতে অনেক কাজ করতে পারবো। আমরা যখন ছোট ছিলাম, এই জায়গায় অনেক খেলাধুলা হতো।

তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সদস্য, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন মিডিয়ার প্রচারের আলোয় এলে এই খেলাটির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে এবং তায়কোয়ান্দো আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে। তার প্রত্যাশা, সমন্বিত উদ্যোগ ও পরিকল্পিত কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশে তায়কোয়ান্দোর একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হবে। খেলাধুলার পাশাপাশি আত্মরক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোই হতে পারে এই খেলার বিস্তারের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র।

আয়োজন সম্পর্কে সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা বলেন, ছেলে-মেয়েরা অনেকদিন খেলার বাইরে ছিল। ফেডারেশন কাপ তাদের জন্য বিরাট এক সুযোগ। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রতিভার বিকাশের সুযোগ পাবে। আর আমরা খুঁজে পাবো জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেয়ার মতো খেলোয়াড়। ফেডারেশন কাপ থেকে জাতীয় পর্যায়ে যারা ভালো করবে, তারাই সামনে এসএ গেমসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সুযোগ পাবে।

মাহমুদুল ইসলাম রানা আরও বলেন, প্রতিযোগিতা আয়োজনে আমরা কোনো খামতি রাখব না। আমরা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক চলমান রাখব। সরকারের রেডম্যাপ মেনেই আমরা কাজ চালিয়ে যাবো। সরকারের চাওয়া দেশের জন্য পদক নিয়ে আসা। সরকার যদি আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করে বিশেষ করে ঘোষিত সিড মানির ৫০ কোটি টাকা যদি ফেডারেশনকে বরাদ্দ দেয়, আমি ঘোষণা করছি আগামী ১০ বছরের মধ্যে আমরা অলিম্পিক থেকে মেডেল নিয়ে আসব।

ডুবন্ত শিশুকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দুই জমজ বোনের, মারা গেলেন …
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
‘রংপুরে চার খুনের আলামত ধুয়েমুছে ফেলা হয়নি’
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
নদীতে গোসলে নেমে একসঙ্গে প্রাণ গেল ৫ শিশুর
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তায়কোয়ান্দো ছড়িয়ে দিতে হবে 
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
ম্যাচের কাঠি আর রেশমি সুতার সুনিপুণ বুননে রূপ নিচ্ছেন দেবী …
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
ডিবি পরিচয়ে টাকা দাবি, সন্তানের নকল কণ্ঠে বিশ্বাসযোগ্যতা—ঢা…
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬