করোনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রী এখন ফুচকাওয়ালা

২৩ জুন ২০২১, ১১:২৮ AM
করোনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রী এখন ফুচকাওয়ালা

করোনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রী এখন ফুচকাওয়ালা © সংগৃহীত

ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া জ্যোতি সাহা স্বপ্ন দেখছিলেন নামী কোন সংস্থায় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারের পদে চাকরি করার। তার ভাইও একজন ইঞ্জিনিয়ার। পড়াশোনার পাশাপাশি এখন তিনি এক ‘ফুচকওয়ালা’ও বটে। ইঞ্জিনিয়ার দাদার সঙ্গে ফুচকা বিক্রিতে সামিল তিনি। স্বপ্ন লক্ষ্যপূরণের। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল দাদা-বোনের এই কাহিনী। তাঁদের জীবনের গল্প ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ঘটনাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার খড়দহে।

করোনার কারনে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বিশ্বে বহু মানুষ। আর যারা চাকরী করতেন তাদের মধ্যে অনেকের বেতনও হয়ে গিয়েছে অর্ধেক। এই অবস্থায় দেবজ্যোতির বেতনও কমে যাওয়ায় চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়ে পরিবার। সেই সময়ই বাড়িতে একদিন ফুচকা খেতে খেতে মাথায় বুদ্ধি আসে তাঁদের। দাদা-বোন মিলে ফুচকার দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নেন।

করোনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রী এখন ফুচকাওয়ালা
করোনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রী এখন ফুচকাওয়ালা

জ্যোতি সাহা বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া প্রথম লকডাউনে কোম্পানি দাদার মাইনে কমিয়ে অর্ধেক করে। এদিকে বাবার মুদিখানার দোকানও সেভাবে চলছে না। পয়সার অভাবে তাঁর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়া বন্ধ হতে চলেছে। এমন সময় দাদা দেবজ্যোতি সাহার মাথায় প্রথম আসে ফুচকার কথা। দাদার প্রস্তাবে তিনিও রাজি। তবে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়া করে ফুচকা বিক্রি করবে! ছেলে মেয়ের মুখে এমন কথা শোনার পর কার্যত বাজ পড়েছিল সাহা বাড়িতে। মা বাবা পত্রপাঠ প্রস্তাব নাকচ করেন। শুধু নাকচই নয় রীতিমত বকুনি খেতে হয়েছিল ভাইবোনকে। কিন্তু তাঁরা নাছোড়বান্দা। মা রাজি হলেও বাবাকে রাজি করাতে প্রায় এক সপ্তাহ লেগেছিল বলে জানান জ্যোতি।

ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টের ফুচকা বিক্রিটা ভালোভাবে না দেখাই স্বাভাবিক। জ্যোতির্ময়ীর কথায়, আমরা বাধ্য হয়েছিলাম সে সময় ফুচকা বিক্রি করতে। অন্য ব্যবসা করতে গেলে অনেক পুঁজির প্রয়োজন। আমাদের বাড়িতে তখন খারাপ অবস্থা। ফুচকা বিক্রিটাই দেখলাম সবথেকে সহজ রাস্তা। তাই বাবার মুদিখানা দোকানেই শুরু করলাম কাজটা। পড়াশোনার সঙ্গে এই কাজ সামলাচ্ছেন কীভাবে এমন প্রশ্নের জবাবে জ্যোতি বলেন, আসলে আমার দাদার সাহায্য ছাড়া এত কিছু কখনোই সম্ভব ছিলো না। এমনও হয়েছে একটা মেলায় আমরা স্টল দিয়েছি। সেদিনই আমার পরীক্ষা। দাদা দোকান সামলাচ্ছে আর আমি অনলাইনে বি-টেকের থার্ড সেমিস্টারের পরীক্ষা দিচ্ছি দোকানে বসেই। 

জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে: রাকিব
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
ফোন না ধরায় শিক্ষিকাকে চড়-থাপ্পড়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বর…
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
এক বছরের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট কাটবে,…
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
সাবেক ছাত্রদল নেতাকে মারধর করা সেই ইউএনওকে বদলি
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
ছাত্রদলে পদপ্রাপ্তদের ‘সাবেক সারথী’ দাবি, অভিনন্দন জানালেন …
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
এবার শাহবাগে বসল স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬