মৃত্যু নিয়েও মানুষের উপহাস, ধিক্কার দিতে ইচ্ছে করে নিজেদের

২৮ জুলাই ২০১৯, ১০:৩২ AM

© সংগৃহীত

রোগীকে আপন করে নেয়ার অসম্ভব এক যাদু ছিলো ডা. তানিয়া সুলতানার। রোগীদের কাছে ছিলেন দেবদূতের মতো। ঢাকা মেডিকেলের ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দায়িত্বে ছিলেন তিনি। কিন্তু স্রষ্টার অমোঘ নিয়মে সর্বনাশা ডেঙ্গুর কারনেই পারি জমিয়েছেন পরপারে। মাত্র ২৮ বছর বয়সের এ নারী চিকিৎসকের সাড়ে তিন বছরের পুত্র সন্তান এখনও জানে না বাকিটা জীবন তাকে অনাথ, মায়ের আদর-ভালবাসা বঞ্চিত হয়েই কাটাতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে লোভনীয় সাবজেক্ট ফিন্যান্সের শিক্ষার্থী স্বাধীন। দরিদ্র বাবা-মায়ের অযুত স্বপ্ন সন্তানকে নিয়ে। সদ্য বিবিএ শেষ করা স্বাধীনও বাবা-মাকে শুনিয়েছিলো এইতো আর কটা দিন, এরপর আর কোনও ক্লেশ থাকবেনা। ঘুচবে দারিদ্র্য। ভাইবোন আর বাবা-মায়ের মুখে এক চিলতে হাসি ফুটাতে প্রচেষ্টার কমতি ছিলনা স্বাধীনের।

কিন্তু কে জানতো, সৃষ্টিকর্তা যে চিত্রনাট্য উল্টাে করে লিখে রাখবেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে স্কয়ার হাসপাতাল থেকেই স্রষ্টার কাছে চলে গিয়েছেন তিনি। দারিদ্রতা ঘোচাতে পারেননি, উল্টাে স্কয়ারের এক লাখ ৬৬ হাজার টাকার বিল গুনতে হচ্ছে বাবা-মাকে।

এমন শত শত বেদনাবিধুর গল্প তৈরি হচ্ছে প্রতিদিন। সর্বগ্রাসী ডেঙ্গু কেড়ে নিচ্ছে মানুষের স্বপ্ন-আহ্লাদ-জীবন। হাসপাতাল্ওে ঠাই মিলছেনা। মা হারানো শিশু, সন্তান হারানো বাবা-মায়ের বিলাপ আল্লাহর মসনদ হয়তো কাপবে, কিন্তু এ মৃত্যু নিয়েও কিছু মানুষের উপহাস জাতি হিসেবে ধিক্কার দিতে ইচ্ছে করছে নিজেদের।

স্রষ্টার অনেক চিত্রনাট্যের খবর হয়তো আমাদের কানে আসেনা। রাজধানীর দারিদ্রতার সীমা অতিক্রম করা ২০ ভাগ মানুষেরও জীবন আছে। এসব পরিবারের সদস্যরাও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়। বস্তিবাসীরা হয়তো কখনো জানতেই পারেনা তারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলো। মৃত্যুকে এরা স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিয়েছে।

রাস্তার ধারে শুয়ে থাকা সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, লাখ লাখ বস্তিবাসীরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেও আমরা জানিনা। এদের জীবন সংগ্রামের গল্পগুলোও কখনো পত্রিকার পাতায় আসবেনা। সামাজিক যোগােযাগমাধ্যমেও ঝড় তুলবেনা। এই সংখ্যাটা হয়েতা সরকারের কোনও সংস্থার তালিকায়ও যুক্ত হবে না।

মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমস্যা সমাধানের উপায় খুজঁছে। কারো রক্তের প্রয়োজনে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে সবাই। নিজের আপনজনদের মতোই ব্যাথা অনুভব করছে কারো অসুস্থতা বা মৃত্যুতে..

এটাই মানবিক বাংলাদেশ...

তবে আর একটু করতে হবে..

ডেঙ্গু নিয়ে সিটি করপোরেশেনর দায় অনেক। ভূমিকাও ন্যাক্কারজনক। বেহায়াকে গালি দিলেও মান যায়না। কিন্তু আমাদেরতো বাঁচতে হবে। করপোরেশনের ভূমিকার প্রতিবাদে প্রতিটি নাগরিকদের যেমন মাঠে নামতে হবে, ঠিক তেমনি সমানভাবে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।

রাজধানীর আড়াই কোটি মানুষ যদি একসঙ্গে মশা নিধনে হাত লাগাই তবে এক ঘন্টায়ই চিত্র পাল্টে যাবে। জাস্ট একটা ঘন্টা। নিজেদের অস্তিত্বের জন্যই আমাদের কাজ করতে হবে। আগামীর প্রজন্মের নিরাপদ ভবিষ্যত, বাসেযাগ্য নগরী, সুস্থ জীবনের জন্যই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

শিল্পকলা একাডেমিতে ইউএপি ড্রামা ক্লাবের ‘পোস্টমর্টেম’ নাটকে…
  • ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
অফিসার নিয়োগ দেবে অলিম্পিক, আবেদন শেষ ৩১ জানুয়ারি
  • ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালে কী করবেন ক্রিকেটাররা?
  • ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জানুয়ারির বেতন নিয়ে মাউশির জর…
  • ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
দেশের উচ্চশিক্ষা পদ্ধতির ভবিষ্যৎ নিয়ে জরিপ করছে জাতীয় বিশ্ব…
  • ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ, নেপথ্যে যা যা ঘটল
  • ২৫ জানুয়ারি ২০২৬