দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জনসংযোগ: একটি রূপরেখা

০২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩১ AM
মো. বাবুল হোসেন

মো. বাবুল হোসেন © টিডিসি ফটো

যেকোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে ব্যবসা ও সেবার জন্য। ব্যবসা ও সেবার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান লাভবান হওয়ার পাশাপাশি সুনামও অর্জন করে থাকে। প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ জনগণও আর্থিক লাভের সাথে সেবা পেয়ে থাকে। উভয় পক্ষই উইন উইন অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। ব্যবসা বা সেবা প্রতিষ্ঠানটি মসৃণ ও সুচারুরূপে পরিচালিত হলেই ভালো ব্যবসা হওয়া সম্ভব এবং সেই সাথে আপামর মানুষের আস্থা অর্জন করা যায়। প্রতিষ্ঠানের সেই আস্থা অর্জনের কাজটি করে থাকে জনসংযোগ। দেশ, জাতি এবং বিশ্বের কাছে ভালো ইমেজ বিল্ডিংয়ের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি সাধিত হয়।

জনসংযোগ-প্রতিষ্ঠান, সংগঠন এবং ব্যক্তির ব্র্যান্ডিং করার জন্যও প্রতিষ্ঠা করা হয়। জনসংযোগের কাজই হলো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক (পজিটিভ) কাজগুলো গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাতিকে জানানো। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানই সবসময় সুন্দরভাবে পরিচালিত হতে পারে না। প্রতিষ্ঠান সেটা চাইলেও সম্ভব হয়ে উঠে না। কিছু ঘটনা প্রতিষ্ঠানের শত সতর্কতার ফলেও দুর্ঘটনা (ডিজাস্টার) ঘটে যেতে পারে। এসব ঘটনায় কারো হাত থাকেনা।

প্রকৃতিগতভাবে অনেককিছুই ঘটতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া যেকোনো দুর্যোগ বা সংকটকে মোকাবিলার জন্য একজন জনসংযোগ কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। কারণ জনসংযোগ কর্মকর্তার উপরই প্রতিষ্ঠানের সুনাম অনেকাংশে নির্ভর করে। সবসময় তাঁকে চোখ-কান খোলা রেখে সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জনসংযোগ কর্মকর্তা যা করতে পারেন: যাই ঘটুক না কেন, সত্য ঘটনা মিডিয়াতে উপস্থাপন করতে হবে, মিডিয়া যাতে জনসংযোগ দপ্তর বা জনসংযোগ কর্মকর্তা থেকে সত্য তথ্যটি পায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তথ্য গণমাধ্যমে গেলে তথ্যের বিকৃতি ঘটতে পারে। মিডিয়াতে তথ্য সরবরাহের জন্য পিআরও কে একটা প্রস্তুতিও নিতে হবে। আত্মবিশ্বাসের সাথে মিডিয়াকে হ্যান্ডেল করতে হবে। জনসংযোগ বিভাগের একজন ব্যক্তিকে ফোকাল পারসন হিসেবে ঠিক করতে হবে। যত তথ্য মিডিয়াতে যাবে, সেই ফোকাল পারসনের মাধ্যমেই যাবে। জনসংযোগ অফিস থেকে মিডিয়াতে একটি নাম্বার সরবরাহ করতে হবে যোগাযোগের জন্য। নাম্বারটি অবশ্যই ২৪ ঘণ্টাই খোলা রাখতে হবে। প্রতি ১ ঘণ্টা পরপর মিডিয়াতে আপডেট দিতে হবে। 

তথ্য নিয়ে কখনো লুকোচুরি করা যাবেনা৷ প্রতিষ্ঠানের কোনো অজানা ভুল থাকলে, সেটা স্বীকার করতে হবে এবং দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। আবেগ বা সহনশীলতা হবে অবশ্যই মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে। ভোক্তারা যাতে বুঝতে পারে যে, আমাদের দুঃখের সাথে সাথে প্রতিষ্ঠানও মর্মাহত হয়েছে। ভোক্তাকে বোঝাতে হবে যে, আপনার দুঃখ আর আমার দুঃখ আলাদা কিছুনা। ব্যক্তির সাথে ইমপেথি প্রকাশ করতে হবে। ইমপেথি বা সহানুভূতি হলো অন্যের দুঃখ, কষ্ট, আবেগ বা অনুভূতিকে নিজের মতো করে অনুভব করার এবং বোঝার মানসিক ক্ষমতা। সহজ কথায়, অন্যের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করে তার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দুনিয়াকে দেখা।

একজন পিআরও কে সর্বোচ্চ কৌশলী হতে হবে। প্রতিষ্ঠানের দুর্যোগের সময়ে যতটা সম্ভব প্রতিষ্ঠানের পজিটিভ দিকগুলোও উপস্থাপন করতে হবে। 

যেমন কোনো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের আন্দোলনের কারণে কিছু বিভাগে ক্লাস পরীক্ষা নাও হতে পারে। হতে পারে সেটা ২৫টি বিভাগের মধ্যে ৫টি বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে কোনোভাবেই যাতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেছে, এ তথ্যটা যাতে মিডিয়াতে না আসে, সেদিকটা একজন জনসংযোগ কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। এখানে যে ২০টি বিভাগের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম সুন্দরভাবে চলছে, সেটা অবশ্যই মিডিয়ার মাধ্যমে জাতিকে জানান দিতে হবে। তা নাহলে প্রতিষ্ঠানের ডিজাস্টার সত্যি সত্যি ঘটবে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য। 

প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মিডিয়াতে ভুল কিছু আসলেও প্রতিবাদের ভাষা হবে মার্জিত, শ্রুতিমধুর, নিয়মমাফিক ও যুক্তিসংগত। মিডিয়াকে কন্ট্রোল না করে হ্যান্ডেল বা ম্যানেজমেন্ট (ব্যবস্থাপনা) করতে হবে। দুর্যোগের সময়ে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সক্রিয় থাকতে হবে। কারণ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী। বলতে গেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন অনেক ক্ষেত্রে মূলধারার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্ট্রাটেজিক কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক আবু সাদাত মো. মোস্তানসিরবিল্লাহ বলেন, কোনো ক্রাইসিস ঘটে গেলে মিডিয়াকে সত্য ঘটনা তুলে ধরতে হবে। অনিচ্ছাকৃত ভুলগুলো স্বীকার করে নিতে হবে। যা ঘটছে, সেগুলো গোপন করা যাবে না। মিডিয়ার কাছে সৎ (অনেস্ট) থাকতে হবে। অসত্য তথ্য কখনোই দেওয়া যাবেনা। সত্য তথ্য প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মিডিয়াতে আস্থা বাড়বে। সেইসাথে প্রতিষ্ঠানের নেওয়া পদক্ষেপগুলোও মিডিয়াকে জানাতে হবে।

ক্রাইসিসে দ্রুত রেসপন্স করতে হবে। পিআর কে কখনোই মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া যাবে। একটা মিথ্যা থেকে অনেক ডালপালা গজাবে, সেটা সামাল দেওয়া প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে উঠবে। পরিশেষে বলতে হয়, যেকোনো বিষয়ে সত্যের আশ্রয় নিতে হবে। সত্যের মধ্যে সকল সমাধান নিহিত আছে। সত্যই টিকে থাকে স্বমহিমায়।

লেখক: উপপরিচালক (জনসংযোগ), পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শিল্প, নাসা ও নৌবাহিনীতে আলো ছড়াচ্…
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬
এলজিইডির সড়ক বন্ধ করে বিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে রাস্তা, আতঙ্কে শ…
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬
কুয়েটের গবেষণায় বর্জ্য থেকে মিলছে জ্বালানি তেল
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬
ধৈর্যের সীমা পেরোলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে: রুমিন ফারহানা…
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬
মাদ্রাসায় হাজিরা দিয়েই চলে যাওয়ার অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে,…
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬
স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সার সচেতনতায় ইবি শিক্ষার্থীদের ক্যা…
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬